শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে যত টাকা লাগে দিবেন তরেক   রহমান

ভোরের পাতা ডেস্ক
নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে বিভিন্ন মহলের ইন্ধনের খবর পাওয়া যাচ্ছে। দিন যতই গড়াচ্ছে ততই বিভিন্ন মহল নানা উদ্দেশ্য এই আন্দোলনে মদদ দিচ্ছে। এমনকি আন্দোলনের কিছু কিছু স্থানে নিয়ন্ত্রণও চলে গেছে শিবির এবং ছাত্রদলের হাতে। এই আন্দোলনকে যেকোনো ভাবে জিইয়ে তাকে সরকার পতনের আন্দোলনে দিকে নিয়ে যাওয়ার এক প্রাণান্ত চেষ্টা চলছে। চেষ্টা হচ্ছে সংঘাত বাধানোর। বিএনপি-জামাতই শুধু নয় দেশের সুশীল সমাজের একাংশ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে সরকার বিরোধী আন্দোলনের দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করছে।

বিভিন্ন গোয়েন্দা সূত্রে প্রাপ্ত খবরে জানা গেছে, সারাদেশে এই আন্দোলন উসকে দিতে ছাত্র শিবির এবং জামাত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অত্যন্ত তৎপর। এই আন্দোলন যাতে চলমান থাকে সেজন্য শিবির অন্তত ১৫০টি ভুয়া ফেসবুক আইডি খুলেছে। গোয়েন্দা সূত্রগুলো বলছে, এসব ফেসবুক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে আন্দোলনের ছবি এবং খবর দিয়ে তারা শিক্ষার্থীদের রাস্তায় থাকতে প্রলুব্ধ করছে। ঢাকার প্রতিটি স্পটেই শিবিরের অন্তত ৫ জন করে পর্যবেক্ষক আছে। আছে কয়েকজন ক্যাডার। নেপথ্যে থেকে এরা আন্দোলনের গতি-প্রকৃতি নিয়ন্ত্রণ করছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, গত দুই বছর ধরে ছাত্র শিবির সারাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে নেটওয়ার্ক করেছে। কোটা আন্দোলন এবং শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ইস্যুতে আন্দোলন গড়ে তোলার জন্যই এই নেটওয়ার্ক তৈরি করা হয়েছিল। গোয়েন্দা সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে, বুধবার থেকে শিবিরের স্টুডেন্ট নেটওয়ার্ক এই আন্দোলনে প্রত্যক্ষ ভাবে যুক্ত হয়ে পড়েছে। জামাত-শিবিরের মূল লক্ষ্য হলো, যেকোনো একটি ইস্যুতে আন্দোলন গড়ে তুলে তা এমন এক জায়গায় নিয়ে যাওয়া, যাতে সরকারের পতন হয়।

জামাতের সঙ্গে দূরত্ব হলেও, বিএনপিও শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনে শিবিরের পদাঙ্ক অনুসরণ করছে। লন্ডন থেকে তারেক জিয়া সারাদিনই ক্ষুদে বার্তা পাঠাচ্ছেন। নেতাদের নির্দেশ দিচ্ছেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে রসদ জোগাতে। একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, এই আন্দোলন অব্যাহত রাখার জন্য যত টাকা লাগে তা তারেক দেবেন বলেও জানিয়েছেন। আজ বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর একটি অডিও গণমাধ্যমে ফাঁস হয়েছে যাতে দেখা যাচ্ছে, খসরু ছাত্রদলের নেতাদের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে যুক্ত হবার নির্দেশ দিয়েছেন। শুধু খসরু একা নন, দলের প্রায় সব নেতাই অপরিচিত ছাত্রদল নেতা-কর্মীদের রাস্তায় নামার নির্দেশ দিয়েছেন। কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সারা ঢাকার আন্দোলন মনিটরিং করছে। বিএনপি নেতারা প্রকাশ্যেই বলছেন, এই আন্দোলনকে তারা সরকার পতনের আন্দোলনে রূপান্তরিত করতে চান। ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদব লেছেন, ‘শিক্ষার্থীদের আন্দোলন বিচ্ছিন্ন কোনো আন্দোলন নয়, এটি সামগ্রিক ভাবে সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা।’ তিনি মনে করেন, ‘এই আন্দোলনই গণঅভ্যুত্থান ঘটিয়ে সরকারের পতন ঘটাবে।’

বিএনপি জামাতের পাশাপাশি নাগরিক ঐক্য এবং সুশীল সমাজের একটি অংশও সড়কের আন্দোলনকে সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ দিতে চাইছে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘বিএনপি-জামাত সারাজীবনই ষড়যন্ত্রের রাজনীতি করে। তারা জনগণের শক্তিতে বিশ্বাস করে না। একারণেই তারা অন্যের ইস্যুতে ঢুকে আন্দোলন করেত চায়।’ সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের ইস্যুকে রাজনৈতিক রং দেওয়ার চেষ্টা করলে সরকারের পতন হবে না বরং বিএনপি জামাত গোষ্ঠীই আরও জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। এভাবে ষড়যন্ত্র করে কখনো সফল হওয়া যায় না।’

গোয়েন্দা সূত্রগুলো বলেছে, আন্দোলন উসকে দেওয়ার নেপথ্যের নেতাদের সনাক্ত করা হয়েছে। শিগগিরই তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।
 

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here