শুক্রবার ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১ ১৩ ফাল্গুন ১৪২৭

শিরোনাম: অনন্য অসাধারণ শেখ হাসিনা আমাদের গর্ব    নরসিংদীতে ‘থার্টি ফার্স্ট’ উপলক্ষে চাঁদা না দেয়ায় ব্যবসায়ীকে কোপালো সন্ত্রাসীরা    না.গঞ্জে মসজিদে বিস্ফোরণ: ২৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র    টেকনাফের রাখাইনে স্বামীর ছুরিকাঘাতে স্ত্রী খুন,ঘাতক স্বামী গ্রেফতার     শালিখায় গণতন্ত্রের বিজয় দিবস উদযাপন    আমার গুরুত্বপূর্ণ এবং মূল্যবান পরিচয় আমি মুক্তিযোদ্ধার সন্তান:তাপস    মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসের আংশিক কার্যক্রম বন্ধ   
মোস্তফা রফিকুল ইসলাম ডিউকের মাধ্যমে ৩ কোটি ই-পাসপোর্টের তথ্য তারেক রহমানের হাতে, নেপথ্যে কারা?
উৎপল দাস
প্রকাশ: সোমবার, ২১ ডিসেম্বর, ২০২০, ৪:৫৭ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

মোস্তফা রফিকুল ইসলাম ডিউকের মাধ্যমে ৩ কোটি ই-পাসপোর্টের তথ্য তারেক রহমানের হাতে, নেপথ্যে কারা?

মোস্তফা রফিকুল ইসলাম ডিউকের মাধ্যমে ৩ কোটি ই-পাসপোর্টের তথ্য তারেক রহমানের হাতে, নেপথ্যে কারা?

আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশী মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ করতে হাতে লেখা পাসপোর্টের বদলে ২০১০ সালে সশস্ত্র বাহীনির সহায়তায় প্রবর্তিত হয় মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট৷ কিন্তু মেশিন রিডেবল পাসপোর্টেও জালিয়াতি করা হচ্ছে বিধায় ইমিগ্রেশন ব্যবস্থাপনাকে আরও নির্ভুল, সহজতর, সময়-সাশ্রয়ী ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করতে বিশ্বের ১১৮ টি দেশ ইতোমধ্যে ই-পাসপোর্ট প্রদান করেছে৷ এর ফলে বিশ্বে ১১৯তম দেশ হিসেবে ই-পাসপোর্ট চালু করছে বাংলাদেশ৷ বঙ্গবন্ধু কন্যা, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশকে যতই সামনের দিকে এগিয়ে নিতে চাচ্ছেন, তখনই সরকারের মধ্যে ঘাপটি মেরে থাকা কতিপয় বিএনপি-জামায়াতের গুপ্তচর সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে সক্রিয় রয়েছে। এবার ভোরের পাতার অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, স্থিতিশীল বাংলাদেশকে ঘিরে  সকল ষড়যন্ত্রের খলনায়ক, একাত্তরের সুমহান মুক্তিযুদ্ধে প্রমাণিত পাকিস্তানের গুপ্তচর, অবৈধ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কুলাঙ্গার পুত্র তারেক রহমান, তার একজন একনিষ্ঠ্য শিষ্য রফিকুল ইসলাম ডিউকের মাধ্যমে ৩ কোটি ই-পাসপোর্টের তথ্য হাতিয়ে নিচ্ছে। যা ভবিষ্যতে বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা থেকে শুরু করে রাজনৈতিক অনেক হিসাব নিকাশ পাল্টে দিতে পারে বলে মনে করেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। দেশ বিরোধী ষড়যন্ত্রের দীর্ঘ সময়ের সুচিন্তিত এই পাসপোর্সের তথ্য নিয়ে ভবিষ্যতে বিএনপি-জামায়াত এমন পরিকল্পনা করছে বলেও আশংকা করছেন বিশ্লেষক এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসীরা। সংঘবদ্ধ একটি সিন্ডিকেট সরকারের মধ্যে আওয়ামী লীগের লেভাসধারী হয়ে একসময়ে তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ এবং অর্থপাচারের কারণে দুবাইয়ে পালিয়ে যাওয়া এই ফ্লোরা টেলিকমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তফা রফিকুল ইসলাম ডিউকের নানা ষড়যন্ত্র আর অপকর্মের খতিয়ান নিয়ে ভোরের পাতার আজ থাকছে প্রথম পর্ব। 

