আদমদীঘিতে খাল দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ

:: আদমদীঘি প্রতিনিধি ::  

বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার ছাতিয়ানগ্রাম ইউনিয়নের ইন্দইল ব্রীজ সংলগ্ন (শিব নদী) খাল দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে এস.বি পেইড এন্ড প্যাাকেজিং ইন্ডাষ্ট্রিজ লিঃ এর সর্ত্ত্বাধিকারী বেলাল হোসেন নামের এক ফাক্টরী মালিকের বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে এলাকাবাসি ও সংশিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খাল দখলের প্রতিবাদ করলেও ফ্যাক্টরী মালিক তার স্থাপনা নির্মানের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এলাকাবাসির মতে খাল দখলের ফলে এর প্রসস্থতা কমে গেছে এবং পানি প্রবাহ বাধা গ্রস্থ হচ্ছে। ফলে বর্ষা মৌসুমে এ অঞ্চলের কৃষি জমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। একই সাথে খাল এ ভাবে দখলের কারনে ভবিষ্যতে এলাকার শত শত বিঘা জমির আবাদ হুমকির মুখে পড়বে।   

ইন্দইল গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা এবং কৃষক জানান, এই খালের পানি দিয়ে শুষ্ক মৌসুমে কৃষকরা জমিতে সেচ দিয়ে থাকেন। এলাকার কৃষকদের সেচ সুবিধার জন্য গত বছর সরকারী অর্থায়নে খালটি খনন করা হয়। বর্ষা মৌসুমের পানি এই খাল দিয়ে প্রবাহিত হয়ে পাশের রক্তদহ বিলে গিয়ে পড়ে। ইন্দইল ব্রীজ থেকে শুরু করে রক্তদহ বিল পর্যন্ত খালটি প্রায় ৬ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য।  প্রভাবশালী ওই ফ্যাক্টরী মালিক খালের মধ্যে আরসিসি খুটি বসিয়ে একাধিক স্থাপনা নির্মান করেছেন। খালের জায়গা দখল করে একের পর এক স্থাপনা নির্মান কাজ চললেও এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দখল বন্ধে কোন প্রকার উদ্যেগ নেয়া হয়নি। নাম প্রকাশ না করে ওই গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা জানান, ফ্যাক্টরী মালিক প্রভাবশালী হওয়ায় এবং স্থানীয় কিছু নেতার মদদ থাকায় দখল বন্ধে কেউ সাহস পাচ্ছেন না। ছাতিয়ানগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হক আবু বলেন, খাল দখলের বিষয়টি পূর্বের ইউএনও ও ভূমি অফিস কে অবহিত করেছি কিন্তু অঞ্জাত কারনে দখল বন্ধ হয়নি। তিনি আরোও বলেন, খাল দখলের বিরুপ প্রভাব তাঁর এলাকায় বেশি পড়বে। 

এ বিষয়ে বুধবার মোবাইল ফোনে ফ্যাক্টরী মালিক বেলাল হোসেনের সাথে কথা হলে খাল দখলের বিষয় অস্বীকার করে তিনি বলেন, আমার ক্রয়কৃত জায়গায় আমি স্থাপনা নির্মান করছি। আমার ক্রয় করা জমির পরিমান ৮৬ শতক, কিন্তু আমি দখলে পেয়েছি ৬৬ শতক। ২০ শতক জায়গা খালের মাঝে রয়েছে। স্থাপনা নির্মানের পরও আরো জায়গা আমি খালের মধ্যে পাবো। বিষয়টি আমি বর্তমান ইউএনও কে জানিয়েছি এবং সার্ভেয়ার দিয়ে মাপযোক করেছি। খাল খননের সময় খালের জায়গা বাদেও আমার জায়গা খনন করা হয়েছে।  

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাদেকুর রহমানের সাথে কথা হলে তিনি জানান, বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে দেখা হবে। যদি খালের জায়গা দখল করা হয় তবে ওই ব্যবসায়ি কে নোটিশ প্রদান করা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here