১ এপ্রিল থেকে বিদেশি চ্যানেলে দেশি বিজ্ঞাপন বন্ধ: তথ্যমন্ত্রী

  • ৩১-মার্চ-২০১৯ ০৭:৩৯ পূর্বাহ্ণ
Ads

:: ভোরের পাতা ডেস্ক ::

তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বিদেশি চ্যানেলে দেশি বিজ্ঞাপন বন্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। আমার সবাইকে একাধিকবার নোটিশ দিয়েছি এবং রোববারও (৩১ মার্চ) একটি নোটিশ দেওয়া হবে। এরপর ১ এপ্রিল থেকে কেউ যদি বিদেশি চ্যানেলে বিজ্ঞাপন প্রচার করে তবে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতে শনিবার (৩০ মার্চ) দুপুরে ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টার (সম্প্রচার সাংবাদিক কেন্দ্র) আয়োজিত সংকটে বেসরকারি টেলিভিশন শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, আমাদের অন্যতম সমস্যা চ্যানেল বেড়েছে বিজ্ঞাপন বাজার ছোট হয়েছে। এটি গত কয়েক বছরে হয়েছে। অনেকে আবার প্রতিযোগিতার জন্য বিজ্ঞাপন রেটও কমিয়ে দিয়েছে। শুধু এটা নয় অনলাইনে ব্যাপক বিজ্ঞাপন চলে গেছে। ফেসবুক, টুইটার, অনলাইন পত্রিকাগুলোতেও ব্যাপক বিজ্ঞাপন যাচ্ছে যার এটিও একটি কারণ।  
 
তিনি বলেন, এই সংকট থেকে উত্তোরণের বড় ভূমিকা ক্যাবল অপারেটদের। বিদেশি বিজ্ঞাপন না দেখানোর শর্তেই তারা অনুমোদন নিয়েছে। বিদেশি অনেক চ্যানেল বাংলাদেশে জনপ্রিয়। মাল্টি লেভেল কোম্পানিগুলো তাদের প্রচারের স্বার্থে বিদেশি চ্যানেলগুলোকে বিজ্ঞাপন দিচ্ছে। আর এই বিজ্ঞাপনগুলো বন্ধ হয়ে গেলে ৩০০ থেকে ৫০০ কোটি টাকা আয় বাড়বে। আর এই আয় থেকে সংকট উত্তোরণ সম্ভব।

মন্ত্রী বলেন, একটি টিভি চ্যানেল করতে ২৫ থেকে ৩০ কোটি টাকা লাগে। টিভি মালিকরা লাভ করার মানসিকতা নিয়ে সবাই এসেছেন তা নয়। তবে এটার মাধ্যমে খরচটা উঠে আসুক এটাই তারা চান। তাই এই শিল্পটাকে বাঁচানোর স্বার্থে সবাই সহযোগিতা করবেন।

ক্যাবল অপারেটরদের উদ্দেশে তিনি বলেন, টিভি থেকে ৩ কোটি রেভিনিউ আসে। কিছুটা শেয়ার হলে টিভি চ্যানেলগুলো টিকে থাকবে এবং সাংবাদিকদের চাকরির ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

মন্ত্রী বলেন, সবার জন্য একটি চ্যালেঞ্জ এসেছে আইপি টিভি। সেটির কোনো লাইসেন্স দেওয়া হয়নি। আমি বিষয়টিকে তদন্ত করতে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যানকে বলেছি, তারা জানাবে। 

তিনি বলেন, কেউ ৩০ কোটি টাকা খরচ করে চ্যানেল করবেন আর কেউ ১০ লাখ টাকায় চ্যানেল চালু করে দেবেন এটা ঠিক না। আমরা এটির অনুমোদন দেব না তা নয়, এর জন্য নীতিমালা প্রয়োজন। আর নীতিমালা প্রনয়ণে ইতোমধ্যে একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের এই শিল্পটাকে সুরক্ষা দিতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। সেক্ষেত্রে মুনাফায় একটু ছাড় দিয়ে হলেও সবাইকে যৌথ্যভাবে কাজ করতে হবে।

Ads
Ads