ছাত্রলীগ-যুবলীগ সেজে সক্রিয় রয়েছে জামায়াত-শিবির

:: ভোরের পাতা ডেস্ক ::

রাজনীতির কৌশল পরিবর্তন করেছে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর সহযোগী সংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবির। নতুন করে কোনও নাশকতায় জড়াতে চায় না সংগঠনটি। কারণ এতে আরও নতুন নতুন মামলায় জড়ানোর শঙ্কা রয়েছে। তবে মাঠে যথারীতি সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় রয়েছে শিবির।

নগরীর পশ্চিম বাকলিয়া ডিসি রোডে চাক্তাই খালের পাড়েই অবস্থিত ছাত্রশিবির চট্টগ্রাম মহানগর শাখার কার্যালয়। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকে এই কার্যালয়ে পুলিশ অসংখ্যবার অভিযান চালিয়ে নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার, অস্ত্র ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র উদ্ধার করে। হরতাল অবরোধে নাশকতা ঠেকাতে পুলিশের প্রধান লক্ষ্যবস্তু হয়ে ওঠে ছাত্রশিবিরের ওই কার্যালয়টি। কিন্তু দুইবছর আগে হঠাৎ সেখানে মুক্তিযোদ্ধা ও আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য এডভোকেট কফিল উদ্দিনের নামে একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুল গড়ে ওঠে।

খবর নিয়ে জানা যায়, চারতলা ভবনটির একটি তলা ওই স্কুলের জন্য ছেড়ে দিয়ে অবশিষ্ট তিনতলায় নির্ভয়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম চালাচ্ছে শিবির। আর মুক্তিযোদ্ধা কফিল উদ্দিন কিন্ডারগার্টেন প্রতিষ্ঠার পর থেকে ওই ভবনে পুলিশের একটি অভিযানও হয়নি।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. মাহবুবর রহমান বলেন, শিবিরের কার্যক্রম আমাদের নজরদারিতে আছে। তারা এখন অনেকটা কোনঠাসা অবস্থায় আছে। কারো কারণে আইন–শৃঙ্খলার অবনতি হলে তাকে ছাড় দেয়া হবে না। সামনে পুলিশের কার্যক্রম আরো বাড়বে।

ছাত্রশিবিরের দুর্ধর্ষ ক্যাডার সাজ্জাদের অন্যতম প্রধান সহযোগী ফিরোজকে বায়েজিদ থানা পুলিশ একে–৪৭সহ গ্রেপ্তার করেছিল। জামিন নিয়ে জেল থেকে বেরিয়ে ফিরোজ এখন যুবলীগ নেতা। তিনি নগর আওয়ামী লীগের একটি গ্রুপের সঙ্গেও সক্রিয়ভাবে যুক্ত আছেন। ফিরোজের পরিচয়টি পুলিশ এবং আওয়ামী লীগের অনেকের জানা থাকলেও ছাত্রশিবিরের হাজার হাজার সক্রিয় নেতাকর্মী সম্পর্কে কোনও ধরণের তথ্য পুলিশ কিংবা আওয়ামী লীগের নেই। ফলে আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের সম্ভাব্য কার্যক্রম নিয়ে প্রশাসনের ভেতর এক ধরণের শঙ্কা কাজ করছে।

গোয়েন্দা তথ্যমতে, আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামের তরুণ কর্মী এবং ছাত্রশিবিরের সক্রিয় নেতাকর্মী মিলে অন্তত ২০ হাজার সদস্য নিজেদের প্রস্তুত করছে। মারামারি কিংবা জ্বালাও পোড়াও নয়, তারা আওয়ামী লীগের ভেতরে থেকেই নির্বাচনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করবে।

গত ২৩ জুন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আড়ালে এমনই এক প্রস্তুতি সভা চলাকালে কোতোয়ালী থানা পুলিশ নগরীর স্টেশন রোডের মোটেল সৈকত থেকে ছাত্রশিবিরের ২১০ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করে। পরে পুলিশ তাদের ফেসবুক ও অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ঘেঁটে দেখে, তাদের মধ্যে অন্তত ৭০ শতাংশ যুবকের ফেসবুকে বড় বড় করে বঙ্গবন্ধুর ছবি রাখা হয়েছে। বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান কিংবা সভা সমাবেশে আওয়ামী লীগ নেতাদের সাথে ছবি আছে। ফেসবুকে অনেকেই নিজেদের ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সক্রিয় কর্মী হিসেবে দাবি করেছেন।

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের একজন কর্মকর্তা বলেন, আমরা তো সবেমাত্র ২১০ জনকে ধরেছি। আরও অনেকেই অধরা আছেন। তারা এখন সবাই আওয়ামী লীগের তকমাধারী। কে তাদের শনাক্ত করবে?

জানা যায়, গত ২৩ জুন মোটেল সৈকতের ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমীর আ জ ম ওবায়দুল্লাহ, নগর ছাত্রশিবিরের সভাপতি রফিকুল হাসান লোদি ও সাধারণ সম্পাদক ইমরানুল হক। আ জ ম ওবায়দুল্লাহ ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি। ঈদ পুনর্মিলণীর নামে তাদের ওই আয়োজনে নগর ছাত্রশিবিরের আরও অনেক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

মহানগরে পুলিশের থানার সংখ্যা ১৬টি। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ছাত্রশিবিরের সাংগঠনিক থানার সংখ্যা ৩২টি। প্রতিটি থানাতেই তাদের পূর্ণাঙ্গ কমিটি রয়েছে। প্রতি বছরই নিয়মমাফিক এসব কমিটি গঠন করা হয়। ফলে ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর সবচেয়ে কোনঠাসা অবস্থায় থাকা জামায়াতে ইসলাম ও ছাত্রশিবির এখন বিএনপির দিকে না তাকিয়ে নিজেরাই নিজেদের কৌশল নির্ধারণ করছে।

জামায়াতের একটি সূত্র জানিয়েছে, আগামী সংসদ নির্বাচন কতটুকু সুষ্ঠু হবে তা নিয়ে জামায়াতের নেতাকর্মীদের সন্দেহ রয়েছে। তা ছাড়া জামায়াতের নামে প্রচার–প্রচারণা চালাতেও বেগ পেতে হতে পারে। ফলে নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থীকে জেতাতে এখনই তারা নতুন কৌশল নির্ধারণ করে রেখেছে। বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করতে তারা এখন সক্রিয় ছাত্রলীগ ও যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে।

ছাত্রশিবিরের একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আগামী নির্বাচনের আগে ছাত্রশিবির আর জামায়াতের নেতাকর্মীরা নতুন করে কোনও নাশকতায় জড়াতে চান না। কারণ এতে আরও নতুন নতুন মামলায় জড়ানোর শঙ্কা রয়েছে। তবে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর নিজ নিজ প্রার্থীদের নির্বাচনী এলাকায় সক্রিয় হওয়ার প্রস্তুতি তাদের রয়েছে। বর্তমানে মাঠে সরাসরি না থাকলেও নিরাপদ সড়ক ও কোটা আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারবিরোধী কার্যক্রমে ছাত্রশিবির সক্রিয় ছিল ও রয়েছে বলে তারা জানান। সূত্র: দৈনিক পূর্বকোণ

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here