এটা দুর্ঘটনা নয় হত্যাকাণ্ড, অপরাধী যত প্রভাবশালী হোক ব্যবস্থা: গণপূর্তমন্ত্রী

  • ২৯-মার্চ-২০১৯ ১১:১১ অপরাহ্ন
Ads

:: ভোরের পাতা ডেস্ক ::

রাজধানীর বনানীর এফআর টাওয়ারে আগুনে নিহতের ঘটনাকে কোনো দুর্ঘটনা নয় বরং এটি গাফিলতির মাধ্যমে সংঘটিত একটি হত্যাকাণ্ড বলে মন্তব্য করেছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম। এ ঘটনার জন্য যারা দায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

শুক্রবার (২৯ মার্চ) সকাল সাড়ে দশটার দিকে এফ আর টাওয়ার পরিদর্শনে আসেন মন্ত্রী। এসময় পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।

পরে উপস্থিত সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে বলেন, এটা কোনো দুর্ঘটনা নয়। বরং গাফিলতির মাধ্যমে হওয়া একটি হত্যাকাণ্ড। আর এর জন্য যারাই দায়ী, তারা যত শক্তিশালী আর প্রভাবশালী হোক না কেন আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, আমাদের কমিটি তদন্ত করছে। ওই কমিটির তদন্ত প্রতিবেদন সবার সামনে প্রকাশ করবো।

গণপূর্তমন্ত্রী বলেন, মন্ত্রণালয় থেকে ছয় সদস্যের একটি তদন্ত কমিট গঠন করা হয়েছে। একজন অতিরিক্ত সচিবকে নেতৃত্ব দেওয়া হয়েছে। তারা স্বল্প সময়ের মধ্যে রিপোর্ট দেবে। রাজউকের পক্ষ থেকেও একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারাও কাজ করছে।

মন্ত্রী বলেন, আমরা তথ্য পেয়েছি, ভবনটি ১৮ তলা নির্মাণের জন্য পাশ হয় ১৯৯৬ সালে। কিন্ত ২০০৫ সালে একটা কপি দাখিল কর হয় যে, ভবনটি ২৩ তলা হয়েছে। সেটাকে সন্দেহ হওয়ার কারণে তদন্ত করা হয়। সেই তদন্তে দেখা যায়, তারা যে কপি দাখিল করেছে, সে সম্পর্কে রাজউকের রেজিস্ট্রারে কোনও তথ্য নেই। কাজেই পরে তারা যে নকশা দাখিল করেছে, সেটা সঠিক নয়। মূল অনুমোদিত নকশার ব্যত্যয় ঘটিয়ে তারা এই ভবন নির্মাণ করেছে।

শ ম রেজাউল করিম বলেন, সেই সময় রাজউকের যে চেয়ারম্যান ছিলেন ও কর্মকর্তা ছিলেন আমরা তাদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি। এই নকশা অনুমোদনের সময় কোনও ব্যত্যয় ঘটেছে কি না ও মূল নকশা ছাড়া এটা তৈরি করা হয়েছে কি না। হয়ে থাকলে এর সঙ্গে যারা জড়িত, সবার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেবো। ঢাকার অন্য ভবন যেগুলো এবাবে নির্মাণ করা হয়েছে, সেগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই ভবনের মালিক একজন প্রকৌশলী। তার বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, যেসব প্রকৌশলী এই ভবন নির্মাণের সঙ্গে জড়িত, তাদের লাইসেন্স বাতিল করা হবে। তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করা হবে এবং প্রয়োজনে এই ইমারত ভেঙে ফেলা হবে।

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) ২৩ তলাবিশিষ্ট বনানীর এফ আর টাওয়ারের ওই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ২৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৪ জনকে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজসহ রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি আছেন ৫৯ জন।

Ads
Ads