চলুন দেখে নেয়া যাক, কে এই মোস্তফা রফিকুল ইসলাম ডিউক। মোস্তফা রফিকুল ইসলাম ডিউক নিজেকে আইটি ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্র থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে বিএসসি এবং এমএসসি সম্পন্ন করেন। এরপর জিই ক্যাপিট্যাল ক্যালিফোনিয়া এবং কম্পিউটারল্যান্ডে কর্মরত ছিলেন। বাংলাদেশে তিনি আইটি ইনফ্রাকষ্ট্রাচার এবং সফটওয়্যার কোম্পানি ফ্লোরা টেলিকম ও ফ্লোরা সিষ্টেমস পরিচালনা করে আসছেন। দেশের কৃষি ব্যাংক, মিচুয়াল ট্রাষ্ট ব্যাংক, এনসিসিবিএল, ট্রাষ্ট ব্যাংকসহ মোট ৮টি ব্যাংকের ১০০ এরও বেশি ব্র্যাঞ্চে নিম্নমানের কোর ব্যাংকিং অ্যাসোসিয়েশন সফটওয়্যার দিচ্ছে তার প্রতিষ্ঠান। রাষ্ট্রয়াত্ব ব্যাংকগুলোতে বিএনপির আমলে একচেটিয়া ব্যবসা শুরু করেন। নানা অনিময়ের মাধ্যমে অর্থপাচার করেছেন বলে দুর্নীতি দমন কমশিন থেকে তার বিরুদ্ধে তদন্ত কাজও শুরু হয়েছে। 

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস)-এর পরিচালক পদ ব্যবহার করে সরকারের অনেক প্রকল্পের কাজ করছে ডিউক। তার মধ্যে সরকারের চোখ ফাঁকি দিয়ে ই-পাসপোর্টের কাজও বাগিয়ে নিয়েছে তার প্রতিষ্ঠান। সরকারের নানান প্রকল্পের কাজ করলেও তিনি বিএনপি-জামায়াত সরকারের আমলে বিএনপির বড় অর্থ যোগানদাতা হিসেবে আলোচিত ছিলেন। বিএনপির গিয়াস উদ্দিন আল মামুন তার ঘনিষ্ট বন্ধু। তারেক রহমানের সাথে তার একাধিক ছবি রয়েছে। এছাড়া এক সময়ের ক্ষমতাধর বর্তমানে পলাতক বিএনপি নেতা হারিছ চৌধুরীর ডান হাত হিসাবে টাকা লুটপাট করেছেন এই ডিউক। এমনকি ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরকেও নানা সময়ে অনৈতিক পন্থায় আয় করা অর্থ যোগান এবং সুন্দরী নারী সাপ্লাই দিয়েছেন বলে বিএনপির অনেক ত্যাগী নেতারাই ভোরের পাতাকে জানিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির একজন ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, রফিকুল ইসলাম ডিউক নামের এমন একজনকে চিনি যে নিজেকে বড় আইটি ব্যবসায়ী বলে পরিচয় দেন। এমনকি বিএনপি-জামায়াতের পৃষ্ঠপোষকতার কারণে তাকে তারেক রহমান নিজেই কয়েকবার হাওয়া ভবনে ডেকেছেন। এখন এই ডিউক যখন নিজেকে আওয়ামী লীগার দাবি করে তখন আমাদের হাসি পাওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় থাকে না। নিজ দলের সমালোচনা করে তিনি আরো বলেন, বিএনপি আসলে এখন আর কোনো রাজনৈতিক দল নয়, এটা সত্যিকারের একটা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। যেখানে তারেক রহমানকে গোপনে বা প্রকাশ্যে খুশি রাখতে না পারলে কোনো কিছু করার সুযোগ নেই। এমনকি এই তারেক রহমানের পরামর্শেই ডিউকের মতো লোকজন আওয়ামী লীগের নাম ভাঙিয়ে নিচ্ছে এবং ব্যবসা করে লন্ডনে নিয়মিত টাকা পাঠাচ্ছে। 

