শুক্রবার ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১ ১৩ ফাল্গুন ১৪২৭

শিরোনাম: আবার বাড়ছে গ্যাসের দাম!    'খেতাব কেড়ে নিয়ে জিয়াউর রহমানকে কেউ খাটো করতে পারবে না'    জনসনের করোনা ভ্যাকসিন এক ডোজই যথেষ্ট    রোহিঙ্গাদের নিয়ে বিবিসির রিপোর্ট সঠিক নয়: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়    দেশে করোনা টিকা নিয়েছেন সাড়ে ২৮ লাখ মানুষ    ২৬ মার্চ থেকে ঢাকা-জলপাইগুড়ি ট্রেন চলাচল শুরু    শাহবাগে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, আটক ১০   
এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ে ৫০ কোটি টাকার ঘুষ বাণিজ্য, নেপথ্যে কারা?
উৎপল দাস
প্রকাশ: শনিবার, ৯ জানুয়ারি, ২০২১, ৯:১৯ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ে ৫০ কোটি টাকার ঘুষ বাণিজ্য, নেপথ্যে কারা?

এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ে ৫০ কোটি টাকার ঘুষ বাণিজ্য, নেপথ্যে কারা?

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়-এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের পৌরসভার তিনশো কোটি টাকার অটোমেশন কাজে ৫০ কোটি টাকার ঘুষের চুক্তিপত্র  হয়েছে। আর এই ভাগ-বাটোয়ারার জন্য মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব আনম ফয়জুল হকের নেতৃত্বে গড়ে উঠেছে একটি সিন্ডিকেট। দৈনিক ভোরের পাতার হাতে এ সংক্রান্ত সকল তথ্য প্রমাণ সংরক্ষিত রয়েছে।

সূত্র জানিয়েছে, সারা বাংলাদেশের ৩২৬টি পৌরসভার অটোমেশনের লক্ষ্যে ইউপিইএইচএসডিপি প্রকল্পের আওতায় ২০১৭ সালে ১০১ প্যাকেজটি প্রণয়ন করা হয় এবং ডিপিএম’এর আওতায় দরপত্র আহবান করা হয়। যেখানে সব কাজ একটি লটে সম্পন্ন করার জন্য ২০১৮ সালের ৮ জানুয়ারি ৪টি কোম্পানী টেন্ডারে অংশ নেয়। তখনকার প্রকল্প পরিচালক তার নিয়োজিত কোম্পানি- ফ্লোরা লিমিটেড ও থাকরাল ইনফরমেশন সিস্টেম লিমিটেডকে কাজ দেয়ার জন্য নিয়ম বর্হিভুতভাবে চারটি লটে ভাগ করেন। তারপর পুন:দরপত্র আহবান করেন ২০১৯ সালের ২ ফেব্রুয়ারি। নতুন করে ১০১ প্যাকেজে যে সাতটি কোম্পানি বিড করেছে, তারা হলো- ফ্লোরা লিমিটেড জেভি (জয়েন্ট ভেনচার) সরকার কবির, স্মার্ট সিস্টেম, ই-জেনারেশন ট্রাস্ট ইনোভেশন, থাকরাল ইনফরমেশন সিস্টেম লিমিটেড ও এসটিবিএল সিনেসিস লিংক।

