প্রাথমিক সম্মতিপত্র পেল নতুন দুই ব্যাংক

  • ১১-মার্চ-২০১৯ ০৫:৪৭ পূর্বাহ্ণ
Ads

 

:: ভোরের পাতা ডেস্ক ::

লাইসেন্সের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে প্রাথমিক সম্মতিপত্র (এলওআই বা লেটার অব ইনটেন্ট) পেয়েছে বাংলাদেশের নতুন দুটি বেসরকারি ব্যাংক। খুব তাড়াতাড়ি কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে এই দুটি ব্যাংক। ব্যাংক দুটি হলো বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক এবং সিটিজেন ব্যাংক। এলওআই পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে পিপলস ব্যাংক।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম। তিনি গণমাধ্যমকে জানান, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলাদেশ ব্যাংকের বোর্ড সভায় তিনটি ব্যাংককে অনুমোদন দেয়ার সিন্ধান্ত হয়। এর মধ্যে গত সপ্তাহে বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক এবং সিটিজেন ব্যাংককে এলওআই বা সম্মতিপত্র দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। পিপলস ব্যাংকের এলওআই দেয়া হয়নি। কারণ ব্যাংকটির প্রস্তাবিত উদ্যোক্তা চেয়ারম্যান এম এ কাশেমের বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগ রয়েছে। এটি যাচাই-বাছাই করার পর তাদের এলওআই দেয়া হবে।

জানা গেছে, এলওআই দেয়ার সময় ব্যাংকগুলোকে কিছু শর্ত দেয়া হয়েছে। এগুলো বাস্তবায়ন করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জানালে এরপরই পরিপূর্ণভাবে কার্যক্রম শুরুর অনুমোদন দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক।

সূত্র জানায়, নতুন তিন ব্যাংকের মধ্যে বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক পেতে আবেদন করেছিলেন বেঙ্গল গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন। নোয়াখালী-২ আসনে আওয়ামী লীগের দলীয় সংসদ সদস্য মোরশেদ আলম বেঙ্গল গ্রুপের চেয়ারম্যান ও মার্কেন্টাইল ব্যাংকের পরিচালক।

প্রস্তাবিত এই ব্যাংকটির পরিচালক হিসেবে রয়েছেন চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মাহবুবুল আলম, ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দিলীপ কুমার আগারওয়াল, পোশাক খাতের ব্যবসায়ী সাহাবুদ্দিন, চট্টগ্রামের কেডিএস গ্রুপ ও ম্যাক্স গ্রুপ, পোশাক খাতের লাবিব ও শারমিন গ্রুপসহ আরও কয়েকজন ব্যবসায়ী।

আর সিটিজেন ব্যাংক পেতে আবেদন করেছিলেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের মা জাহানারা হক। এছাড়া পিপলস ব্যাংক পেতে আবেদন করেছিলেন প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতা এমএ কাশেম। চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে তার বাড়ি। যুক্তরাষ্ট্রে তার ব্যবসা রয়েছে বলে দাবি করলেও এসংক্রান্ত পর্যাপ্ত নথিপত্র কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা দিতে পারেননি।

এর আগে এক পর্ষদ সভা শেষে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছিল, এমএ কাশেমের সম্পদের হিসাব পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক সত্যায়িত হয়ে আসতে হবে। এসব ব্যাংককে দুই বছরের মধ্যে পরিশোধিত মূলধন ৫০০ কোটি টাকায় উন্নীত করতে হবে। অনুমোদন পর্যায়ে ব্যাংকগুলোর পরিশোধিত মূলধন ৪০০ কোটি টাকা করে।

২০০৯ থেকে মহাজোট সরকারের তিন মেয়াদে এখন পর্যন্ত ১৪টি বেসরকারি ব্যাংকের প্রাথমিকসহ চূড়ান্ত অনুমোদন দিল বাংলাদেশ ব্যাংক। আওয়ামী লীগের নেতাদের পাশাপাশি নতুন ব্যাংক পেয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও বাংলাদেশ পুলিশও। নতুন তিন ব্যাংকের অনুমোদনের ফলে দেশে মোট সরকারি-বেসরকারি তফসিলি ব্যাংকের সংখ্যা দাঁড়াবে ৬২টিতে। এর মধ্যে অর্ধেকের বেশি ব্যাংক রয়েছে নাজুক অবস্থায়।

বাংলাদেশে বেসরকারি খাতের ব্যাংকের কার্যক্রম শুরু হয় ১৯৮৩ সালে। এরশাদ সরকারের মেয়াদে (১৯৮২-৯০) ৯টি ব্যাংক অনুমোদন পায়। ১৯৯১-৯৬ সালে বিএনপি সরকারের সময় নতুন ৮টি ব্যাংক অনুমোদন পায়। আওয়ামী লীগ সরকারের ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে অনুমোদন পায় ১৩ ব্যাংক। আর ২০০৯ থেকে এখন পর্যন্ত তিন মেয়াদে ১৪টি ব্যাংকের প্রাথমিকসহ চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। সব মিলিয়ে বেসরকারি খাতে ব্যাংকের সংখ্যা দাঁড়াবে ৪৪টিতে।

Ads
Ads