ভোরের পাতার অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় থাকার সময় ঢাকা টেলিফোন লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠে। যে কোম্পানিটির ব্যবসায়িক পার্টনার হিসাবে মোস্তফা রফিকুল ইসলাম ডিউকের সাথে আরো ছিলেন, তারেক রহমানের অর্থযোগানদাতা এ টি এম হায়াতুজ্জামান খান। এছাড়া বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাসের স্ত্রী আফরোজা আব্বাসও ছিলেন ওই কোম্পানির পরিচালক। তৎকালীন বিএনপির অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমানের ছেলে নাসের রহমানকেও ফ্লোরা টেলিকম লিমিটেডের চেয়ারম্যান করা হয়েছিল। অর্থমন্ত্রীর নাম ভাঙিয়ে তখনকার সময়ে রফিকুল ইসলাম ডিউক বিভিন্ন রাষ্ট্রয়াত্ব ব্যাংক থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সফটওয়্যার ব্যবসা বাগিয়ে নেয়। সেখান থেকে নানা অনিময় দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলে এই ডিউক। এমনকি বনানীতে অফিস নিয়ে অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসাও করেছেন রমরমা। অবৈধভাবে ভিওআইপি ব্যবসার টাকার ভাগ আওয়ামী লীগের অনেক নেতার পকেটেও ঢুকেছে বলেও জানিয়েছে ফ্লোরা টেলিকমের নির্ভরযোগ্য সূত্র। অনেক প্রভাবশালী নেতার বাসায় সুন্দরী নারীসহ টাকার বস্তাও পাঠানো হতো নিয়মিত, এমনটা দাবি করেছেন সূত্রটি।  
মোস্তফা রফিকুল ইসলাম ডিউকের মাধ্যমে ৩ কোটি ই-পাসপোর্টের তথ্য তারেক রহমানের হাতে, নেপথ্যে কারা?

মোস্তফা রফিকুল ইসলাম ডিউকের মাধ্যমে ৩ কোটি ই-পাসপোর্টের তথ্য তারেক রহমানের হাতে, নেপথ্যে কারা?



বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার টানা তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতায় থাকায় এবং প্রধানমন্ত্রীর সুযোগ্য পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের নেতৃত্বে উন্নয়ন আর সাফল্যের ডিজিটাল বাংলাদেশ যখন স্বপ্ন নয়, বাস্তবে পরিণত হয়েছে। ঠিক তখনই অত্যন্ত সুকৌশলে রাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ  এবং ঝুঁকিপূর্ণ ই-পাসপোর্টের কাজটি জার্মান কোম্পানির প্রতিনিধি হিসাবে ভাগিয়ে নিয়েছে দীপন গ্রুপের মাধ্যমে তারেক রহমানের শিষ্য ফ্লোরা টেলিকমের কর্ণধার মোস্তফা রফিকুল ইসলাম ডিউক। দীপন গ্রুপের চেয়ারম্যান মাহমুদ হাসান এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাশেদ মাহমুদও বিএনপি-জামায়াতপন্থী। তারাও তারেক রহমানের অর্থযোগানদাতা বলে দাবি করেছেন দীপন গ্রুপেরই একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র। ২০১৮ সালে সোয়া তিন হাজার কোটি টাকায় বাংলাদেশকে ই-পাসপোর্ট ও অন্যান্য সরঞ্জাম সরবরাহের কাজ পেয়েছে জার্মান কোম্পানি ভ্যারিডোস জিএমবিএইচ। দেশীয় কোম্পানি হিসাবে ফ্লোরা টেলিকমের এই কাজটি পেতে সরকারের মধ্যে ঘাপটি মেরে থাকা বিএনপি-জামায়াতের কিছু এজেন্ট অনেক অর্থ বিনিয়োগ করেছিল। বিতর্কিত ব্যবসায়ী ডিউককেই যেন কাজটি দেয়া হয়, সেজন্য সরকারের কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাজনীতিবিদকে ঘুষ হিসাবে রাজধানীর অভিজাত একটি গাড়ির শো-রুম থেকে ৪ টি বিএমডাব্লিউ গাড়ি উপহারও দেয়া হয়েছিল। বিষয়টি ডিউকের ঘনিষ্ঠ একজনই ভোরের পাতাকে নিশ্চিত করেছে। এছাড়া, ওই শোরুম থেকে সুন্দরী ললনাদের যাদের মাধ্যমে অনৈতিক কাজ করিয়ে টাকার মালিক হয়েছেন ডিউক, সেই সব সুন্দরীদের প্রত্যেককে একটি করে গাড়ি উপহার দিয়েছেন।

