পবিত্র দায়িত্ব পালন করেছি মাত্র...

বাংলাদেশের স্থপতি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা, আওয়ামী লীগ সভানেত্রী, বাংলাদেশের তিনবারের সফল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জন্মগ্রহণ করেছিলেন শতাব্দী প্রাচীন এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে। তাঁর পাঁচ পুরুষের বংশপরিক্রমায় জানা যায়, পূর্বপুরুষ ইসলামধর্ম প্রচারের উপলক্ষেই এই দেশে আগমন ঘটেছিল। অর্থাৎ ইসলামের মূল্যবোধ এই দেশের মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়াই ছিল তাদের উদ্দেশ্য। সেই অলি-কামেলদের বংশধরের একজন আজকের জননন্দিত নেত্রী শেখ হাসিনা। যার রক্তে রয়েছে আল্লাহ এবং তাঁর রাসুলের সত্যিকার গভীরতম ভালোবাসা। যার ফলশ্রুতিতে ২০০৯ সালে জনগণের বিপুল ভোটে বাংলাদেশের শাসনভার গ্রহণের পর দেশের অর্থনৈতিক থেকে আপামর জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটতে থাকে। যা আজ সর্বজন স্বীকৃত মানবিক উন্নয়নের সঠিক ধারা। যার রক্তের মধ্যে রয়েছে আল্লাহ এবং রাসুলের প্রতি একনিষ্ঠ বিশ্বাস, তাই বংশের ধারাবহিকতায় মানবজীবনে ইসলামিক আদর্শ সর্বত্র ছড়িয়ে দিতে ইসলামের সত্যিকার মর্মবাণী, কল্যাণকর মানবিক চেতনায় লালন করে সুদূরপ্রসারী কর্মপন্থা গ্রহণ করেন। এদেশের মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থাকে ঢেলে সাজিয়ে হাজার বছরের এই শিক্ষা পদ্ধতি দেশ ও জাতির সামনে সম্মানিত একটি জায়গায় নিয়ে এসেছেন। প্রতিটি উপজেলায় একটি করে মসজিদ এবং পাঠাগার নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছেন। বাংলাদেশের জন্ম থেকে আজ অবধি এই রকম ইসলামিক আদর্শকে সম্প্রসারণের কর্মপন্থা কোনো রাষ্ট্রনায়ক গ্রহণ করেননি।

তাই বাংলাদেশের মুসলমান জনগোষ্ঠী তাকে একজন ইসলামের আদর্শ সৈনিক মনে করে। বাবা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর ধর্ম পরিচয়কে স্পষ্ট করেই সংগ্রামে নেমেছিলেন। তাই তাকে বিধর্মী বানানোর অপচেষ্টা হীনমন্যতার নামান্তর। যারা তাঁর সত্য পরিচয় অস্বীকার করে তারা হয়তো রাসুলের উম্মত হিসেবে বিবেচিত হবে না। কারণ ইসলামে শুধু সত্যেরই স্থান আছে। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বলেছেন, ‘যা মিথ্যা, কলুষিত, পচা, ধর্মের নামে ভণ্ডামি, জাতিতে জাতিতে বিদ্বেষ তা একজন ধর্মপ্রাণ মানুষের আদর্শ হতে পারে না।’

স্বাধীনতা-পরবর্তীতে ইসলামের মর্মায়িত সুন্দর বাণী মানুষের মাঝে পৌঁছোনোর জন্য ১৯৭৩ সালে প্রতিষ্ঠা করেন ‘ইসলামিক ফাউন্ডেশন’। যা আজ সত্যিকার ইসলাম প্রচারে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখছে। ইসলামের ভণ্ড-কুচক্রীরা বঙ্গবন্ধুর মতো মহান একজন মুসলমানকে অমুসলিম বানানোর জন্য অপপ্রচার করে। তারা কি মুসলমান?

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতার হত্যার মধ্য দিয়ে স্বাধীনতাবিরোধী চক্র ক্ষমতা গ্রহণের মধ্য দিয়ে শুধু বঙ্গবন্ধু নয়, তার পরিবারের সদস্যদের অমুসলিম বানানোর প্রক্রিয়া নিয়ে মাঠে নামে। দীর্ঘ ২১ বছর এই প্রক্রিয়া চলিয়েও বাংলার মানুষকে বঙ্গবন্ধু এবং তাঁর পরিবারের প্রতি বিশ্বাস টলাতে পারেনি। তাই জনগণ ১৯৯৬ সালে বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলার শাসনের ক্ষমতা তুলে দেন। কিন্তু, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যারা চায়নি, তাদের দোসর জামায়াত-বিএনপি স্বাধীনতা-পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ, বঙ্গবন্ধু এবং তাঁর কন্যা বাংলাদেশের উন্নয়নের রূপকার শেখ হাসিনাকে ইসলামবিদ্বেষী, হিন্দু, বিধর্মী বানানোর জন্য ক্রমাগত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আমাদের সচেতন থাকতে হবে, ওরা কারা? ওরা তারা, যারা ১৯৭১ সালে তিন লাখ মা-বোনের সম্ভ্রম লুণ্ঠন করেছে, হত্যা করেছে তিরিশ লাখ মানুষকে।

‘জননেত্রীর ধর্মচিন্তা’ গ্রন্থটিতে রয়েছে তাঁর ধর্ম বিশ্বাস, ইসলামের প্রতি প্রগাঢ় অনুরাগ, মানুষের জন্য গভীরতম ভালোবাসা। আমার এই ক্ষুদ্র প্রয়াস থেকে জানতে পারবেন কারা সত্যিকারে ইসলামকে ভালোবাসে।

২০০৯ সালে বঙ্গবন্ধুকন্যা দ্বিতীয়বারে যখন ক্ষমতায় আদিষ্ট হন, তারপরের ইতিহাস তো বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা বিনির্মাণে মাইলফলক। আর আমরা এখন কিসিঞ্জার সাহেবের তলাবিহীন জুড়ি নই। বিশ্ব স্বীকৃত উন্নয়নের রোল মডেল। জননেত্রী শেখ হাসিনার দূরদৃষ্টি কর্মতেই তা সম্ভব হয়েছে। বাংলাদেশকে নিয়ে গেছেন হতদরিদ্র থেকে মধ্যমআয়ের দেশে।

সামনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। কুচক্রীরা আবারো বঙ্গবন্ধু এবং তাঁর সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী, মানবতার জননী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ধর্মের জিকির তুলে মাঠে নামবে। তাদের ওই হীন অপচেষ্টা উন্মোচন করার জন্য গ্রন্থটি সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে আমি বিশ্বাস করি। আর আমি নিজেকে ধন্য মনে করছি এমন একজন ইসলামের সেবককে নিয়ে এই গ্রন্থটি রচনা করার তৌফিক আল্লাহতায়ালা আমাকে দান করেছেন। আল্লাহ সহায় হোন। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।

ড. কাজী এরতেজা হাসান সিআইপি

সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী, সাতক্ষীরা-২
সদস্য- বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ, শিল্প বাণিজ্য ও ধর্ম বিষয়ক উপকমিটি
পরিচালক- এফবিসিসিআই
সম্পাদক- দৈনিক ভোরের পাতা, পিপলস্ টাইম। 

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here