ছাত্রলীগের রাব্বানী,দেশরত্নের হাতিয়ার

মাঈনুল ইসলাম লিংকন

আলোর দীপ্ত কিরণে ঝলমলিয়ে চারিদিকে যেমন অন্ধকারের অমানিশা কেটে যায় ঠিক তেমনি মানবিকতা, মেধা, মনন, আদর্শ, চিন্তা-চেতনার ও সাংগঠনিক দক্ষতা সম্পন্ন দ্বায়িত্ববান কর্মী বান্ধব একজন সংগঠকই পারেন প্রগতিশীল ভাবনায় তেমনি সুন্দর সমাজ গঠনের জন্য সংগঠনের ভাবমূর্তি সমুন্নত রেখে সুনামের সাথে সকলের প্রশংসার দাবিদার হতে। যিনি ইতিমধ্যেই নিজেকে একজন দক্ষ নাবিকের ভূমিকায় অবতীর্ণ করে স্বাধীনতার বিপক্ষের হায়নাদের সকল ষড়যন্ত্র কে নস্যাত করে সুন্দর আর সাফল্যের পথে হেটে চলেছেন নির্ভীক সেনাপতির বেশে, তিনিই আামাদের ছাত্র সমাজের নেতা ঐতিহ্য, সফলতা, সংগ্রাম, আন্দোলন, গৌরব ও বিজয়গাঁথার সংমিশ্রণ, ভালোবাসার আর আবেগের সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের প্রতিটি কর্মীর হাসি কান্নার আঁওয়াজ, ইতিবাচক ছাত্রলীগের মূর্ত প্রতীক, ছাত্র সমাজের আশা আকাঙ্খা প্রতিচ্ছবি, যাকে সবাই চেনে "ছাত্রলীগের রাব্বানী" নামে সেই সৎ এবং সময়ের সেরা সাহসী নির্ভীক তরুন নাবিক জনাব গোলাম রাব্বানী। আজ ১১ই সেপ্টেম্বর। বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ এর নব-নির্বাচিত সম্মানিত সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর জন্ম। এই দিনে মাদারীপুর জেলার রাজৈর উপজেলার বদরপাশা গ্রামে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় তার মেধা ও বিচক্ষণতার পরিচয়ের এক দারুণ নজির স্থাপন করেন। ভর্তি পরীক্ষায় পঞ্চম হয়ে তিনি আইন বিভাগে পড়াশোনা শুরু করেন। রাজনৈতিক পরিবারে জন্ম ও বেড়ে উঠায় ছেলেবেলা থেকেই রাজনীতির প্রতি তার ছিলো এক অন্যরকম ভালোবাসার আকর্ষণ ও অনবদ্য টান । পিতা আবদুর রশিদ মিয়া ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের সংস্পর্শ পাওয়া ও তার আদর্শে অনুপ্রানিত একজন সরকারি কর্মকর্তা।

বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক আদর্শে গোলাম রাব্বানীকে অনুপ্রাণিত করেন। তার নানা মরহুম শামসুদ্দিন আহম্মেদ। তিনি ছিলেন রাজৈর উপজেলা আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি (১৯৬৪-৭৪) এবং চারবারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান। নানার মুখ থেকে বঙ্গবন্ধুর গল্প শুনে বড় হয়ে হঠা এই ছাত্রনেতা কলেজ জীবন শুরু থেকেই ছাত্রলীগের সঙ্গে জড়িত। মা তাসলিমা বেগম একসময় ছাত্রলীগের সঙ্গে জড়িত থাকায় পারিবারিকভাবেও তিনি সবসময় পেয়েছেন এক অনন্য উৎসাহ ও উদ্দীপনা। রত্নগর্ভা এই মায়ের দেয়া কষ্টার্জিত টাকা দিয়ে সমাজের অবহেলিত মানুষগুলোর কাছে ছুটে যাওয়া আর তাদের পাশে দাঁড়ানোর এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত তিনি। আজকের এই আধুনিকতা আর সুশীলতায় পরিপূর্ণ সময়ে শুধু কথায় নয়,তার প্রতিটি কাজ ও পদক্ষেপ মানব ও মানবতার বন্দনা করে। একজন সত্যিকারের বাঙালি হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলার জন্য যার প্রতিটি কথা ও আহ্বান পূর্ণ সাড়া ও তাগিদ জোগাতে নি:সন্দেহে সক্ষম। আমি সেই গোলাম রব্বানীর কথা বলছি। বাংলা ও বাঙালির প্রতি মানুষটার এমন অগাধ ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধের জন্যই হয়তো তিনি এই বাংলাদেশের বুকে এ যুগের 'মানবতার ফেরিওয়ালা'। লোক দেখানো সামাজিকতা ও আচারগুলোকে পাশ এড়িয়ে চলা দেশরত্নের জন্য সদা নিবেদিত ও তারুণ্যের প্রাণশক্তিতে ভরপুর নির্ভীক সৈনিকটি তিনি। একটি সুন্দর ও ডিজিটাল সোনার বাংলাকে বিনির্মাণ ও পৃথিবীর বুকে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে যখন জাতির পিতার অসম্পূর্ণ স্বপ্নগুলোকে নিয়ে দেশরত্ন শেখ হাসিনার গৃহিত প্রতিটি উদ্যোগ ও তার সাথে এই বন্ধুর পথচলায় উপমহাদেশের গৌরবগাঁথা এই সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ভূমিকাকে বারবার প্রশ্নবিদ্ধ করতে কিছু মানুষের লোভ, ষড়যন্ত্র ও নিকৃষ্ট কিছু পরিকল্পনার মুখে চুনকালি লেপে অতীতের ন্যায় এ ঘৃণিত কর্মগুলোকে ধুলোয় লুটিয়ে দিতে রাব্বানী নামের গল্পটির সূচনা। জাতির পিতার সীমাহীন আদর্শ ও স্বপ্নের মূলমন্ত্রে দীক্ষিত একজন নিবেদিত প্রাণ বলেই হয়তো মমতাময়ী নেত্রীর নজড়ে এড়ায়নি এই মানুষটি। সরাসরি তার আশীর্বাদ,আস্থা ও ভালোবাসার মর্যাদা হিসেবেই যার উপর সেই হাজার বছরের গৌরবে সমুজ্জ্বল সংগঠন, বাংলা ও বাঙালিয়ানা মন্ত্রে বাংলার বুকে যার গোড়াপত্তন হয়েছিলো জাতির পিতার হাত ধরে। সেই শিক্ষা, শান্তি ও প্রগতির পতাকাবাহী 'বাংলাদেশ ছাত্রলীগের' একজন সম্মানিত অভিভাবক হিসেবে পবিত্র দায়িত্বটির গুরুভার অর্পিত হয়েছে।

