জাতীয় পার্টির মনোনয়ন বাণিজ্যের টাকা উদ্ধারের গুঞ্জন, ফেঁসে যাচ্ছেন হাওলাদার-সুনীল

ভোরের পাতা ডেস্ক
এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টির মনোনয়ন বাণিজ্যের টাকা উদ্ধার ঘটনা নিয়ে রীতিমত জাতীয় পার্টিতে তোলপাড় চলছে। সদ্য বিদায়ী মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার এবং পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং এরশাদের প্রেস অ্যান্ড পলিটিক্যাল সচিব সুনীল শুভ রায়ের বাড়ি থেকে একটি গোয়েন্দা সংস্থা বিপুল পরিমাণ টাকা উদ্ধার করেছে বলে জাতীয় পার্টির বিভিন্ন সূত্র দাবি করেছে। 

সূত্রের দাবি, ঐ দুই নেতার বাড়ি থেকে টাকা উদ্ধারের ঘটনার পর থেকেই পার্টির চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ সিএমএইচ হাসপাতালে অনেকটা আত্মগোপনে চলে যান।

জাপার একাধিক সূত্র জানায়, মনোনয়ন বাণিজ্যের সঙ্গে যারা যুক্ত ইতিমধ্যে সেসব নেতা গাঁ ঢাকা দিয়েছে। জাপা মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদারকে পদচ্যুত করার পর থেকে তাঁর কোন হদিস মিলছে না। এদিকে, নির্বাচন কমিশনে তার মনোনয়ন বাতিল হলেও সে বিষয়ে কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। গতকাল রাতে এ বিষয়ে নতুন মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গার সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেন সরকারের বন ও পরিবেশ মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এবং শ্রম প্রতিমন্ত্রী মজিবুল হক চুন্নু। অবিলম্বে বিষয়টি সুরাহা করার জন্য পার্টি চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

একাধিক সূত্র জানায়, মোটা অংকের বিনিময়ে বেশ কয়েকটি লোভনীয় আসন বিক্রি করেছেন মনোনয়ন বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত জাপার বেশ কয়েকজন নেতা। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচিত যারা তারা সবাই এরশাদের ঘনিষ্ঠ। জানা গেছে, ‘খ’ অদ্যাক্ষরের সাবেক এক মেজর এবং ‘চ’ অদ্যাক্ষরের এবং ‘স’ অদ্যাক্ষরের এই তিনজনই মনোননয়ন বাণিজ্যের মূল হোতা। বড়গুনার এক আসন ৩ কোটি টাকায় আপোষরফা হয়। ঐ ব্যবসায়ী টাকাও দেন মহাসচিবের বিশ্বস্তদের। কিন্তু শেষ অবধি তালিকায় তার নাম যুক্ত না হওয়ায় হতাশা এবং ক্ষোভ নিয়ে দেখা করেন বেগম রওশন এরশাদ এবং মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গার সঙ্গে। গত কয়েকদিন যাবত এমন অনেক নেতাই ধরনা দিচ্ছেন নয়া মহাসচিবের কাছে। মনোনয়ন বাণিজ্যের বিষয় নিয়ে মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এমন ঘটনা তিনি শুনেছেন এবং বিষয়টি নিয়ে দলের প্রেসিডিয়াম বৈঠকে আলোচনা হবে। এ বাণিজ্যে যারা যুক্ত তাদের অবশ্যই শাস্তি হবে।  

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here