শুক্রবার ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১ ১৩ ফাল্গুন ১৪২৭

শিরোনাম: আবার বাড়ছে গ্যাসের দাম!    'খেতাব কেড়ে নিয়ে জিয়াউর রহমানকে কেউ খাটো করতে পারবে না'    জনসনের করোনা ভ্যাকসিন এক ডোজই যথেষ্ট    রোহিঙ্গাদের নিয়ে বিবিসির রিপোর্ট সঠিক নয়: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়    দেশে করোনা টিকা নিয়েছেন সাড়ে ২৮ লাখ মানুষ    ২৬ মার্চ থেকে ঢাকা-জলপাইগুড়ি ট্রেন চলাচল শুরু    শাহবাগে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, আটক ১০   
কোন পথে নরসিংদী সদর পৌরসভা নির্বাচন? (পর্ব-০২)
ব্যর্থ কামরুলের শিষ্য বাচ্চুকে ছাড় দেয়া হচ্ছে না, ফেঁসে যাচ্ছেন হুমায়ূন-পোটন!
উৎপল দাস
প্রকাশ: শনিবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০২১, ১:১৭ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

ব্যর্থ কামরুলের শিষ্য বাচ্চুকে ছাড় দেয়া হচ্ছে না, ফেঁসে যাচ্ছেন হুমায়ূন-পোটন!

ব্যর্থ কামরুলের শিষ্য বাচ্চুকে ছাড় দেয়া হচ্ছে না, ফেঁসে যাচ্ছেন হুমায়ূন-পোটন!

ইতিহাস ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ এক জেলার নাম নরসিংদী। রাজধানী ঢাকার অদূরে হওয়ায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ এই শহরের রায়পুরাতে জন্মেছিলেন বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান। আরো নানাগুণীজন, ভৌগলিক কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই অঞ্চলের মানুষজনদের নিয়ে একটা বাজে কথাও সারাদেশ খুব ভালো করেই জানে, তা হচ্ছে নরসিংদীর মানুষরা খুব জিদ্দি। সহজেই হারতে জানে না। সেটা ছোট কোনো বিষয় হোক, আর বড় কোনো বিষয় হোক না কেন? সর্বশেষ নরসিংদী সদর পৌরসভা নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন নিয়ে নতুন করে এক ইতিহাস হয়েছে। সারাদেশে পৌরসভা নির্বাচনের চতুর্থ ধাপে মোট ৫৬ টি পৌরসভার মনোনয়ন দেয়া হলেও, শুধু নরসিংদী সদর পৌরসভাতেই দলীয় প্রার্থী পরিবর্তন করা হয়েছে। যা সাম্প্রতিক সময়ে আওয়ামী লীগে নজিরবিহীন ঘটনা। নরসিংদীর রাজনীতির অন্দরমহলের খবর নিয়ে ভোরের পাতার ধারাবাহিক প্রতিবেদনের আজ থাকছে দ্বিতীয় পর্ব। 

নরসিংদী সদর পৌরসভা নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে ব্যর্থ হয়েছেন বর্তমান মেয়র কামরুজ্জামান। তবে একদিনের ব্যবধানে নিজের ভাবশিষ্য ও নানা অপকর্মের দোসর শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আমজাদ হোসেন বাচ্চুকে মনোনয়ন বাগিয়ে নেয়ার মাধ্যমে নিজের ক্ষমতা দেখিয়েছেন। তবে  দুর্নীতিবাজ কামরুজ্জামানের সহযোগী হিসাবে সকল দুর্নীতির সঙ্গেই উঠে এসেছে এই বাচ্চুর নাম। এমনকি নরসিংদী পৌর আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারাই বলছেন, বাচ্চুকে দিয়েও আওয়ামী লীগের রাজনীতি হবে না। কেননা, তিনি মেয়র কামরুজ্জমানের মাইম্যান।  এমনকি আমজাদ বাচ্চুর বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশকারী হিসাবে পরিচিত। এমনকি এক সময় স্থানীয় সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম হিরুর সরলতার সুযোগ নিয়ে অনুপ্রবেশকারীদের দলে ঢুকিয়েছিল এই মেয়র কামরুল, যার বিরুদ্ধে দুদক তদন্ত করছে। এছাড়া তার পরিবারের একজন সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্যের ওপরও নানা অনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে। এমন অভিযোগ খোদ তার পরিবারের লোকজনই করেছে। 

ভোরের পাতার অনুসন্ধানে জানা গেছে, নরসিংদী সদর পৌরসভার মনোনয়ন আমজাদ হোসেন বাচ্চুর প্রাপ্তির নেপথ্যে অদৃশ্য শক্তি হিসাবে কাজ করেছেন বর্তমান সরকারের শিল্প মন্ত্রী নুরুল মজিদ হুমায়ূন। যার সঙ্গে আঁতাত করে কামরুজ্জামান নিজের পোষ্য একজনকে নৌকার মনোনয়ন পাওয়ানোর ক্ষেত্রে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করেছেন বলেও দাবি করেছেন অনেকে। এমনকি মেয়র কামরুজ্জামানের একজন ঘনিষ্ঠ লোক, যিনি তার সঙ্গে সার্বক্ষণিক পাশে থাকেন, তিনি ভোরের পাতাকে বলেন, যখন ১৩ জানুয়ারি নৌকার মনোনয়ন পেয়েছিলেন আশরাফ হোসেন সরকার। তখনই নিজের মাথায় তেমন চুল না থাকার পরও গুটি কয়েক চুল ছিঁড়ে কামরুজ্জামান বলেছিলেন, ‘ আমি হেরেছি তো কি হয়েছে, যত টাকা লাগে আমি খরচ করবো; তবুও আমি নৌকার মনোনয়ন নিজের লোককে এনে দিবো। যে লোককে দিবো, সে আমার কথার বাইরে যেতেই পারবে না।’ 

