পুলিশ বিনা অপরাধে কাউকে গুলি করে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

  • ১০-মার্চ-২০১৯ ০৫:১০ পূর্বাহ্ণ
Ads

:: ভোরের পাতা ডেস্ক ::

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, পুলিশ বিনা অপরাধে কাউকে গুলি করে না। আপনারা জানেন, যেখানে মাদক বেচাকেনা রয়েছে, সেখানেই অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার। মাদকবিক্রেতাদের খুঁজছে আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী, তাদের কাছাকাছি গেলেই অস্ত্রের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। সেই সন্ত্রাসীরা ফায়ার ওপেন করলেই আমাদের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি করেন।

শনিবার (৯ মার্চ) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বিজি প্রেস মাঠে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর আয়োজিত ‘মাদকবিরোধী সমাবেশে’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাদকবিক্রেতাদের মধ্যে যারা আত্মসমর্পণ করতে চান তাদেরকে আইনি সহায়তা দেওয়া হবে। পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে। অন্যথায় তালিকা ধরে দেশজুড়ে মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে, তাদের জেলখানায় যেতেই হবে। আর অস্ত্রের ব্যবহার করলে তার কী পরিণতি হবে, সেটা বুঝতেই পারছেন।

মাদকবিক্রেতাদের তালিকা তৈরি করার কথা জানিয়ে কামাল বলেন, দেশজুড়ে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। আশা করবো, মাদকবিক্রেতারা তওবা করে ব্যবসা ছেড়ে দেবেন। নয়তো আমাদের ব্যবস্থা চলতেই থাকবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করেছেন জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী যা বলেন তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করেন। মাদককে আমরা নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসবো, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আমরা যে কোনো মূল্যে রক্ষা করবো।

তিনি আরও বলেন, আমরা ‘জিরো টলারেন্স’র কথা বলেই বসে নেই। প্রত্যেক জেলায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরে অফিস করা হয়েছে। আমরা আইন পরিবর্তন করেছি। যেখানে মাদক দেখছে সেখানেই মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিজিবিকে শক্তিশালী করা হয়েছে। সীমান্ত এলাকা দিয়ে যেন ইয়াবা প্রবেশ করতে না পারে সেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কোস্ট গার্ডকেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তারপরেও ইয়াবা প্রবেশ করছে। আমরা মাদকের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধ ঘোষণা করেছি। মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে চাই।

অবস্থাসম্পন্ন যুবসমাজ ‘সিসা বার’র দিকে ঝুঁকে পড়ছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সিসার সঙ্গে তারা ইয়াবা সেবন করছে। তাই সিসা বারগুলোকেও নিয়ন্ত্রণে আনার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আমাদের কারাগারে ৩৫ হাজার ধারণ ক্ষমতা। অথচ আছে ৯৫ হাজার কয়েদি। এই কয়েদিদের অধিকাংশই মাদক সংশ্লিষ্ট মামলায় গ্রেফতার। কঠোরতার কারণেই আজ মাদকসেবী, মাদক ব্যবসায়ী ও মাদক কারবারিদের জায়গা কারাগারে।

ছাত্রদের উদ্দেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন: তোমরা ছাত্র যুবকরা মাদককে না বলবে, মাদক বিক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের ধরিয়ে দেবে। আমরা তালিকা করেছি, কাউকে ছাড়বো না। ব্যবসা না ছাড়া পর্যন্ত আমাদের অভিযান চলবে।

তিনি বলেন, মাদকের ব্যাপারে যারা তথ্য দিচ্ছেন, তাদের পুরস্কৃত করা হচ্ছে। বাবা-মা যেমন জঙ্গি সন্তানকে ধরিয়ে দিয়েছিল, তেমনি মাদকাসক্ত সন্তানকে নিয়ে আসুন। আসুন আমরা ঘুরে দাঁড়াই মাদকের বিরুদ্ধে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও বর্তমানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি শামসুল হক টুকু বলেন, যুব সমাজ ছাত্র সমাজ দৃঢ় প্রত্যয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিল। আজ যুব সমাজের বড় অংশ মাদকাসক্ত। তাদের জন্য আমরা কি করতে পেরেছি? আমাদের সন্তানরা যেন মাদকাসক্ত না হয়, মাদক নেয় কিনা খোঁজ রাখা, খেয়াল রাখা।

তিনি বলেন, রাজনীতিবিদরা রাজনীতি করি দেশের জন্য, মানুষের জন্য। মাদক বিরোধী অবস্থান নিয়েও আমাদের সকল রাজনীতিবিদের কাজ করতে হবে। মাদকমুক্ত নের্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে হবে। মাদক ব্যবসায়ীমুক্ত নের্তৃত্ব যদি প্রতিষ্ঠা করতে পারি তাহলে মাদকের বিরুদ্ধে যে যুদ্ধ তা অনেকটা সফল হবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের মহাপরিচালক (ডিজি) জামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর এখন আর ঠুটো জগন্নাথ নেই। জনবল দ্বিগুন করেছেন ৩২২২ জন জনবল করা হয়েছে। আগে কখনো পায়ে হেঁটেও মাদকবিরোধী অভিযানে যেতো কর্মকর্তারা। এখন প্রত্যেক জেলায় কর্মকর্তাদের জন্য গাড়ি দেয়া হয়েছে। যে কারণে কাজে গতি ফিরেছে।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধি মোসাদ্দেক মো. আবুল কালাম, কাউন্সিলর মুন্সি কামরুজ্জামান কাজল, মনো চিকিৎসক মোহিত কামাল, মানসের অধ্যাপক অরুপ রতন চৌধুরী।

Ads
Ads