চলতি মাসেই মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ : আলোচনায় ১৫ জন

  • ৩-Apr-২০১৯ ০৬:১৮ পূর্বাহ্ণ
Ads

উৎপল দাস

টানা তৃতীয় বারের মতো ক্ষমতায় এসে মন্ত্রিসভা গঠনে অধিকতর তরুণদের প্রাধান্য দিয়ে চমক দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। চলতি মাসেই তাই আবারো সম্প্রসারিত হচ্ছে মন্ত্রিসভা। এমন আভাস পাওয়া গেছে সরকার এবং আওয়ামী লীগের দলীয় ফোরাম থেকেই। 

তবে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলভুক্ত রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের ভাগ্য আপাতত খুলছে না বলেও জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। 

সরকারি দলের বর্ষীয়ান নেতাদের মধ্যে দু-একজনের সম্ভাবনা থাকলেও সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে নতুনদেরই প্রাধান্য থাকবে। সর্বোচ্চ ১০ জন নতুন করে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন এমন কথা স্বীকার করেছে সরকারের মন্ত্রিসভায় থাকা একাধিক সদস্য ও গণভবন সূত্র। 

এদিকে, সরকারের একাধিক সূত্র চলতি মাসে মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণে কারা আলোচনায় রয়েছেন বা প্রধানমন্ত্রীর কাছে এগিয়ে রয়েছেন তাদের বিষয়েও ভোরের পাতাকে আভাস দিয়েছে। সেক্ষেত্রে ইতিমধ্যে ১৫ জনের নাম বেশ জোরেশোরেই শোনা যাচ্ছে যারা আলোচনায় রয়েছেন এবং প্রধানমন্ত্রী তাদের বিষয়ে বিশেষ খোঁজ খবর নিচ্ছেন। 

বিশস্ত সূত্র জানিয়েছে, আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা ও সাবেক শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমুকে আবারো মন্ত্রিসভায় নিয়ে আসা হতে পারে। সেক্ষেত্রে তাকে গুরুত্বপূর্ণ কোনো মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হবে। এছাড়া আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক বাণিজ্য এবং বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রী লে. কর্ণেল (অব.) ফারুক খানও রয়েছেন আলোচনায়। তাকে সরকারের অধিক গুরুত্বপূর্ণ একটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হতে পারে বলে জানা গেছে। 

এছাড়া বর্তমান সংসেদর এমপিদের মধ্যে কয়েকজন আলোচনায় রয়েছেন। তাদের মধ্য থেকে ৩ জন পূর্ণ মন্ত্রী এবং ৩ জন প্রতিমন্ত্রী করা হবে। আলোচনায় থাকা এমপিদের মধ্যে রয়েছেন  মহিলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা এমপিকে বর্তমান মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার সম্ভাবনা রয়েছে বলে ব্যাপক গুঞ্জন আছে। তাকে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে বলেও আলোচনা হচ্ছে। এ পদে আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের বোন কিশোরগঞ্জ-১ আসনের এমপি ডা. সৈয়দা জাকিয়া নূর লিপির নামও শোনা যাচ্ছে। বর্তমান মন্ত্রিসভায় মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে কাউকেই দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। এছাড়া পুরুষ এমপিদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন ড. হাবিবে মিল্লাত, এস এম জগলুল হায়দার, অসীম কুমার উকিল, আব্দুস সালাম মুর্শেদী এবং নাইমুর রহমান দুর্জয়। 

তাদের মধ্য থেকে ১ জন নারী এবং একজন পুরুষ এমপিকে পূর্ণ মন্ত্রী করা হতে পারে। বাকিদের নাম প্রতিমন্ত্রী অথবা উপ মন্ত্রীর তালিকায় রয়েছে। তবে মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শেষ মুহুর্তের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে। 

এছাড়া টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রিসভায় আসতে পারেন, এমন নেতাদের মধ্যে আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন দলের দুই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান ও সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম। তাদের মধ্য থেকে যেকোনো একজনকে বেছে নেয়া হতে পারে। অন্য দুই জনের জন্য দলীয় ফোরামে আগামী সম্মেলনে পদোন্নতি দেয়া হবে বলেও নিশ্চিত করেছে সূত্রটি। এই তিন জনের মধ্যে সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমই সবচে বেশি এগিয়ে রয়েছেন। 

টেকনোক্র্যাট কোটায় আর মাত্র দুইজনকে মন্ত্রী করার সুযোগ রয়েছে। সেক্ষেত্রে একজন নারীকে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হতে পারে। তবে সেক্ষেত্রে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পাবেন সংসদের বাইরে থাকা প্রধানমন্ত্রীর বিশস্ত কেউ। এক্ষেত্রে দুই জন সাবেক সংরক্ষিত নারী আসনের এমপির নাম আলোচনায় রয়েছে। তাদের একজন হচ্ছেন দুই বারের সংরক্ষিত আসনের এমপি এ্যাড. ফজিলাতুন্নেসা বাপ্পী। আরেকজন এ্যাড. নূরজাহান বেগম মুক্তা। 

মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে অসুস্থ হওয়ার আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে মন্ত্রিত্ব থেকে সরিয়েও দেয়া হতে পারে বলেও কেউ কেউ আভাস দিয়েছেন। 

কিশোরগঞ্জ থেকে মন্ত্রীসভায় এখনো পর্যন্ত কেউ ঠাঁই পাননি বলে এবার সম্প্রসারণে কিশোরগঞ্জ থেকে কেউ না কেউ মন্ত্রীত্ব পাচ্ছেন। এক্ষেত্রে সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের ছোট বোন ডা. সৈয়দা জাকিয়া নূর লিপি অথবা ট্যাকনোকেট কোটায়  কিশোরগঞ্জ- ২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এ্যাডভোকেট মো. সোহরাব উদ্দিনের নামও আলোচনায় রয়েছে। 

উল্লেখ্য, এ বছরের ৭ জানুয়ারি গঠিত বর্তমান মন্ত্রিসভার সদস্যসংখ্যা ৪৭। এর মধ্যে ২৫ জন পূর্ণমন্ত্রী (প্রধানমন্ত্রীসহ), ১৯ জন প্রতিমন্ত্রী এবং তিনজন উপমন্ত্রী। একমাত্র ওবায়দুল কাদের ছাড়া আওয়ামী লীগের ডাকসাইটে তারকা নেতাদের সবাই বর্তমান মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়েছেন। 

Ads
Ads