তবে নিরাপত্তা বিশ্লেষক থেকে শুরু করে রাষ্ট্রের সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা মনে করেন, বিএনপির এজেন্ট হিসাবে রফিকুল ইসলাম ডিউক কাজটি নিয়েছিল শুধুমাত্র তারেক রহমানের কাছে তথ্য পাচার করার জন্য। ভোরের পাতার এ প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব:) মোহাম্মদ আলী শিকদার, পিএসপি বলেন, পাসপোর্ট একটি রাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ এবং ঝুঁকিপূর্ণ একটি বিষয়। পাসপোর্টে জাতীয় পরিচয়ের সকল তথ্যই থাকে।  এই তথ্য পাচার হলে অবশ্যই রাষ্ট্রের জন্য ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কেননা আমরা আগেও দেখেছি, রোহিঙ্গারা পর্যন্ত এ দেশের পাসপোর্ট বহন করেছে। রফিকুল ইসলাম ডিউকের মতো একজন আদর্শচ্যুত মানুষ কিভাবে এই কাজটি বাগিয়ে নিয়েছে সেটি আগে খতিয়ে দেখতে হবে। আমি ডিউককে দোষ দেয়ার আগে বলতে চাই, রাষ্ট্রযন্ত্রের ভিতরে অনেকেই আছেন যারা এদেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না, যারা মনেপ্রাণে এখনো বাংলাদেশকে পাকিস্তান বানাতে চায়, তারা সরকারের অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছে। তারাই ষড়যন্ত্রকারীদের পৃষ্ঠপোষককে এই কাজ দিয়েছে। এখনো সময় আছে, মাত্র ২ হাজার ই পাসপোর্ট তৈরি করা হয়েছে। যা আগামী মাসেই বাংলাদেশে চলে আসবে বলে জানা গেছে। ২০১৮ সালে রফিকুল ইসলাম ডিউককে কে বা কারা এই কাজটি পাইয়ে দিয়েছে, তাদের অতীত সামনে আনতে হবে। তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে সরকার। এমন একটি ঝুঁকিপূর্ণ ইস্যুতে কোনো ছাড় দেয়ার সুযোগ নেই। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায়ের সময়ও আমরা আদালতের পর্যবেক্ষণে দেখেছি, এখনো বাংলাদেশে পাকিস্তানের প্রেতাত্নারা সক্রিয় রয়েছে। তাদেরকে চিহ্নিত করে ভবিষ্যতে যেন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কোনো পদে না বসানো হয়, সেদিকে খেয়াল রাখার জন্যও সরকারের প্রতি অনুরোধ করেন মোহাম্মদ আলী শিকদার। তিনি সর্বশেষ যোগ করেন, রাষ্ট্রের এই গুরুত্বপূর্ণ টেন্ডার কাজটির সাথে যারা জড়িত ছিলেন, তাদেরকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনকে গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনে রফিকুল ইসলাম ডিউকের ফ্লোরা কোম্পানির নামে বরাদ্দকৃত কাজটি বাতিল করাও যেতে পারে। এমনকি নতুন করে টেন্ডার করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী কোনো ব্যবসায়ীকে কাজটি দেয়া যেতে পারে বলেও মনে করেন মেজর জেনারেল (অব:) মোহাম্মদ আলী শিকদার, পিএসপি। 
মোস্তফা রফিকুল ইসলাম ডিউকের মাধ্যমে ৩ কোটি ই-পাসপোর্টের তথ্য তারেক রহমানের হাতে, নেপথ্যে কারা?

মোস্তফা রফিকুল ইসলাম ডিউকের মাধ্যমে ৩ কোটি ই-পাসপোর্টের তথ্য তারেক রহমানের হাতে, নেপথ্যে কারা?


এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ভোরের পাতার এ প্রতিবেদককে মুঠোফোনে বলেন, আমরা ২০১৮ সালে জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেলের অনুরোধে বাংলাদেশ জার্মান কোম্পানি  ভ্যারিডোস জিএমবিএই ‘র সাথে চুক্তি করা হয়। চুক্তি অনুযায়ী ‘টার্ন কি' পদ্ধতিতে এটা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে৷  ঢাকার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ভেরিডোস-এর সঙ্গে ‘ই-পাসপোর্ট প্রবর্তন ও স্বয়ংক্রিয় বর্ডার কন্ট্রোল ব্যবস্থাপনা' শীর্ষক প্রকল্পের চুক্তি সই করে বাংলাদেশের ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর৷ এরপর জার্মান কোম্পানি দেশীয় ফ্লোরা টেলিকম লিমিটেড নামের একটি কোম্পানিকে কাজ দিয়েছে। এটা তো আমাদের বিষয় নয়। এটা জার্মান কোম্পানি ভ্যারিডোসের বিষয়। মাত্র দেড় মিনিটের কথপোকথনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, ডিউকের কাজ পাওয়া বিষয়ে কিছু বলতে রাজি হননি, এছাড়া নামাজের ব্যস্ততার কারণে তিনি কথা সংক্ষিপ্ত করেন। 

বিতর্কিত ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম ডিউক কিভাবে এমন নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ই-পাসপোর্টের কাজটি পেলেন সে বিষয়ে জানতে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আইয়ূব চৌধূরী, এসজিপি, পিবিজিএমএস, এনডিসি, পিএসসি কে ফোন করা হলে তার সরকারি ফোন নম্বরটি বন্ধ পাওয়া গেছে। এমনকি পাসপোর্ট অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটিও বন্ধ দেখাচ্ছে। 

এদিকে, ফ্লোরা টেলিকমের কর্ণধার মোস্তফা রফিকুল ইসলাম ডিউককে কয়েকবার ফোন করা হলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। তবে তারই অফিসের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে ভোরের পাতাকে বলেন, ‘ডিউক স্যার দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। তিনি বর্তমানে দুবাইয়ে অবস্থান করছেন। তার বিরুদ্ধে অর্থপাচারের তদন্ত শুরু হওয়ার পরই দেশ ছেড়েছেন। কবে দেশে ফিরবেন, সেটাও আমরা বলতে পারছি না।’

উল্লেখ্য, এই রফিকুল ইসলাম ডিউক বছরের অধিকাংশ সময়েই যুক্তরাজ্যে থাকেন। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়াতে তার বিলাসবহুল বাড়িও রয়েছে।ব্রেনলি ব্রান্ডের দামি গাড়িও কিনেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। দুবাইয়ে অভিজাত নৌ-তরী (নারীতে মজে থাকার জন্য), হোটেলসহ অবৈধ অনেক সম্পদের হিসাবও পেয়েছে দুদক। ইয়াবা সুন্দরী নিকিতাকে দিয়ে মাদক ব্যবসা করিয়ে ইয়াবা সম্রাটের উপাধিও বাগিয়েছেন এই রফিকুল ইসলাম ডিউক। এমনকি আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতাদের সাথেও বিভিন্ন সময় নানা অনুষ্ঠানে সুন্দরী লননাদের নিয়ে দেখা গেছে। এমন কিছু ছবি ভোরের পাতার হাতেও এসেছে। সুদর্শন চেহারা নিয়ে নারীলোভী এই ডিউকের রয়েছে নারী কেলেংকারি অভিযোগও। 

কয়েকজন নিরাপত্তা বিশ্লেষক ভোরের পাতাকে বলেছেন, এমন দেশবিরোধী মানুষ হিসাবে মোস্তফা রফিকুল ইসলাম ডিউকের ব্যবহৃত মোবাইল, হোয়াটসআপ, ভাইভার, সিগন্যাল, বটিম, নামের কয়েকটি এ্যাপস  গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন নজরদারিতে আনলেই অনেক সত্য বেরিয়ে আসবে। এটা দেশের স্বার্থেই করা প্রয়োজন বলেও মনে করেন তারা। 


আগামী পর্বে: রাষ্ট্রয়াত্ব ব্যাংকের সফটওয়ার জালিয়াতি: শত কোটি টাকা পাচার করে বিদেশে ডিউকের বিলাসী জীবন!

চলবে...

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  

সারাদেশ

এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক ভোরেরপাতা
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৮১৮৯১৪১, ৮১৮৯১৪২, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৮১৮৯১৪৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮১৮৯১৪৩, ইমেইল: [email protected] [email protected]