তারেক মাসুদের জন্মদিনে গুগলের ডুডলে ‘মাটির ময়না’

:: ভোরের পাতা ডেস্ক ::

বাংলাদেশের গুণী নির্মাতা তারেক মাসুদ। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন এই পরিচালকের ৬২তম জন্মদিন উপলক্ষে আজ (০৬ ডিসেম্বর) শীর্ষ সার্চ ইঞ্জিন গুগল বিশ্বব্যাপী তাদের হোমপেজটি সাজিয়েছে তারেক মাসুদের অমরকীর্তি ‘মাটির ময়না’-র ইমেজ দিয়ে।

সার্চ ইঞ্জিনটি ওপেন করলে দেখা যায় একটি পাখির ছবি। তবে সেটি আসল পাখি নয়, ‘মাটির ময়না’ ব্যবহৃত মাটির পাখির একটি ছবি। নীল-হলুদ রঙের সেই পাখিটিকে হাত দিয়ে ধরে রয়েছেন একজন। ছবিটির পটভূমিতে রয়েছে সবুজ পাতাসহ তিনটি হলুদ ফুল।

সেই ইমেজটির ওপর ক্লিক করলে তা তারেক মাসুদ সংক্রান্ত গুগল পেজে চলে আসে। মাটির পাখিটির মাধ্যমে গুগল তুলে ধরেছে তারেক মাসুদের অনবদ্য সৃষ্টি ‘মাটির ময়না’ চলচ্চিত্রটি। ২০০২ সালে মুক্তি পাওয়া এই চলচ্চিত্রটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে তৈরি করা হয়েছে।

আজকের ডুডল সম্পর্কে গুগল তাদের পাতায় লিখেছে, প্রথম বাংলাদেশি পরিচালক হিসেবে অস্কারে অংশ নিয়েছিলেন তারেক মাসুদ। দেশে স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাণের চালিকা শক্তি মনে করা হয় তাঁকে। স্ত্রী ক্যাথরিন মাসুদকে নিয়ে তিনি বাংলাদেশের প্রত্যন্ত গ্রামগঞ্জে ঘুরেছেন। তিনি পরিচিত ছিলেন ‘সিনেমার ফেরিওয়ালা’ নামে। ১৯৫৬ সালে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার নূরপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি।

গুগল ডুডল হলো গুগল ওয়েবসাইটের হোমপেজে দেওয়া গুগলের সাময়িক লোগো। বিভিন্ন দিবস, জনপ্রিয় কাজ কিংবা নানা দেশের মনীষীকে শ্রদ্ধা জানিয়ে এই ডুডল বানানো হয়। এর আগে সত্যজিৎ রায়, আকিরা কুরোসাওয়া, সের্গেই আইজেনস্টাইনের মতো চলচ্চিত্রকারদের ডুডলের মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে। প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক হ‌ুমায়ূন আহমেদকেও ডুডলের মাধ্যমে সম্মান জানানো হয়েছিল।

গুগলের এই আয়োজন নিয়ে তারেক মাসুদের স্ত্রী চলচ্চিত্রকার ও প্রযোজক ক্যাথরিন মাসুদ বলেন, ‘গুগল তারেক মাসুদকে এইভাবে শ্রদ্ধা জানাচ্ছে, এটা খুবই সম্মানের একটি বিষয়। তারেক মাসুদ বাংলাদেশের দূরদর্শী ও অগ্রগামী নির্মাতাদের একজন ছিলেন। দেশে ও দেশের বাইরে তরুণদের কাছে তিনি ছিলেন অনুপ্রেরণার। যদিও তিনি বাংলাদেশের মানুষের জন্য সিনেমা বানিয়েছেন, তথাপি তাঁর সিনেমা পুরো পৃথিবীর কথাই বলেছে। তাঁর সিনেমার বিষয় ছিল আন্তর্জাতিক।’

‘আদম সুরত’, ‘মুক্তির গান’, ‘মুক্তির কথা’, ‘মাটির ময়না’, ‘অন্তর্যাত্রা’ ও ‘রানওয়ে’–র মতো ছবিগুলো তারেক মাসুদ তৈরি করেন।

‘মাটির ময়না’ (২০০২) তারেক মাসুদের প্রথম ফিচার চলচ্চিত্র, যার জন্য তিনি ২০০২ সালের কান চলচ্চিত্র উৎসবে ডিরেক্টরস ফোর্টনাইটসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করেন।

তারেক মাসুদের পরিচালিত প্রথম স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘সোনার বেড়ি’ (১৯৮৫) এবং সর্বশেষ পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘রানওয়ে’ মুক্তি পায় ২০১০ সালে। চলচ্চিত্রে তাঁর অবদানের জন্য ২০১২ সালে বাংলাদেশ সরকার তাঁকে দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান একুশে পদকে ভূষিত করে। বাংলাদেশের বিকল্প ধারার চলচ্চিত্র নির্মাতাদের সংগঠন শর্ট ফিল্ম ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য তিনি।

উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ১৩ আগস্ট মানিকগঞ্জ থেকে ঢাকায় ফেরার পথে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় ৫৪ বছর বয়সে প্রাণ হারান তারেক মাসুদ।

/ই

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here