আইবিএস হতে বিচারক আতিকুস সামাদের ‘পিএইচডি’ ডিগ্রী অর্জন

:: ভোরের পাতা ডেস্ক ::

খুলনা চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আতিকুস সামাদ পিএইচডি ডিগ্রী অর্জন করেছেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্সটিটিউট অব বাংলাদেশ স্টাডিস (আইবিএস) হতে "Civil Justice System in Bangladesh: Status, Impediments and Accelerating Strategies" শিরোনামে গবেষণা করে পিএইচডি ডিগ্রী অর্জন করেছেন তিনি।

বুধবার (০৫ ডিসেম্বর) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের ২৪৮ তম সভায় আতিকুস সামাদের গবেষণা কার্যটি অনুমোদিত হয়। তাঁর এ গবেষণা কার্যটি বিচার বিভাগে দেওয়ানী মামলার জট নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। 

গবেষণায় আতিকুস সামাদ উল্লেখ করেন, বর্তমানে বাংলাদেশে দেওয়ানী মামলার সংখ্যা প্রায় ১৮ লাখ। এক একটি মামলা শেষ হতে সময় লাগে প্রায় ১০-১৫ বছর। তিনি তাঁর গবেষণার মাধ্যমে বাংলাদেশের দেওয়ানী বিচার ব্যবস্থার সমস্যা সমূহ তুলে ধরেছেন। একই সাথে সমস্যা সমূহ নিরসনে আমেরিকা, ইংল্যান্ড, কানাডা, জাপান ও জার্মানির দেওয়ানী বিচার ব্যবস্থার পদ্ধতি তুলে ধরে বাংলাদেশের জন্য প্রযোজ্য একটি আধুনিক বিচার ব্যবস্থার রূপরেখা বর্ণনা করেছেন। 

গবেষণার বিষয়ে বিচারক আতিকুস সামাদ বলেন, তাঁর এ গবেষণা কার্যক্রমে সময় লেগেছে প্রায় ৬ বছর। দীর্ঘসময়ে তিনি তাঁর বিচারিক অভিজ্ঞতার সাথে সাথে সারা দেশের বিভিন্ন আদালতের ১৬৫ জন বিচারক, ১৬৫ জন আইনজীবী ও ১৬৫ জন বিচারপ্রার্থী জণগনের কাছ থেকে প্রশ্নমালার মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করেছেন। তিনি বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতিসহ আরো ৩ জন বিচারপতি, আইন কমিশনের সদস্য, আইন মন্ত্রণালয়ের সদস্য, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের রেজিস্ট্রি অফিসের কর্মকর্তা, ৮ জন জেলা ও দায়রা জজ এবং ৮ টি জেলা বারের সভাপতিসহ সুপ্রীম কোর্টের অভিজ্ঞ আইনজীবীদের সাক্ষাতকার গ্রহণ করেছেন। তাঁর এই গুরুত্বপূর্ন গবেষণা কার্যের তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও ভূমি প্রশাসন বিভাগের চেয়ারম্যান এবং যুক্তরাজ্যের ঝঙঅঝ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক প্রফেসর ড. বিশ্বজিৎ চন্দ।

জানা গেছে, ড. মো. আতিকুস সামাদ ১৯৮৭ সালের ২৫ ডিসেম্বর তারিখে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার মাছখোলা গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম গ্রহন করেন। তাঁর পিতা আলহাজ¦ মো. আতাউর রহমান বাংলাদেশ আনসারের জেলা কমানডেন্ট হিসেবে সম্প্রতি অবসর গ্রহণ করেছেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি এক সন্তানের জনক এবং তাঁর স্ত্রী ৩৪তম বিসিএস (নন ক্যাডার) এর একজন সদস্য। আতিকুস সামাদ যশোর বোর্ড হতে মানবিক বিভাগে ২০০২ সালে মাধ্যমিক পরীক্ষায় ৫ম ও ২০০৪ সালে উচ্চমাধ্যমিকপরীক্ষায় ৬ষ্ঠ স্থান অধিকার করেন। পরবর্তীতে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) আইন বিভাগ হতে এলএল.বি (সম্মান) ও এলএল.এম ডিগ্রী অর্জন করেন। ফলাফলে তিনি আইন বিভাগে রেকর্ড পরিমান নম্বর অর্জন করে ওই বিভাগে প্রথম শ্রেণিতে ২য় স্থান অধিকার করেন। 

এরপর তিনি ২০১০ সালে এশিয়া প্যাসিফিক বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। পরে ২০১২ সালের ১লা আগস্ট বাংলাদেশ বিচার বিভাগে সহকারী জজ হিসেবে রাজশাহী জেলা জজ আদালতে যোগদান করেন। চাকুরী জীবনে তিনি জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, জেলা লিগ্যাল এইড কর্মকর্তা এবং সর্বশেষ সুপ্রীম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের একান্ত সচিব হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে তিনি খুলনা চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে কর্মরত আছেন। তাঁর লেখা দুইটি গ্রন্থ  `ঈ`Commercial Laws of Bangladesh` এবং `ADR and Legal Aid` ইতোমধ্যে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। তাঁর লেখা বিভিন্ন গবেষণাধর্মী প্রবন্ধ IBS Journal, Stamford Law Journal, Asia Pacific Law Journal, BPDM Research Journal, Quatimate Law Journal সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ন জার্নালে স্থান পেয়েছে। তাঁর লক্ষ্য বাংলাদেশের বিচার বিভাগে এমন একটি কার্য পদ্ধতি আবিষ্কার করা, যার মাধ্যমে চলমান মামলা জট নিরসন হবে। তিনি তাঁর এই গুরুত্বপূর্ন অর্জনে তত্ত্বাবধায়ক, আইবিএস-এর শিক্ষক, গবেষক, বিচারকসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছেন।   

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here