নিউজিল্যান্ডে দুই মসজিদে হামলায় নিহত বেড়ে ৪৯

  • ১৫-মার্চ-২০১৯ ০২:০৭ অপরাহ্ন
Ads

:: ভোরের পাতা ডেস্ক ::

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে দুটি মসজিদে জুমার নামাজের সময় বন্দুকধারীর হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪৯ হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় পুলিশ কমিশনার মাইক বুশ।

শুক্রবার (১৫ মার্চ) স্থানীয় সময় বেলা ১টা ৩০ মিনিটে ক্রাইস্টচার্চে হ্যাগলি ওভাল মাঠের খুব কাছে অবস্থিত ডিনস অ্যাভ মসজিদ ও লিনউড মসজিদে এবং আরেকটি স্থানে এ হামলা হয়।

নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আর্ডডার্ন প্রথমে ৪০ জনের প্রাণহানির কথা জানান। পরে স্থানীয় পুলিশ কমিশনার মাইক বুশ জানান, এই ঘটনায় ৪৯ জন নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে ডিনস অ্যাভ মসজিদে প্রাণ হারিয়েছেন ৪১ জন। আর লিনউড মসজিদে প্রাণ হারিয়েছেন ৭ জন। আহতদের নিকটস্থ হাসপাতালে ভর্তি করানোর পর সেখানে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে।

হামলায় আহত অন্তত ৪৮ জন ক্রাইস্টচার্চ হাসপাতাল চিকিৎসাধীন আছেন বলে নিশ্চিত করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। আহতদের মধ্যে শিশুরাও রয়েছে।

হাসপাতাল থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে খুব জরুরি না হলে লোকজনকে আহতদের দেখতে হাসপতালে না আসার অনুরোধ জানানো হয়েছে। এরই মধ্যে দুই শতাধিক মানুষ হাসপাতালে ভিড় জমিয়েছে।

মসজিদে হামলার এ ঘটনাকে ‘নজিরবিহীন’ এবং ‘সন্ত্রাসী হামলা’ বলে বর্ণনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী অ’ডুর্ন। তিনি বলেন, নিশ্চিত ভাবেই পরিকল্পনা করে এ হামলা চালানো হয়েছে।

হামলার পর শোক প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী অ’ডুর্ন বলেন, এটা নিউ জিল্যান্ডের অন্ধকারতম দিনগুলোর একটি। এখানে যে ঘটনা ঘটেছে সেটা পরিষ্কার ভাবেই অস্বাভাবিক এবং অপ্রত্যাশিত নৃশংসতা।

এই ঘটনায় নিউজিল্যান্ডের পাশের দেশ অস্ট্রেলিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার এম সুফিউর রহমান জানান, নিহতদের মধ্যে দুই বাংলাদেশিও রয়েছেন। 

এদের একজন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. আবদুস সামাদ বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, নামাজ শুরুর ঠিক ১০ মিনিট পর অন্তত দুই বন্দুকধারী দু’টি মসজিদে গিয়ে সেজদারত মুসল্লিদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালায়। এরপর তারা জানালার কাচ ভেঙে হামলাকারী পালিয়ে যায়। উভয় মসজিদেই ৩শ’ মুসল্লি উপস্থিত ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলাকারী দু’জন সামরিক পোশাক পরে মসজিদ দু’টিতে ঢোকে। এরপর স্বয়ংক্রিয় রাইফেল তাক করে নির্বিচারে গুলি করতে থাকে। একজন হামলাকারী তার মাথায় ক্যামেরা স্থাপন করে তা লাইভস্ট্রিম করে। হামলার ভয়াবহতা ভিডিও গেমসের চেয়েও বর্বরোচিত মনে হয়েছে অনেকের কাছে। 

এদিকে মসজিদের কাছেই মাঠে অনুশীলন করছিলেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। অনুশীলন শেষে তারা মসজিদটিতে জুমার নামাজ পড়তে যাচ্ছিলেন। খেলোয়াড়রা সেখানে গিয়ে শুনতে পান মসজিদে সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে। এরপর তারা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে মাঠের দিকে চলে যান। সেসময় তাদের সঙ্গে কোনো নিরাপত্তা প্রহরা ছিল না।

ক্রাইস্টচার্চের হ্যাগলি ওভাল মাঠে শনিবার (১৬ মার্চ ) বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ডের তৃতীয় টেস্ট শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে হামলার কারণে সে ম্যাচ বাতিল করা হয়েছে।

হামলার পর টুইটার বার্তায় নিজেদের নিরাপদ থাকার ব্যাপারটি নিশ্চিত করেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের খেলোয়াড় তামিম ইকবাল ও মুশফিকুর রহিম।

দুই মসজিদে হামলায় জড়িত সন্দেহে চারজনকে আটক করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে তিনজন পুরুষ এবং একজন নারী বলে জানান পুলিশ কমিশনার মাইক বুশ।

গ্রেপ্তার ২০ বছরের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে জানিয়ে বুশ বলেন, শনিবার তাকে আদালতে উপস্থাপন করা হবে।

হামলায় জড়ি সন্দেহে আটক এক ব্যক্তি অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক বলে নিশ্চিত করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন। তিনি বলেন, সন্দেহভাজন হামলাকারী ‘একজন চরম ডানপন্থি নৃশংস সন্ত্রাসী’।

এক হামলাকারীর নাম ব্রেন্টন ট্যারেন্ট। ২৮ বছর বয়সী অস্ট্রেলিয়ান বংশোদ্ভূত এই হামলাকারী শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদের মৌলবাদী মানসিকতার লোক ছিল বলে জানা গেছে।

দুই মসজিদে হামলার পর ক্রাইস্টচার্চ কর্তৃপক্ষ নগরীর সব মসজিদ পরবর্তী নোটিস না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। নগরীর সব স্কুলও বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

Ads
Ads