ঘাতক বাসচালকের সঙ্গে ডোনান্ড ট্রাম্পের গোপন ফোনালাপ ফাঁস!

::জাকির হোসেন তমাল::


সড়কে এখন চলছে অন্য সিস্টেম, অন্য আইন। এর নাম 'বাচ্চা আইন'। সেই আইনের ফাঁক গলিয়ে পিঁপড়াও বের হতে পারছে না। মিনিস্টার, ডিআইজি-ব্যাবাক কাহিল। তো প্রশ্ন, ঢাকায় এই সিস্টেম চালু করল কে? হঠাৎ সবাই জাস্টিস চাচ্ছে কেন?  

এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে মাঠে নেমেছে ঢাকা শহরের আনাচে-কানাচে অযথাই ঘুরঘুর করা মশাগুলো। তারা এই ঘটনার পেছনের কারণ আবিষ্কার করতে রাত-দিন কাজ করে যাচ্ছে। অবশেষে এই পিছিয়ে পড়া গোষ্ঠির সামনের প্রাথমিক কারণ বেরিয়ে এল। তা হলো, কোনো প্রকার উস্কানি ছাড়াই 'নূরের' বাস দুই শিক্ষার্থীর গায়ের ওপর তুলে দিয়ে তাদের হত্যা করেছে। এই খবর সবাইকে ব্যথিত করেছে। সঙ্গে সঙ্গে মশারাও নিজেদের মধ্যে শোক প্রকাশ করেছে। তবে সেটা চারদিন পরে নয়, সঙ্গে সঙ্গে।  এবার মশারা নেমে পড়েছে সেই হত্যার কারণ বের করতে। এর পেছনে কোনো স্লো পয়জনিং আছে কি না। এটা করতে গিয়ে মশাদের ঘুম হারাম।

ঢাকা শহরের মশাদের নিয়ে গঠিত 'ইচরে পাকা' সংগঠনের সভাপতি মি. মশাও বিষয়টি নিয়ে বেশ চিন্তিত। সবার আন্দোলনে তাদের বসবাসের পরিবেশ নষ্ট হওয়ায় তাদের মাথা আরও খারাপ। সর্বশেষ সরকারের ঘোষণায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের খবর শুনে মি. মশাও আর পঁচা পানিতে ঘুমিয়ে থাকতে পারেনি। সে ফেসবুকের 'ইচরে পাকা' গোপন গ্রুপে একটি ঘোষণা দিয়েই দিল। সরাসরি সে এই সংগঠনের সবাইকে ১০ সেকেন্ডের মধ্যে হাজারিবাগের ট্যানারিতে হাজির হওয়ার জন্য বলল।

সভাপতির দ্রুত তলব দেখে রাত সাড়ে ৯টার মধ্যে 'ইচরে পাকা' সংগঠনের সব সদস্য হাজির হয়ে গেল। মি. মশাও তো খুব ক্ষিপ্ত অন্যদের ওপর। কেন পাঁচ দিনে এই হত্যার কারণ তারা বের করতে পারল না। সে সংগঠনের আইটি বিশেষজ্ঞকে এ বিষয়ে ২০ মিনিটের মধ্যে এটা সুরাহা করতে বলল।

মি. মশার ঘোষণা শুনে সবাই অস্থির। কারণ সে রেগে গেলে তাকে কেউ থামাতে পারে না, সবার সামনে স্ত্রীকে মারতে থাকে। কেউ সেই রাগ থামাতে পারে না। এসব ভাবতে ভাবতেই ৫ সেকেন্ড চলে গেল। 'ইচরে পাকা' সংগঠনের আইটি বিশেষজ্ঞ সরাসরি চলে গেল কারাগারে। সে 'নূরের' বাসচালকের একটি সাক্ষাৎকার নিল। সেই সাক্ষাৎকারের এক ফাঁকে একটি গোপন ফোনালাপের রেকর্ড পেয়ে গেল 'ইচরে পাকা’ সংগঠনের আইটি বিশেষজ্ঞ উচপুচ।

দুর্ঘটনার এক ঘণ্টা আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে 'নূরের' বাসচালক কচি মাসুমের সেই ফোনালাপ এখানে সবার জন্য তুলে ধরা হলো :

ট্রাম্প : হ্যাঁলো কচি, তুমি কেমন আছ? 

বাসচালক কচি : ভালো আছি স্যার, প্ল্যান কিন্তু পাক্কা। আজ দুজনকে খাব। এরপর আপনি কিন্তু আমার বিষয়টা দেখবেন। কারণ এই দেশে আর থাকতে ইচ্ছা করছে না। এখানে কথা বলার অধিকার নাই, ভোটের অধিকার নাই, কোনো নিরাপত্তা নাই, পড়া শেষে চাকরি নাই, খাওয়া নাই। আমায় টিকিট কবে পাঠাবেন?

ট্রাম্প : আমার কথামতো তুমি অনেককে গাড়ির নিচে ভ্যাত্তা করেছ। এবার দুই শিক্ষার্থীকে মেরে ফেল। তারপর আমার কিলিং মিনিস্টার হিসেবে তোমায় নিয়োগ দেব। বুঝেছ?

বাসচালক কচি : ইয়েস স্যার, আর কিছুক্ষণের মধ্যেই আপনি মিডিয়ার মাধ্যমে ফলাফল জানতে পারবেন। সো, নো টেনশন।

ট্রাম্প : শোন কচি, আইসল্যান্ডের মতো একটা দেশের জনসংখ্যা মাত্র ২ লাখ ৯৫ হাজার। আর তোমার ঢাকা শহরে কত মানুষ, তোমার হিসাব আছে? তাই আমি অনেককে দায়িত্ব দিয়েছি, পুরো বাংলাদেশের মানুষ কমাতে। সেটা তুমিও কর?

বাসচালক কচি : কিন্তু স্যার, এভাবে আইন ফাঁকি দিয়া আর কয়জনকে মারুম। মামলা খাইতে হইবো না?

ট্রাম্প : ওসব বাদ, সব আমার লাইনে আছে। তুমি শুধু ফালাও। বাকিটা আমি ম্যানেজ করছি। বোঝ না, বাংলাদেশে আন্দোলন ছাড়া কেউ কিছু করে না। আর দুটা মানুষ মরলে কি হবে, প্রতিদিনই তো দেশের এখানে-ওখানে বাসের নিচে মানুষ পড়তাছে। যাও, ফালাও কিলিং মিনিস্টার।

বাসচালক কচি : ওকে স্যার, নাউ আইএম কিলার।  


(রম্য রচনা)

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here