শরীয়তপুর পাসপোর্ট অফিসের দালালদের কৌশল বদল, গ্রাহকদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে টাকা

  • ৩-Apr-২০১৯ ০৪:০৭ পূর্বাহ্ণ
Ads

:: মোঃ জামাল মল্লিক, শরীয়তপুর ব্যুরো ::

শরীয়তপুর আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের অভ্যন্তর এবং গেটের সামনে প্রকাশ্যে আনাগোনা ছিল দালাল চক্রের। কিন্তু পাসপোর্ট অফিস ও জেলা প্রশাসক চত্বরে সিসি ক্যামেরাসহ নিরাপত্তা বাড়ানোর কারণে জেলার আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের ভেতরে সহসা প্রবেশ করতে পারছে না দালাল চক্রের সদস্যরা। কিন্তু তারপরও থেমে নেই তাদের দৌরাত্ম্য। স্থানভেদে দালাল চক্র নতুন কৌশল অবলম্বন করেছে। যার প্রমাণ মিলেছে পাসপোর্ট করতে আসা গ্রাহক ও সরেজমিন ঘুরে।

শহরের মধ্যে জালের মতো ছড়িয়ে পড়েছে দালাল চক্রের সদস্যরা। একবার তাদের মিষ্টি কথার খপ্পরে পড়লেই পাসপোর্ট করার জন্য লুটে নেয়া হয় অতিরিক্ত টাকা। এ অবস্থায় নগরীর বিভিন্ন ছবি তোলার স্টুডিও, যেসব ব্যাংকে পাসপোট্রের ফি জমা নেয়া হয় তার বাইরে, বিভিন্ন হাসপাতালের চিকিৎসকদের আশপাশে ও পাসপোর্ট অফিসের আশেপাশে কম্পিউটারের দোকানগুলোতে, বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের তথ্য সেবা কেন্দ্র গুলোতে দালাল চক্রের সদস্যরা ছড়িয়ে রয়েছে। নতুন পাসপোর্ট তৈরি করা, পাসপোর্টের নবায়ন, পাসপোর্ট সংশোধন, পুলিশ ভেরিফিকেশন থেকে শুরু করে সর্বক্ষেত্রেই সমস্যা সমাধানের দায়িত্ব নেন দালালরা।

একজন নতুন পাসপোর্ট আবেদনকারীকে সাধারণ ভুলের কারণেই দুই থেকে তিনবার ফেরত পাঠানো হয়। সরকারি বা বেসরকারি চাকরিজীবীরা এ ক্ষেত্রে সব থেকে বেশি সমস্যায় পড়েন। দীর্ঘ সময়ে লাইনে দাঁড়িয়ে ক্ষুদ্র কারণে যখন চাকরিজীবীদের ফেরত পাঠানো হয়। সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত আবেদন গ্রহণ করা হয়। পাসপোর্টের ফরমে কম্পিউটার প্রিন্ট ছবি, সত্যায়িত কর্মকর্তার সিল সঠিক জায়গায় না হওয়া, জন্মনিবন্ধনে সমস্য, ফরমে ফ্লুইট ব্যবহার করা হলে, ফরমের ছবির সাইজ ছোট-বড় হলে এবং সব কাগজ সত্যায়িত থাকার পরও মূল কপি না আনার কারণে প্রতিনিয়ত ভোগান্তিতে পরতে হয় সাধারণ মানুষকে। আর এই সুযোগ গুলোকে কাজে লাগিয়ে পাসপোর্ট অফিসের নাম ভাঙিয়ে ফরম পূরণ ও  সমস্যার সমাধানের কথা বলে দালালরা পাসপোর্ট করতে আসা গ্রাহকদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেয়  মোটা অংকের টাকা। 

পাসপোর্ট করতে কোনো ঘুস লাগেনা জানিয়ে শরীয়তপুর জেলার আঞ্চলিক পাসপের্ট অফিসের সহকারী পরিচালক মোহাম্মা আনিসুর রহমান বলেন, সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান হিসাবে শরীয়তপুরের ইতোমধ্যে পাসপোর্ট অফিস সুনাম অর্জন করেছে। আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি আমার অফিস চত্বরে এখন কোন দালালের আনাগোনা নেই। তবে কেউ যদি আমাদের অজ্ঞাতসারে কাউকে টাকা দিয়ে সাহায্য নেয় এবং তার শিকার না হয় সে ক্ষেত্রে আমাদের অনেক সময় করার কিছুই থাকে না । আমার অফিসের স্টাফের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ থাকে এবং প্রমানসহ আমাকে দেখানোর অনুরোধ জানাচ্ছি আমি অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্থির নিশ্চয়তা প্রদান করবো । শরীয়তপুর বাসীর প্রতি অনুরোধ থাকবে আপনার ফরম পূরণের কথা বলে কেউ যদি আপনাদের কাছে অতিরিক্ত টাকা চায় টাকা দেবেন না। প্রয়োজনে আমাদের অফিসে এসে কিংবা ওয়েবসাইট ইউটিউবে জেনে পাসপোর্ট করবেন। আপনারা সচেতন হলেই দালালরা দালালি করতে পারবে না এবং আপনাদের অতিরিক্ত টাকা অপচয় হবে না।

Ads
Ads