মেগা প্রজেক্টে চীনের কাছ থেকে ঋণ নিতে সতর্কতা জরুরি : ড. রিচার্ড এল ব্যানকিন

  • ১৩-Apr-২০১৯ ১২:৪৩ পূর্বাহ্ণ
Ads

:: নিজস্ব প্রতিবেদক ::

প্রতিবেশী ও পৃথিবীর অনেক দেশের কাছে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সাফল্য এখন দৃষ্টান্তমূলক হলেও মেগা প্রজেক্টগুলোতে চীনের কাছ থেকে ঋণ নেয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত মানবাধিকার সংগঠক ড. রিচার্ড এল ব্যানকিন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে একজন ‘দক্ষ ও সুচারু’ রাষ্ট্রনায়ক অভিহিত করে তিনি বলেন, গত সাত বছর ধরে বাংলাদেশের বিনিয়োগে যুক্ত চীনকে তাদের নিজেদের সাজানো খেলায় কেউ হারাতে পারবে বলে চিন্তা করা বোকামি। শুক্রবার রাজধানীর লেকশোর হোটেলে দি এশিয়ান এইজ আয়োজিত ‘ডেব্ট ট্র্যাপ ডিপ্লোমেসি: আ রিজিওনাল থ্রেট’ শীর্ষক এক সেমিনারে বক্তব্য দেন ব্যানকিন।

গত অর্থবছরে বাংলাদেশের ৭ দশমিক ৮ শতাংশ এবং চলতি অর্থবছরে ৮ দশমিক ১৩ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের প্রাক্কলনের কথা তুলে ধরে  তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি দ্রুত বড় আকার ধারণ করার ক্ষেত্রে প্রতিবেশী এমনকি বিশ্বের অনেক দেশকে ছাড়িয়ে গেছে। বাংলাদেশ অচিরেই উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হবে। ক্রেডিট বা ঋণ সম্পর্কে বাজারে অনেক মতবাদ প্রচলিত আছে। তবে অধিক পরিমাণ ঋণ নেওয়া কখনোই ভালো কিছু নয়। চীনের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’-এ যুক্ত হওয়া ২৩টি দেশ নিয়ে আলোচনায় রিচার্ড বেনকিন বলেন, এসব দেশ ঠিকই উল্লেখ্যযোগ্য পরিমাণে ঋণ সঙ্কটের ঝুঁকিতে পড়েছে। উদাহরণ হিসাবে কম্বোডিয়া, মঙ্গোলিয়া, আফগানিস্তান, ভুটান, মালদ্বীপ, পাকিস্তান, জর্ডান, লেবানন ও ইউক্রেনের কথা বলেন তিনি।

চীনকে একটি ‘গণতন্ত্রহীন ও মানবাধিকারহীন’ রাষ্ট্র আখ্যায়িত করে বেনকিন বলেন, এই রাষ্ট্রের সঙ্গে ঋণ নিয়ে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে পড়লে বাংলাদেশেও এ ধরনের সমস্যা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার ঝুঁকি থাকে। চীনের সমালোচনা করতে গিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিতে বিলম্ব করা এবং সেখানে উইঘুর মুসলিম সম্প্রদায়ের নির্যাতনের কথা বলেন তিনি। পরে সেমিনারের মুক্ত আলোচনায় তার অধিকাংশ যুক্তির সঙ্গেই দ্বিমত পোষণ করেন রাষ্ট্রবিজ্ঞান সমিতির সভাপতি অধ্যাপক আতাউর রহমান।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে চীনা ঋণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ অবশ্যই ইতিবাচক। কিন্তু এই ঋণ নিয়ে যদি উন্নয়ন কর্মকাণ্ড নিশ্চিত করা যায় তাহলে তা কখনোই খারাপ কিছু নয়। ঋণ যখন অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত হয় তখন এর একটা খারাপ দিক থাকে। চীন থেকে ঋণ নিয়ে অনেক দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন, এ বিষয়ে বাড়তি সতর্কতাই কাম্য।

বাংলাদেশে জিবুতির অনারারি কনসাল আব্দুল হক বলেন, গণতন্ত্র ও সুশাসন নিয়ে ভাবার অনেক কিছুই আছে বাংলাদেশে। দেশে স্থিতিশীলতা আছে, তবে গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকারও বেশ সঙ্কুচিত। 

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হক বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর আমরা অনেক দূর পিছিয়ে গেছি। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিল ক্ষুধা দারিদ্র্যমুক্ত দেশ, অর্থনৈতিক মুক্তি। বর্তমান সরকার সেই লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছে। এজন্য যারাই সহযোগিতা নিয়ে এগিয়ে আসছে, তাদেরকেই গ্রহণ করা হচ্ছে।

এশিয়ান এইজের সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি শোয়েব চৌধুরী সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় আমরা যখন পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে লড়াই করছিলাম, তখন চীন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আমাদের বিরুদ্ধেই ছিল। এখন আমাদের দেশের উন্নয়নের নামে যে ধরণের ঋণ সহায়তা চীন দিচ্ছে, সে বিষয়ে আরো সতর্ক থাকতে হবে। 

পত্রিকার উপদেষ্টা সম্পাদক অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল শামীম চৌধুরীর সঞ্চলনায় সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য রাখেন পত্রিকাটির এডিটর ইন চিফ সৈয়দ বদরুল আহসান। এছাড়া বক্তব্য রাখেন এনভাইরনমেন্ট এন্ড সোস্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের চেয়ারপারসন মার্গুব মোর্শেদ, সেন্টার ফর গর্ভনেন্স স্টাডিজের চেয়ারম্যান প্রফেসর আতাউর রহমান, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হকসহ আরো অনেকে।

Ads
Ads