শুক্রবার ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১ ১৩ ফাল্গুন ১৪২৭

শিরোনাম: আবার বাড়ছে গ্যাসের দাম!    'খেতাব কেড়ে নিয়ে জিয়াউর রহমানকে কেউ খাটো করতে পারবে না'    জনসনের করোনা ভ্যাকসিন এক ডোজই যথেষ্ট    রোহিঙ্গাদের নিয়ে বিবিসির রিপোর্ট সঠিক নয়: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়    দেশে করোনা টিকা নিয়েছেন সাড়ে ২৮ লাখ মানুষ    ২৬ মার্চ থেকে ঢাকা-জলপাইগুড়ি ট্রেন চলাচল শুরু    শাহবাগে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, আটক ১০   
হত্যার উদ্দেশ্যে পাবনায় কলেজ পড়ুয়া ফখরুলকে কুপিয়েছে সন্ত্রাসীরা, পুলিশের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ
সিনিয়র প্রতিবেদক
প্রকাশ: শনিবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০২১, ১২:৫৮ এএম আপডেট: ১৬.০১.২০২১ ১:১২ এএম | অনলাইন সংস্করণ

হত্যার উদ্দেশ্যে পাবনায় কলেজ পড়ুয়া ফখরুলকে কুপিয়েছে সন্ত্রাসীরা, পুলিশের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ

হত্যার উদ্দেশ্যে পাবনায় কলেজ পড়ুয়া ফখরুলকে কুপিয়েছে সন্ত্রাসীরা, পুলিশের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ

পাবনার সাঁথিয়া উপজেলাধীন আতাইকুলা থানার অন্তর্গত গণেষপুর এলাকায় কলেজ পড়ুয়া ছাত্র ফখরুল ইসলামকে (২৪) হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা করেছে স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসী শাহীন আলমের নেতৃত্বে আরো ৬ জন। 

শুক্রবার (১৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় গণেষপুর ব্রিজের কোণায় একা পেয়ে ফখরুল ইসলামকে কুপিয়ে মারাত্নকভাবে জখম করেছে। এমনকি লোহার রড দিয়ে আঘাত করে তার পা ভেঙে দিয়েছে। চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে চলে যায় স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ী, যুবলীগ নেতা পরিচয় দেয়া শাহীন (৩৬)। এ হামলার সময় সহযোগী হিসাবে আরো উপস্থিত ছিলেন সাদ্দাম. সাগর, কবির, মতিউর, ওয়াকিল এবং বকুল। তারা সবাই মিলে একযোগে ফখরুল ইসলামকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালায় বলে জানিয়েছে প্রত্যক্ষদর্শীরা। 

ঘটনার পর মুমুর্ষ অবস্থায় স্থানীয়রা এগিয়ে আসে এবং তাকে পাবনা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে ফখরুলকে বিশেষ এ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে আনা হয়েছে। ঘটনার পর পরই স্থানীয় আতাইকুলা থানা পুলিশের পক্ষ থেকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম তড়িৎ গতিতে আসামিদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিলে এ নিউজ লেখার সময় (রাত সাড়ে ১২ টায়) কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। 

তবে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, যুবলীগের নাম ভাঙিয়ে নানা অপকর্মের দায়ে শাহীনকে কয়েকবার গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। মাত্র কয়েকমাস আগেই সে জেল খেটে বের হয়েছে। তার মতো কোনো অপরাধীকে ছাড় দেয়া হবে না। এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু এবং পুলিশ সুপার আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন, অতিদ্রুতই আসামিদের প্রেফতার করা হবে। ওসি আরো বলেন, আমরা এখনো মামলা পাইনি। তবে মামলার আগেই মানবিকভাবে হামলার শিকার হওয়া মুমুর্ষ ফখরুলকে বাঁচানোর জন্য হাসপাতালে পাঠিয়েছি। 