ভারতীয় উপমহাদেশে বাংলা ও বাঙালির জাতিস্বত্তাকে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে,বাংলার বুকে প্রতিটি ন্যায্যতার বিধান ও নীতির প্রবর্তনে, প্রতিটি অধিকার সংরক্ষণ ও তার সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ৪৮,৫২ আর ৬২ এর মতো হাজারো আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী এই সংগঠনটিকে বারবার দমিয়ে দেয়ার জন্য পরিকল্পিত শত ষড়যন্ত্রের ভিতকে কাপিয়ে দিতে এবং জাতির জনকের আদর্শে বলীয়ান ও তার নিজ হাতে গড়া এই সংগঠনটির সেই হারানো জৌলুশ ও শৌর্যবীর্যের মর্যাদাগুলোকে ধরে রেখে তার অফুরন্ত প্রেরণাগুলিকে পাথেয় করে প্রগতিশীলতায় বিশ্বাসী এক নতুন ছাত্রলীগের সূচনায় যখন প্রতিটি বাঙালি স্বত্তা স্বপ্নের প্রহর গুণে যাচ্ছে ঠিক সেই সময়ের ক্রান্তিলগ্নে, সেই অসম্পূর্ণ স্বপ্নগুলিকে সম্পূর্ন ও বাস্তবে রুপদানের একজন পথিকৃত হয়েই স্রষ্টার আশীর্বাদে পরিপুষ্ট এই অনন্য মানুষ এবং সেই সাথে একজন সাধারল গোলাম রাব্বানী । গঠনমূলক প্রতিটি কর্ম ও শ্রুতিমধুর সেই মোহাবিষ্ট কন্ঠসরের অধিকারী ব্যক্তিত্ব, যার কন্ঠস্বর বাংলার প্রতিটি ছাত্রের অধিকার ও প্রাণের কথাকে অবিরত বলে চলে, যার প্রতিটি চিন্তা ও কাজে, মেধা ও মননে, চারিত্রিক শিল্পগুণে কেবল হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের সেই অসম্পূর্ণ আর অদেখা সোনার বাংলা বিনির্মাণের লক্ষ্যকে সামনে রেখে টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া-রুপসা থেকে পাথুরিয়ার প্রতিটি পথও প্রান্তরে তেজদ্বীপ্ত বিচরণ ও স্বপ্ন বাস্তবায়নের সেই দৃঢ় প্রত্যয়কেই বিকশিত করে চলে তিনিই একজন গোলাম রব্বানী। ছাত্রলীগের অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পূর্বের সেই রব্বানীর ছোট ছোট সদিচ্ছা আর অসীম দূরদর্শীতা সম্পন্ন কিছু চিন্তার প্রতিফলন ও পরি-পূর্ণতা দিতেই হয়তো আজকের এই রাব্বানীর সৃষ্টি। দায়িত্ব গ্রহনের পূর্বের সেই রাব্বানী আর দায়িত্বপ্রাপ্ত রাব্বানীর প্রতিটি কথা ও কাজের প্রতি দায়িত্বশীলতায় এখন অবধি কোন অমিলের খোঁজ পাওয়া যায়নি, একজন আদর্শবান নেতা হিসেবে কর্মীর হৃদয়ে নিমিষে জায়গা তৈরী করতে তার কোন জুড়ি নেই। অদ্ভুত মোহনীয় শক্তির অধিকারী এই মানুষটি কর্মী ও নেতার মাঝখানে যে সংযোগ সেতুটি গড়তে সক্ষম সত্যি তা অতুলনীয়। তার প্রতিটি কাজ যেমন প্রতিটি ছাত্রের মনের কথা বলে তেমনি প্রতিটি কথা একজন সচেতন ও দেশপ্রেমিক ছাত্র উপরিউক্ত একজন ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার পথকে সহজ করে তুলে। স্পষ্টভাষী, পরিশ্রমী আর নিরঅহংকারের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত এই গোলাম রাব্বানী। তার মতো এমন যোগ্যতা এ যুগে বড় অভাব। প্রতিটি ছাত্রলীগ কর্মীর জীবন তার সংস্পর্শে এবং মুজিব আদর্শে কানায় কানায় ভরে উঠুক। বাংলার প্রতিটি ঘর হোক এমন একজন অনন্য অসাধারন গোলাম রাব্বানীময়। 

লেখক:সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ,
বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here