রানীশংকৈলে ভিক্ষুকের ভালবাসাতে সাজানো একটি পরিচিত নাম ‘জাহাঙ্গীর’

  • ২৮-মার্চ-২০১৯ ০৮:৫৯ পূর্বাহ্ণ
Ads

:: সফিকুল ইসলাম শিল্পী, ঠাকুরগাঁও ::

সেদিন সকালে চায়ের দোকানে চা খাবো ভেবে জাহাঙ্গীরের দোকানে দাঁড়াতেই চোঁখে পড়ে প্রায় বেশ কিছু নানান বয়সী মানুষ ।কিছু ভাববার আগেই পাশ থেকে কে যেন বললেন, ক্ছিু সময় অপেক্ষা করতে হবে। অপেক্ষা কেন? এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে জানতে পারলাম, ‘ভিক্ষুকদের ভালবাসার পরিচিত এক নাম জাহাঙ্গীর’।

পৃথিবীতে প্রতিটি মানুষ খুঁজে ¯েœহ এবং ভালবাসা। বিশেষ করে অসহায় মানুষ গুলো প্রতিনিয়ত খুঁজে চলে সহযোগিতা পাওয়ার অতি সামান্যতম ঠায় । আর সে অসহায় মানুষ প্রেমী  জাহাঙ্গীর ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলের শিবদীঘি রেজিষ্ট্রি অফিসের সামনে মেইন রস্তার ধারে চা দোকান্দার  সে  বিশস্ত এবং ভাল একজন লোক। আসে পাশের অনেকেই বললেন এমন কথা। মানবতার স্পর্শকাতর  মানবিক কিছু বিষয় লোক সমাজে ভাববার মতই ।যদিও ছোট্র একটি বিষয় কিন্তু সেটা যে মানবসেবা। জানার ইচ্ছা গুলো ক্রমশঃ বেড়ে গেল আমার।

আর পাশে চা খেতে খেতে একজন বৃদ্ধা বললেন , ‘বাবা! আমরা প্রতিদিন শ’খানেক মানুষ এই জাহাঙ্গীরের  দোকানে চা খেয়ে মানুষের দোয়ারে যাই। আমাদের যাত্রা ভাল হয় বাবা । প্রতি বুধবার আমাদের  সকাল বেলায় ঘুম থেকে ওঠেই আমাদের জাহাঙ্গীর দোকানে দেখবার পাবেন। এই পোলাডা খুব ভাল’ । স্বভাবতই আমার আগ্রহ বেড়ে গেল। খোঁজ নিয়ে জানতে পারলাম, এই ভিক্ষুসেবার কাজটি জাহাঙ্গীর শুরু করেন গত কয়েক বছর ধরেই । নিজের বাড়িতে নানান ‘ফেরা কাটে’ যায়। একদিন ভেবে চিন্তে নিজেই চিন্তা করে প্রতিবুধ বার ভিক্ষুকদের সকালের চা নাস্তা খাওয়াবেন।

সেদিন থেকেই যাত্রা শুরু হলো ‘ভিক্ষুকদের সকালের নাস্তা বলতে ‘চা -বিস্কুট’ খাওয়ানোর যাত্রা। থেমে নেই আজ অবধি এই মানব প্রেমি মানুষটির মানবতা। পাশের পান দোকানদার হালিম সে কথাই বললেন।‘দীর্ঘ দিন আমিও এটা দেখে আসছি’। বুধবার সকাল বেলাটা গরীব মানুষের ভীর জমে এখানে । বুধবার সকালেই শুরু হয় এবং চলে সকাল ১১ টা পর্যন্ত ।

অসহায় দূঃস্থ মানুষের পাশে জাহাঙ্গীরকে যে সময় এবং অর্থ যোগান দিতে হয় তা সত্যিই বর্তমান সমাজে এক অন্যরকম একটি মহৎ ভ’মিকা রাখে। পাশের একজন বলে ওঠেন, ‘রানীশংকৈলের অনেক উচ্চবৃত্তদের দ্বারাও সম্ভবপর হয়ে ওঠেনি’। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ভিক্ষু প্রেমী জাহাঙ্গীর এর এক ছেলে রংপুরে বঙ্গবন্ধু কলেজে পড়ালেখা করে । আর একমাত্র মেয়ে পালিয়ে বিয়ে করে সংসার করছে। বউ ময়না দুপুরের খাবার  মোড়ানো কাপড়ে পটুলার মধ্যে টিফিনকরে  নিয়ে আসেন।স্বামীর প্রতি তার অতি  ভালবাসা!

জাহাঙ্গীরের স্ত্রী ময়না বলেন , ‘এ লোকদের খাওয়াতে প্রতিবুধবার হাজার পনেরো শত টাকার মত খরচ হলেও আমি এ বিষয়ে আমার স্বামীকে কিছুই বলিনা। আল্লাহই আমাদের চালাইয়া নেন’!

এক সময় কথাবলতে গিয়ে দোকান্দার জাহাঙ্গীর বলেন, ‘এই গরীবদের একটু আটডু খাওয়াই। সকালবেলা অনেকেই না খেয়ে সাহয্য পাওয়ার আসায় বাড়ি থেকে বের হয়। তাদের না খেতে না দিলে আমার মনে কষ্ট লাগে’।  বাংলাদেশের উত্তরের একটি মফস্বল শহরে নিবেদিত হয়ে দোকান্দার জাহাঙ্গীর এমন একটি মহান সেবাকে বুকে লালন করে চলেছেন তা আমাদের সমাজে খুঁজে পাওয়া সত্যিই দূরহ।

Ads
Ads