ঢাবি সাংবাদিক সমিতিতে অস্থিরতার নেপথ্যে যারা!

  • ২-Apr-২০১৯ ১২:২৫ পূর্বাহ্ণ
Ads

:: ভোরের পাতা ডেস্ক ::

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির নির্বাচনে দীর্ঘদিনের প্রথা ভেঙ্গে প্যানেল নির্বাচন দেয়ার সিদ্ধান্তে বিবাদে জড়িয়ে পড়েছে দুটি পক্ষ। এ নিয়ে শনিবার টিএসসিতে উভয় পক্ষের মধ্যে দুই দফা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে সাত দিনের মধ্যে গ্রুপ মিটিং ডেকে প্রথা অনুযায়ী নির্বাচন দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় নির্বাচন কমিশন।

ঢাবি সাংবাদিক সমিতিতে দুটি পক্ষ রয়েছে। একটি পক্ষ গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের এবং অন্য পক্ষ বাকি সব বিভাগে অধ্যয়নরত সমিতির সদস্যদের নিয়ে। দীর্ঘদিন ধরে প্রথা অনুযায়ী নির্বাচনের মাধ্যমে এক বছরের জন্য নতুন কমিটি সাংবাদিক সমিতির দায়িত্ব গ্রহণ করে। প্রথাটি হলো উভয় গ্রুপ থেকে একজন করে দুইজন নেতা (সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক) নির্বাচিত হবেন। দুটি পক্ষই আলাদা নির্বাচনের মাধ্যমে একজনকে নির্বাচিত করেন। পরবর্তীতে নির্বাচিত দুইজন বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক প্রথম বর্ষে ভর্তি হওয়া শিক্ষাবর্ষের ভিত্তিতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব নেন।

প্রতিবছর এই নিয়ম চলে আসলেও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের জন্য ‘গ্রুপ মিটিং’-এর আয়োজন করেননি সমিতির সভাপতি আসিফ ত্বাসিন। সমিতিতে সাংবাদিকতা বিভাগের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সমিতির ৪১ সদস্যের মধ্যে তাদের বিভাগের সদস্য রয়েছে মোট ২০ জন। এই ২০ সদস্যের মধ্যে আসিফের পছন্দের প্রার্থীর সমর্থক রয়েছে মাত্র ৬ জন। বাকি ১৪ জন বাসসর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি মাহদী আল মুহতাসিমকে সমর্থন দিচ্ছে। সমিতির সভাপতি আসিফের পছন্দের প্রার্থী জয়ী হতে পারবে না বলেই গ্রুপ মিটিং করেননি বলে জানান সমিতির সদস্যরা।

এ সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি মাহদী আল মুহতাসিম ও ডেইলি নিউ এইজ’র ঢাবি প্রতিনিধি অরণ্য আরিফের মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে সমিতির সহসভাপতি মীর আরশাদুল হকের নেতৃত্বে বিভিন্ন বিভাগে অধ্যয়নরত সমিতির সদস্যরা মাহদীর ওপর হামলা চালায়। তাকে বাঁচাতে গিয়ে ডেইলি অবজারভারের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি সোহেল তানভীর, বাংলাদেশ প্রতিদিনের নাসিমুল হুদা আহত হন। পরে উভয় পক্ষের মধ্যে আবারও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হলে আরশাদুল হকসহ কয়েকজন আহত হন।

নির্বাচন কমিশনার রিয়াদুল করিম বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিবাদের ফলে ঝামেলা হয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। নির্বাচন কমিশন মনে করে না যে এই মুহূর্তে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ রয়েছে। তাই কমিশন নির্বাচন ৭ দিনের জন্য স্থগিত করছে।

Ads
Ads