সেমি-অটোমেটিক ও অ্যাসল্ট রাইফেল নিষিদ্ধ করে দিচ্ছে নিউজিল্যান্ড

  • ২১-মার্চ-২০১৯ ১১:১৩ অপরাহ্ন
Ads

:: ভোরের পাতা ডেস্ক ::

ক্রাইস্টচার্চে দুটি মসজিদে খ্রিষ্টান সন্ত্রাসীর বন্দুক হামলার ঘটনার পর দুই ধরনের অস্ত্র নিষিদ্ধ করে দিচ্ছে নিউজিল্যান্ড। সন্ত্রাসী ব্রেন্টন টারান্ট সামরিক বাহিনীর ব্যবহৃত সেমি-অটোমেটিক এবং অ্যাসাল্ট রাইফেল দিয়ে ওই হামলা চালিয়েছিলেন। একারণে এই দুই অস্ত্র নিষিদ্ধ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আর্ডার্ন।

বৃহস্পতিবার (২১ মার্চ) প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভয়াবহতম এই ঘটনার ছয় দিন পর এখন আমরা ঘোষণা করছি আমরা মিলিটারি টাইপ সব ধরনের সেমি-অটোমেটিক (আধা-স্বয়ংক্রিয়) (এমএসএসএ) ও অ্যাসল্ট রাইফেল নিউজিল্যান্ডে নিষিদ্ধ হবে। আগামী ১১ এপ্রিল এ-সংক্রান্ত নতুন আইন উপস্থাপন করা হবে। 

উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ম্যাগাজিন এবং বন্দুককে স্বয়ংক্রিয়ে রূপান্তর করতে সহায়তা করে এমন উপাদানও নিষিদ্ধের কথা জানান নিউজিল্যান্ডের সরকারপ্রধান। 

তিনি বলেন, আমাদের কর্মকর্তারা আনুমানিক হিসাব করেছেন, এসব অস্ত্র নিষিদ্ধ করা হলে ১০০ মিলিয়ন ডলার বা ২০০ মিলিয়ন ডলারেও বেশি ‘বাই-ব্যাক’ খরচ হতে পারে। তারপরও আমাদের সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা অবশ্যই এটা করবো।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি নিউজিল্যান্ডে বৈধ বন্দুক মালিকদের অনেকেই বুঝতে পারবেন যে, আমাদের এই পদক্ষেপগুলো জাতীয় স্বার্থে নেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার স্থানীয় সময় দুপুর দেড়টার দিকে ক্রাইস্টচার্চে ডিনস অ্যাভ মসজিদ ও লিনউড মসজিদে এবং আরেকটি স্থানে সন্ত্রাসী হামলা চালান ব্রেন্টন ট্যারেন্ট। এতে ৫০ জন নিহত হন। তবে বর্বরোচিত হামলা থেকে অল্পের জন্য বেঁচে যান দেশটিতে সফররত বাংলাদেশ জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা।

ওই ব্যক্তি হামলার সময় মোট পাঁচটি অস্ত্র ব্যবহার করে। তার মধ্যে দুটি আধা-স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র ও দুটি শটগান। এসব অস্ত্র সে অনলাইনে কিনেছিল। ঘটনার পর পরই সরকারের পক্ষ থেকে অস্ত্র আইন পরিবর্তনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। সেই পরিপ্রেক্ষিতে গত সোমবার মন্ত্রিপরিষদ অস্ত্র আইন পরিবর্তনের ব্যাপারে ‘নীতিগতভাবে সম্মত’ হয়।

এদিকে, ঘটনার পরদিনই ব্রেন্টনকে হত্যা মামলায় অভিযুক্ত করে পুলিশি হেফাজতে রিমান্ডে নেওয়া হয়। আগামী ০৫ এপ্রিল দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের উচ্চ আদালতে তাকে আবার হাজির করা হবে।

Ads
Ads