সংসদে শীর্ষ ১০০ ঋণ খেলাপির তালিকা দিলেন অর্থমন্ত্রী

:: ভোরের পাতা ডেস্ক ::

দেশের শীর্ষ ১০০ ঋণখেলাপির তালিকা প্রকাশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। বুধবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জাতীয় সংসদে এই তালিকা প্রকাশ করেন তিনি।

সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি বেগম পিনু খানের এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, ঋণ খেলাপির সংখ্যা দুই লাখ ৩০ হাজার ৬৫৮ জন। এদের কাছ থেকে অনাদায়ী টাকার পরিমাণ ১ লাখ ৩১ হাজার ৬৬৬ কোটি টাকা। ঋণ খেলাপির এ টাকার পরিমাণ বাংলাদেশের সর্বশেষ প্রণীত বাজেটের এক চতুর্থাংশেরও বেশি। ৮৮ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে এই ঋণ নেয়া হয়।

এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের ঋণতথ্য (সিআইবি) ডাটাবেজে সংরক্ষিত সর্বশেষ গত জুন মাসের তথ্য তোলে ধরেন তিনি। বলেন, চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বিভিন্ন প্রকল্পের অনুকূলে বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা থেকে প্রাপ্ত বৈদেশিক সাহায্যের আশ্বাসের পরিমাণ ৩৬১ দশমিক ৩৫ মিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে ঋণের পরিমাণ ৩৬০ মিলিয়ন ডলার এবং অনুদানের পরিমাণ ১ দশমিক ৩৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। বৈদেশিক সাহায্যের প্রাপ্তির (ডিসবার্সমেন্ট) পরিমাণ ১৮৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে ঋণের পরিমাণ ১৮৫ দশমিক ৪৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং অনুদানের পরিমাণ ২ দশমিক ৪২ মার্কিন ডলার।

অর্থমন্ত্রী সংসদকে জানিয়েছেন, কৃষি ঋণের সুদহার ২০১৭ সালের জুলাই মাস থেকে ৯ শতাংশে নামানো হয়েছে। এর আগে এটি ১০ শতাংশ ছিল। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে সারাদেশে বেসরকারি ব্যাংক থেকে কৃষকদের মধ্যে ১১ হাজার ৩১৬ কোটি টাকার কৃষি ও পল্লী ঋণ প্রদান করা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের ৩১ জুলাই পর্যন্ত অর্থাৎ একমাসে সারাদেশে বেসরকারি ব্যাংকগুলো থেকে ৭৮৩ কোটি টাকার কৃষি ও পল্লী ঋণ প্রদান করা হয়েছে।

মৌলভীবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল মতিনের করা এক প্রশ্নের জবাবে সংসদকে মুহিত জানান, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা দুই লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকার মধ্যে ৯১ শতাংশ অর্জিত হয়েছে। চলতি অর্থবছরের রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা দুই লাখ ৯৬ হাজার ২০১ কোটি টাকা।

সংসদ সদস্য দিদারুল আলমের প্রশ্নের জবাবে মুহিত জানান, সরকার পুঁজিবাজারের শৃঙ্খলা তথা গতিশীলতা ও আস্থা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করে তা বাস্তবায়ন করেছে। ফলে পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীদের আস্থা আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। আরও গতিশীলতা ও আস্থা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন, বাংলাদেশ ব্যাংক, বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ এবং মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি নিয়মিত সমন্বয় সভা করছে।

/ই

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here