অভিযোগ আছে, ডিপিএম লংঘন করে নতুন করে টেন্ডার আহবানের মূলে ছিলো ফ্লোরা লিমিটেড ও থাকরাল ইনফরমেশন সিস্টেম লিমিটেডকে কাজ পাইয়ে দেয়া। এর জন্য বিপুল অংকের ভাগ বাটোয়ারার চুক্তি হয় নিজেদের মধ্যে। পুরো কাজ সম্পন্নে একটি সিন্ডিকেট গঠিত হয়। যার নেতৃত্বে ছিলেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের ইউপিইএইচএসডিপি প্রকল্পের সাবেক প্রকল্প পরিচালক, সদ্য অবসরপ্রাপ্ত যুগ্ম সচিব আব্দুল খালেক। বর্তমানে এর নেতৃত্ব দিচ্ছেন  স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের (সিটি কর্পোরেশন-১ বিভাগে চার বছর ধরে উপ-সচিব পদে থাকা আ ন ম ফয়জুল হক। এই ফয়জুল হক অটোমেশন কাজের পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ বাণিজ্য করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। আলোর মুখ না দেখার আগেই, পরামর্শক ফি বাবদ চার কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন আব্দুল খালেক ও ফয়জুল হক। যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও, পরামর্শক হিসেবে তারা নিজেদের আত্মীয়-স্বজনের নাম অর্ন্তভুক্ত করেছেন। এই সিন্ডিকেটে আরও রয়েছেন ইন্জিনিয়ারিং এন্ড প্রোকিউরমেন্টের এসিসটেন্ট ডিরেক্টর হুমায়ুন কবির খান। প্রায় আট বছর ধরে একই অফিসে একই পদে রয়েছেন তিনি। পৌরসভায় তার কাজের ব্যাপ্তি হলেও, সিন্ডিকেটের সদস্য হওয়ায়, নিয়ম বর্হিভুতভাবে, আব্দুল খালেকের পর চার মাস ভারপ্রাপ্ত প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন হুমায়ুন কবির খান। এ সময় নিয়ম-বর্হিভুতভাবে সরকারী দুটি গাড়িসহ সকল সুযোগ সুবিধা ভোগ করেছেন। প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ হলেও, এখনো সেসব সুবিধা ভোগ করছেন হুমায়ুন কবির খান। অথচ সরকারী গ্রেড অনুযায়ী ব্যবহারের জন্য তিনি কোনো গাড়ি পান না। অর্ধশত কোটি টাকার এই অটোমেশন কাজটি  সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে থাকবার জন্য আবদুল খালেক, ‘সিনিয়র প্রোকিউরমেন্ট এক্সপার্ট’, নামক পদ তৈরি করে নুরুল্লাহকে বসান। মূলত তাদের পছন্দের দুটি কোম্পানী  ফ্লোরা লিমিটেড ও থাকরাল ইনফরমেশন সিস্টেম লিমিটেডের সাথে ভাগ-বাটোয়ারা ও লেন-দেনের কাজটি করেন এই নুরুল্লাহ। সরকারী খাত থেকে মাসে দেড় লাখ টাকা বেতনে চাকরী করলেও, অফিস করেন সারা দিনে দুই ঘন্টা। তাও দিনে নয়, রাতে। আর শুক্রবার বন্ধের দিন হলেও, সেদিন অফিস করেন তিনি। অফিসের পুরো চাবি তার কাছে থাকায়, এখানকার সব নথি তিনি পছন্দের কোম্পানীর কাছে পাচার করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন এই বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। সিন্ডিকেটের পুরো কাজটি সচিবালয় থেকে নিয়ন্ত্রণ করেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সিটি কর্পোরেশন-১ বিভাগের উপ-সচিব আনম ফয়জুল হক।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে, মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা অভিযোগ করেছেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী, পৌরসভার অটোমেশনের জন্য ৩০০ কোটি টাকার কাজটি ফ্লোরা লিমিটেড ও থাকরাল ইনফরমেশন সিস্টেম লিমিটেডকে দেয়ার বিনিময়ে ঘুষ হিসেবে ওই সিন্ডিকেট পাবে ৫০ কোটি টাকা। এরই মধ্যে ঘুষের অগ্রিম ২৫ কোটি টাকা নিয়েছেন  উপ-সচিব আনম ফয়জুল হক। অর্ধশত কোটি টাকা ঘুষের ভাগ-বাটোয়ারার এই অগ্রিম টাকা তিনি পরিকল্পনা মাফিক  মন্ত্রণালয়ের উর্দ্ধতনদের কাছে পৌছে দিয়েছেন বলে নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক ওই সূত্র নিশ্চিত করেছে।

এ সংক্রান্ত ১০০ টাকা স্ট্যাম্পের একটি চুক্তি পত্র হাতে এসেছে।  ১০০ টাকার স্ট্যাম্পের সে চুক্তি অনুযায়ী, নিজেদের পছন্দমতো কোম্পানীকে কাজ পাইয়ে দেয়ার জন্য ওই অভ্যন্তরীণ চুক্তিতে দেয়া রয়েছে. ২১টি শর্ত। তার মধ্যে ৯টি শর্ত উল্লেখযোগ্য হলো পছন্দের চারটি কোম্পানী ঐক্যমত থেকে আরও দুটি কোম্পানী টেন্ডারে নিয়ে আসতে হবে। ভাগওয়ারী বন্টন কিভাবে হবে, তাও নির্ধারিত হইছে বলে ওই চুক্তিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। টেন্ডার পরবর্তী বিষয়গুলি একজন দেখবেন।সচিবালয়ের সার্বক্ষনিত তদারকির জন্য একজন সার্বক্ষনিক যোগাযোগ করবেন। সভায় মৌখিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যেখানে যা লাগে একজন প্রতিনিধি যোগাযোগ করবেন। নাম প্রকাশ অনিচ্ছুক নিজেদের মনমতো বুয়েটের একজন প্রতিনিধিকে গাড়ির সুবিধা দিতে হবে বলে ওই চুক্তিপত্রে উল্লেখ আছে।

এসব অভিযোগের বিষয়ে এলজিআরডি মন্ত্রী তাজুল ইসলামকে ফোন করা হলেও তিনি এ প্রতিবেদকের ফোনটি কেটে দেন। এরপর তিনি আর কল ব্যাকও করেননি। এমনকি তাকে নিউজের মন্তব্য জানতে চেয়ে ক্ষুদেবার্তা পাঠালেও তিনি সেটির প্রতিউত্তর করেননি।

এদিকে, দুর্নীতি দমন কমিশনের একজন পদস্থ কর্মকর্তা ভোরের পাতাকে বলেন, ঘুষ কেলেংকারির সকল তথ্য প্রমাণ আমাদের হাতে এসেছে। আমরা সেগুলো খতিয়ে দেখছি। এ বিষয়ে দুর্নীতিবাজ যেই হোক না কেন, তাকে কোনো ধরণের ছাড় দেয়া হবে না বলেও জানান তিনি। 

উল্লেখ্য, দুর্নীতিবাজ ও ঘুষখোর আ ন ম ফয়জুল হককে সম্প্রতি দক্ষিণবঙ্গের একটি জেলায় জেলা প্রশাসক হিসাবে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  

সারাদেশ

এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক ভোরেরপাতা
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৮১৮৯১৪১, ৮১৮৯১৪২, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৮১৮৯১৪৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮১৮৯১৪৩, ইমেইল: [email protected] [email protected]