'শেখ হাসিনাকে টার্গেট করে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা'

:: ভোরের পাতা অনলাইন ::

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতে বলা হয়, ‘২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের জনসভায় নৃশংস গ্রেনেড হামলার টার্গেট ছিলেন তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। তাকে হত্যা করাই ছিলো গ্রেনেড হামলার উদ্দেশ্য। আর এর মাস্টারমাইন্ড ছিলেন তারেক রহমান। অন্য দেশে হলে এই ঘটনায় রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা আর রাষ্ট্রদ্রোহের অপরাধে সকল আসামির ফাঁসি হতো।’  

মঙ্গলবার (১১ সেপ্টেম্বর) পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডে পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারের পাশে স্থাপিত ঢাকার ‌১ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল আদালতের বিচারক শাহেদ নুর উদ্দীনের আদালতে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল তৃতীয়দিনের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে এসব কথা বলেন। 

এ সময় এই মামলায় জামিনে থাকা সব আসামির জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করেন অ্যাডভোকেট কাজল। এছাড়া সবার সর্বোচ্চ শাস্তিও দাবি করেন তিনি।

মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, উদ্দেশ্য ছিল বঙ্গবন্ধু কন্যা  শেখ হাসিনাকে হত্যা করে এ দেশকে পাকিস্তান বানানো।

রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান প্রসিকিউটর সৈয়দ রেজাউর রহমান বলেন, তারেক রহমানের নির্দেশে হাওয়া ভবনে এ হামলার ষড়যন্ত্র হয়। সাবেক উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টু, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ অন্যান্য আসামিরা এ ষড়যন্ত্র করেন। সকল আসামির একই অভিপ্রায় ছিল শেখ হাসিনাসহ সকল আওয়ামী লীগ নেতাকে হত্যা করা। তাই দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় সকল আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করছি। 

মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, পৃথিবীর কোন সভ্যদেশে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মতো ঘটনা ঘটলে তাহলে আসামিদের বিরুদ্ধে দেশদ্রোহী মামলা দায়ের করা হতো এবং আসামিদের ফায়ারিং স্কোয়াডে নিয়ে তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হতো। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে এখানে তা না করে চারদলীয় জোট সরকার জজ মিয়া নাটক সাজিয়েছে। একইসঙ্গে  আসামিদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র এবং হত্যা চেষ্টা মামলা দায়ের করেছে। তাদের একটাই লক্ষ্য ছিল সেটা হলো বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে হত্যা করা। কিন্তু তাদের সে চেষ্টা ব্যর্থ হলেও আওয়ামী লীগের বহু নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়। চিরতরে পঙ্গু হয়ে যায় শত শত নেতাকর্মী। এসব হিংস্রদের সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড কামনা করে রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তিতর্ক শেষ করছি।

এ সময় আসামিপক্ষের আইনজীবীরা আদালতকে জানান আগামীকাল তাঁরা কিছু আইনি পয়েন্টে যুক্তি উপস্থাপন করবেন। এরপর আদালত (১২ সেপ্টেম্বর)  পর্যন্ত আদালতের কার্যক্রম মুলতবি ঘোষণা করেন।

আসামিপক্ষে আইনজীবী এস এম শাহজাহান, নজরুল ইসলাম এবং রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী সৈয়দ রেজাউর রহমান, মোশাররফ হোসেন কাজল উপস্থিত ছিলেন।

মামলাটি প্রমাণে চার্জশিটের ৫১১ সাক্ষীর মধ্যে রাষ্ট্রপক্ষে মোট ২২৫ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। গত বছরের ৩০ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার আব্দুল কাহার আকন্দের জেরা শেষের মধ্য দিয়ে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়।

এ মামলায় মোট আসামি ৫২ জন। ২০১৫ সালের ২১ নভেম্বর রাতে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মামলার অন্যতম আসামি সাবেক মন্ত্রী জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদের ফাঁসি কার্যকর হয়। এছাড়া ২০১৭ সালের ১২ এপ্রিল রাতে মুফতি হান্নান ও তার সহযোগী শরীফ শাহেদুল ওরফে বিপুলের ফাঁসি কার্যকর করায় বর্তমানে আসামির সংখ্যা ৪৯ জন। এর মধ্যে ৮ জন জামিনে, ১৮ জন পলাতক ও ২৩ জন কারাগারে আছেন। 

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের জনসভায় তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপর গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। হামলায় আওয়ামী মহিলা লীগের সভানেত্রী আইভি রহমানসহ ২৪ নেতাকর্মী মারা যান।

এছাড়া আহত হন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, প্রয়াত মোহাম্মদ হানিফ, আমির হোসেন আমু, প্রয়াত আবদুর রাজ্জাক, প্রয়াত সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, ওবায়দুল কাদের, সাহারা খাতুন, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, নজরুল ইসলাম বাবু, আওলাদ হোসেন, সাঈদ খোকন, মাহবুবা পারভীন, নাসিমা ফেরদৌস, রুমা ইসলামসহ শতাধিক নেতাকর্মী।

 

অনলাইন/কে 

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here