মেয়র কামরুলের যেই কথা সেই কাজ। প্রচণ্ড জিদ্দি হয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর সিদ্ধান্তকে প্রথমেই চ্যালেঞ্জ করে শিল্প মন্ত্রীর সাথে যোগাযোগ করেন। লোক মারফত তাদের যোগাযোগের পর কয়েক কোটি টাকার লেনদেনর খবরও জানিয়েছে কামরুজ্জামানের বিশস্ত সূত্রটি। কামরুজ্জমানের পক্ষে ওই মন্ত্রী আওয়ামী লীগের হাই কমান্ডের কয়েকজনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীকে মেয়র কামরুলের মাইম্যান বাচ্চু এটা না জানিয়েই, মনোনয়নটি পরিবর্তন করিয়ে নেন। এক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং দলের দুই জন প্রভাবশালী প্রেসিডিয়াম সদস্যকে ব্যবহার করেন শিল্পমন্ত্রী, এমনটা নিশ্চিত করেছে আওয়ামী লীগেরই নির্ভরযোগ্য সূত্র।

একই সঙ্গে নরসিংদী পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল মতিন সরকারের ছোট ভাই ও শহর যুবলীগের সাবেক সভাপতি আশরাফুল সরকারকে এক দিনের নৌকার মাঝি করার পর সেটি ধরে রাখতে না পারার বেদনা ও অপমান সইতে পারছেন না সাবেক সংসদ সদস্য কামরুল আশরাফ খান পোটন। তিনিও উঠে পরে লেগেছেন, যেকোনো মূল্যে আবারো নৌকার প্রার্থী পরিবর্তন করাতে। এক্ষেত্রে তিনিও টাকার বিনিয়োগ করেছেন বলে জানিয়েছে তারই ঘনিষ্ঠজনরা। এমনকি সরকারের বিভিন্ন স্তরের প্রভাবশালী আমলা থেকে শুরু করে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতাদের কাছেও ধর্ণা দিচ্ছেন। লোক মারফত তিনিও বিনিয়োগের পথ বেছে নিয়েছেন। সর্বশেষ তিনি প্রার্থী পরিবর্তন করতে ব্যর্থ হলেও বিদ্রোহী প্রার্থীকে জিতিয়ে আনবেন বলেও এমন চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন। 

এদিকে, আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী একজন প্রেসিডিয়াম সদস্য ভোরের পাতাকে বলেন, শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। তিনি ভুল করতে পারেননা। তারপরও বিদ্রোহী হয়ে কেউ যদি নির্বাচন করে তাহলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। আর টাকার লেনদেন যদি কেউ করেই থাকেন, তাহলে সেটি অবশ্যই সরকারের বিভিন্ন সংস্থা দিয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি মন্ত্রী হন আর সাবেক এমপি হন, আওয়ামী লীগ তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে কখনোই কুণ্ঠাবোধ করবে না। 

আওয়ামী লীগের দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন নেতা বলেন, নৌকার স্বার্থে যখন নরসিংদী আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ হতে পারছে না। তখন অবশ্যই বিষয়টি দলের সর্বোচ্চ অভিভাবককে জানানো হয়েছে। তিনিই বিষয়টি দেখছেন। তবে কামরুজ্জামানকে দুর্নীতি, দখল, স্বজনপ্রীতির কারণেই মনোনয়ন দেয়া হয়নি। এক্ষেত্রে তার পকেটের লোককে মনোনয়ন দেয়ার পরও যে পরিবর্তন হবে না, সেটাও নিশ্চিত করে বলা যায়না। কেননা, পকেটের লোক দিয়ে আওয়ামী লীগ করানো হবে না। আওয়ামী লীগ করার মতো পরিচ্ছন্ন বা ক্লিন ইমেজের কাউকেই শেষমুহুর্তে বেছে নেয়া হতে পারে। এটাও বিবেচনায় রেখেছে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। কারণ তিনি রাজনীতির মাঝে কার কতোটুকু গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে, সেটিও পরীক্ষা নিতে জানেন। এক্ষেত্রে আজ বা কালের মধ্যে প্রার্থীদের আমলনামা নতুন করে দেখার সুযোগও রয়েছে। 

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে নরসিংদী পৌরসভার নির্বাচন। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ১৭ জানুয়ারি, মনোনয়নপত্র বাছাই ১৯ জানুয়ারি ও প্রার্থিতা প্রত্যাহার করা যাবে ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  

সারাদেশ

এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক ভোরেরপাতা
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৮১৮৯১৪১, ৮১৮৯১৪২, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৮১৮৯১৪৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮১৮৯১৪৩, ইমেইল: [email protected] [email protected]