উল্লেখ্য, ফখরুল ইসলাম টঙ্গী সরকারি কলেজে অনার্সে অধ্যয়নরত। করোনার কারণে কলেজ বন্ধ থাকায় গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলেন। মাদক ব্যবসায়ী শাহিনের সাথে তার কোনো পূর্ব শত্রুতাও নেই বলে জানিয়েছেন ফখরুলের পরিবারের লোকজন। তারা এখন শাহীনের মতো কুখ্যাত সন্ত্রাসীর দ্রুত গ্রেফতার চেয়েছেন এবং পুলিশ বাহিনীর কাছে সর্বাত্নক সহযোগিতা কামনা করেছেন। এ বিষয়ে মামলা প্রস্তুতির পর্বে রয়েছে, কেননা ফখরুল ইসলামের পিতা আজহারুল ইসলাম স্থানীয় মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল এবং শান্তিপ্রিয় মানুষ হিসাবেই পরিচিত। তিনি আগে ছেলেকে নিয়ে হাসপাতালে যাচ্ছেন। খুব দ্রুততম সময়ের মধ্যেই মামলা করবেন বলেও জানান। এ বিষয়ে তিনি স্থানীয় সংসদ সদস্য এ্যাড. শামসুল হক টুকুর কাছে দোষীদের শাস্তি দাবি করেছেন। 

এ ঘটনায় শামসুল হক টুকু ভোরের পাতাকে বলেন, আমার নির্বাচনী  এলাকাতে কেউ অন্যায় করে ক্ষমা পাবে না। আমি ইতিমধ্যেই পুলিশ সুপার এবং আতাইকুলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য নির্দেশনা দিয়েছি। কারণ অপরাধীর কোনো দল নেই, তার পরিচয় শুধুই অপরাধী। 

উল্লেখ্য, স্থানীয় যুবলীগ নেতা পরিচয় দেয়া শাহীন মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকায় নানা সময় গ্রেপ্তার হয়েছিল। পরে জামিন পেয়ে ফিরে এসেই প্রতিবারই কোনো না কোনো অপকর্ম করে। এলাকাবাসীর কাছে সে মূর্তমান ত্রাস হওয়ায় কেউ সাহস করে প্রতিবাদ করেনি। 

এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামন খান কামালকে ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। 

উল্লেখ্য, যুবলীগের পদ ও মাদকের টাকায় মাত্র কয়েক বছরে আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ হয়েছেন পাবনা জেলার আতাইকুলা থানার ভুলবাড়িয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের গনেশপুর গ্রামের বাসিন্দা শাহীন আলম। এলাকাবাসীর মুখেও উঠে এলো তার অপকর্মের নানা অভিযোগ। সাত বছর আগেও নুন আনতে পান্তা ফুরানোর মতো অবস্থা ছিল। দিনমজুর হিসেবে কাজ করতেন অন্যের দোকানে, বসবাসের জন্য ছিল একটি মাত্র টিনের ঘর। তার এই জীবন বদলের খেলায় হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে যুবলীগের নাম। যুবলীগের কোনো সদস্য না হয়েও সবাইকে ম্যানেজ করে অর্থবিত্তের মালিক হয়েছেন পাবনার আতাইকুলা উপজেলার গনেশপুর গ্রামের শাহীন আলম। পাশাপাশি হয়েছেন মাদকের গডফাদার।

সম্প্রতি এমন সব অভিযোগ উল্লেখ করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), প্রধানমন্ত্রীর কাযার্লয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আইজিপি, সিআইডি ও র‌্যাবের কাছে অভিযোগ দিয়েছে এলাকাবাসী।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, পাবনা জেলার আতাইকুলা থানার ভুলবাড়িয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের গনেশপুর গ্রামের বাসিন্দা শাহীন আলম। তিনি মাদক ও সন্ত্রাসীবাহিনী গঠন করে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে রেখেছেন। সেইসঙ্গে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা চাঁদাবাজি করেছেন। এছাড়া আতাইকুলা থানার সবার কাছে তিনি মাদকের ডন হিসেবে পরিচিত। একইসঙ্গে সাধারণ মানুষের কোনো ধরনের সমস্যা হলে শালিশ/দরবার করার নামে অনেক মানুষকে নিঃস্ব করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৩ সালেও শাহিনের থাকার মাত্র একটি টিনের ঘর এবং ৭ শতাংশ জমি ছিল। কিন্তু মাত্র সাত বছরের ব্যবধানে শাহিন ও তার স্ত্রী ৮-৯ বিঘা জমির মালিক হয়েছেন। যার আনুমানিক বাজার মূল্য অর্ধ কোটি টাকা। এছাড়া গনেশপুর বাজারের কাছে বাড়ির জায়গাসহ তিন তলা ফাউন্ডেশনের দ্বিতীয় তলা পর্যন্ত বাড়ি করেছেন। জায়গা ও বাড়ির আনুমানিক বাজার মূল্য ৯০ লাখ টাকা। এছাড়া আতাইকুলা পূবালী ব্যাংক, আতাইকুলা ইউনিয়ন ব্যাংক ও বনোগ্রাম কৃষি ব্যাংকে প্রায় দুই কোটি টাকা জমা আছে। অপরদিকে গনেশপুর গ্রামের আব্দুস সামাদের কাছ থেকে দেড় লাখ টাকা ও আমিনের স্ত্রী বিধবা ভানু ও তার ছেলেদের কাছ থেকে এক লাখ টাকা জমির সমস্যা সমাধানের নামে চাঁদাবাজি করে নিয়েছেন।

