কাঁদলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

  • ১৮-মার্চ-২০১৯ ০৫:৫৬ পূর্বাহ্ণ
Ads

ফাইল ছবি 

:: ভোরের পাতা ডেস্ক ::

বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শিশুদের জন্য একটি সুন্দর বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ার চেষ্টা করে যাচ্ছি। শিশুরা আমাদের ভবিষ্যৎ। বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে আজকের শিশুরা আগামীতে দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে। আগামীতে দেশের নেতৃত্ব দেবে তারা।

রোববার (১৭ মার্চ) গোপালগঞ্জের টুঙ্গীপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ৯৯তম জন্মবার্ষিকী এবং জাতীয় শিশু দিবস-২০১৯ উপলক্ষে শিশু-কিশোরদের সঙ্গে এক অনুষ্ঠানে কাঁদলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুর ছোট মেয়ে শেখ রেহানাও উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিশুরা যাতে আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারে, শিক্ষা ও খেলাধুলায় পারদর্শী হয়ে ওঠে সেদিকে দৃষ্টি রয়েছে আমাদের। বঙ্গবন্ধু যেভাবে দেশটা গড়তে চেয়েছেন ঠিক তার স্বপ্নের দেশ গড়তে কাজ করছি।

কবি সুকান্তের ‘ছাড়পত্র’ কবিতার কয়েকটি লাইন উদ্বৃত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সুকান্তের ভাষায় বলতে চাই-
‘‘চলে যাব— তবু আজ যতক্ষণ দেহে আছে প্রাণ
প্রাণপণে পৃথিবীর সরাব জঞ্জাল,
এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য ক’রে যাব আমি—
নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।’’

বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, মাত্র সাড়ে তিন বছর দেশ পরিচালনার সময় পেয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু। এরই মধ্যে শিশুদের জন্য প্রাথমিক শিক্ষাকে অবৈতনিক করেছিলেন তিনি। মাধ্যমিক পর্যন্ত তিনি মেয়েদের শিক্ষা অবৈতনিক করেন। বঙ্গবন্ধু অনেক দূরদর্শী ছিলেন। ১৯৭৪ সালে শিশুদের অধিকার সংরক্ষণে আইন প্রণয়ন করেন। জাতিসংঘ শিশুদের জন্য তখনও কোনো আইন করেনি। জাতিসংঘ ১৯৮৯ সালে শিশুদের জন্য আইন করেছে। পরবর্তীতে ২০১১ সালে বঙ্গবন্ধুর সেই উদ্দেশ্যের আলোকে আমরা জাতীয় শিশু নীতি প্রণয়ন করি। শিশুর অধিকার সুরক্ষার পাশাপাশি ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে শিশুদের পরিচয় করে দিচ্ছি আমরা।

শিশুদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা একেবারে তৃণমূল পর্যায় থেকে দেশের সব শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে বই দিচ্ছি। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিশুদের ব্রেইল বইয়ের ব্যবস্থা করেছি। মোবাইলের মাধ্যমে উপবৃত্তির টাকা পৌঁছে দিচ্ছি। স্কুলে টিফিনের ব্যবস্থা করেছি। মেয়েদের জন্য সুব্যবস্থা করেছি, যাতে আমাদের মেয়েরা মানুষের মতো মানুষ হয়।

নিজের জীবনটাকে দেশ ও জনগণের জন্য উৎসর্গ করার কথা পুর্নব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, পঁচাত্তরে সবাইকে হারানোর পর সমৃদ্ধ-উন্নত দেশ গড়তে বাবার স্বপ্ন পূরণ করতে ফিরে এসেছি। সেই সিদ্ধান্তের ওপরই আজো পথ চলছি।

পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট দেশের বাইরে থাকায় প্রাণে বেঁচে যাওয়া এবং পরবর্তীতে বাধার মুখে দেশে ফিরে আসার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘মানুষের জীবন ক্ষণস্থায়ী। আমি যখন বাংলাদেশে ফিরে আসি, আমি জানতাম যেকোনো সময় হয়তো আমার বাবার মতো ভাগ্য আমাকে বরণ করতে হবে। কিন্তু কখনও আমি মৃত্যু ভয়ে ভীত হইনি।’

‘সব সময় একটা কথা চিন্তা করেছি, আমাকে কাজ করতে হবে। আমার বাবার স্বপ্ন পূরণ করতে হবে। সেই সিদ্ধান্ত নিয়েই আমি আজো পথ চলছি।’ 

বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, আজকে আমাদের লক্ষ্য তিনি (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান) যেভাবে উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ দেখতে চেয়েছিলেন সেই বাংলাদেশ গড়ে তোলা। সেই লক্ষ্য নিয়েই আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

১৫ আগস্টে হারানো স্বজন ও সেই দিনকার হৃদয়বিদারক ঘটনার কথা তুলে ধরে বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, ‘যখন বিদেশে গিয়েছিলাম তখন বিমানবন্দরে সকলে বিদায় দিয়েছিল। কিন্তু ফিরে এসে কাউকে পাইনি। পেয়েছিলাম বনানীতে এক সারি কবর, আর পেয়েছিলাম এখানে টুঙ্গীপাড়ায় আমার দাদা-দাদির কবরের পাশে শুয়ে আছে আমার বাবা।’
 
‘আমারও প্রতিজ্ঞা ছিল বাবার স্বপ্ন পূরণ করে এই বাংলাদেশকে উন্নত করে গড়ে তুলবো।’
 
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি তিন ভাই হারিয়েছি, পেয়েছি লাখো ভাই। কাজেই আমার জীবনটাও আমি উৎসর্গ করেছি। আমরা দুটি বোন আমরা সব কিছু উৎসর্গ করে দিয়েছি জনগণের জন্য, জনগণের কল্যাণে। দেশের মানুষ যদি ভালো থাকে উন্নত জীবন পায় সেটাই আমাদের সবচেয়ে বড় পাওয়া।’
 
‘আর সে কারণেই আমরা দেশের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। এই বাংলাদেশকে গড়ে তুলবো উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে, যেন আজকের শিশু আগামী দিনে সুন্দর একটা ভবিষ্যত পায়, সুন্দর একটা জীবন পায়। সেই লক্ষ্য সামনে রেখেই কাজ করে যাচ্ছি।’

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৯তম জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে এ সভার আয়োজন করা হয়। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন শিশু প্রতিনিধি লামিয়া সিকদার।

 

/কে 

Ads
Ads