জানা যায়, বর্তমানে শাহীনের পাঁচ কোটি টাকার বেশি সম্পদ রয়েছে। সাত বছর আগেও তিনি ফার্মেসির দোকানে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। এরপর শাহীন দুধ বিক্রির পেশায় যুক্ত হয়। তারপর শুরু হয় তার মাদক ব্যবসা। আর এই মাদক ব্যবসা থেকেই তার সন্ত্রাসীবাহিনী গঠন এবং রাতারাতি বদলে যেতে থাকে জীবন। আর এর পেছনে কাজ করেছে যুবলীগ নাম। শাহীন যুবলীগের সদস্য না হয়েও বছরের পর বছর দলটির নাম ব্যবহার করে ফায়দা নিয়েছেন। কারণ স্থানীয় যুবলীগের কর্মীরা তার পকেটে। ফলে যুবলীগের নাম ব্যবহার করলেও কেউ তাকে কিছুই বলেনি।

অপরদিকে অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ২০১২ সালের আগেও এই শাহিন শিবিরের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। কিন্তু বর্তমানে যুবলীগের নাম ভাঙিয়ে একদিকে মাদক ব্যবসা, অন্যদিকে সন্ত্রাসী ও চাঁদাবজি করছেন। এই শাহিনের নামে থানায় হত্যা মামলাসহ একাধিক মাদক ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে মামলা রয়েছে। এছাড়া এলাকার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি কালুর বাসায় যেয়ে দিন-দুপুরে সন্ত্রাসীবাহিনী নিয়ে তার ছেলে ও স্ত্রীকে মারধর করেন। এজন্য থানায় তার নামে মামলাও রয়েছে। এদিকে এই শাহীন তার বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ জায়েজ করার জন্য ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য হওয়ার পাঁয়তারা করছে।

এদিকে গত বৃহস্পতিবার (৭ জানুয়ারি) পাবনা জেলা জজ কোর্টে হাজিরা দিতে গেলে একটি মাদক মামলায় শাহীন আলমকে ১৫ মাসের জেল দেয় আদালত। বর্তমানে তিনি কারাগারে আছেন। কারাগারের যাওয়ার আগে ১ জানুয়ারি তিনি এক গণমাধ্যমকে জানান, ‘এলাকায় শত্রু আছে, তারা অভিযোগ দিতে পারে। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে সেটা মিথ্যা।’ আপনি কি রাজনীতি করেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে শাহীন বলেন, ‘আমি যুবলীগ করি।’ কোন পদে আছেন? জানতে চাইলে বলেন, ‘আমি আগে পদে ছিলাম এখন কোনো পদে নেই। শত্রুতা করে আমার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।’

শাহীনের ব্যাপারে ৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি কালু বলেন, ‘গত বছর বাড়িতে সন্ত্রাসীবাহিনী নিয়ে এসে আমাদের ওপর হামলা করে। আমি জানিও না কেন আমার ওপর হামলা হলো। আমি এখনও বিচার পাইনি। তাই আল্লাহর কাছে বিচার দিয়ে দিলাম।’

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  

সারাদেশ

এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক ভোরেরপাতা
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৮১৮৯১৪১, ৮১৮৯১৪২, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৮১৮৯১৪৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮১৮৯১৪৩, ইমেইল: [email protected] [email protected]