আবেগ অনুভূতির বিসর্জন

  • ৭-মার্চ-২০১৯ ০৮:২২ পূর্বাহ্ণ
Ads

তরিকুল ইসলাম

আমাকে এখনি একটু যেতে হবে জান। কে ফোন করেছে?বড় ভাই ,কোন বড় ভাই?আমি যার সাথে রাজনীতি করি সেই বড় ভাই। আজ আমার জন্মদিন আর তুমি এসেই চলে যাবে,তাহলে তুমি আসলে কেনো ইত্যাদি ইত্যাদি। এগুলো দুজন প্রেমিক প্রেমিকার কথপকোথন। এভাবেই প্রেমিকার সাথে ঝগড়া করে প্রেমিকাকে চলে আসতে হলো।দৌড়ে দৌড়ে বড় ভাইয়ের কাছে পৌছানোর পর দেখা গেলো বড় ভাই তার ব্যক্তিগত কোন এক কাজে তাকে পাঠালো। আর এসব শুরু হলো যখন ঐ বড় ভাইয়ের সাথে পরিচয় হলো তখন থেকে।বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের কথা না হয় বলা যাক। প্রথম বর্ষে ভর্তির পর কোন একভাবে পরিচয় রাজনৈতিক বড় ভাইদের সাথে। তখনই সে পরে যায় একটি বলয়ের মধ্যে। প্রথম দিকে এত ভালোবাসা পায় যেটা সে তার নিজের ভাইদের কাছ থেকেও পায় না। এক বছর শেষ হলো আবার নতুন ব্যাচ এলো আগের ব্যাচের ভালোবাসা কমতে শুরু হলো।

এভাবে এক সময় বড় ভাইয়ের মন জয় করতে শুরু হলো না প্রচেষ্টা।এভাবে চলতে চলতে কোনো এক ফাঁকে কোনো এক মেয়ের সাথে হয়ে গেল প্রেম। কিন্তু প্রেম আর প্রেমের মত করে করা হয়ে ওঠে না। কারন ঐ রাজনীতি আর রাজনৈতিক বড় ভাই। পহেলা ফাগুনের আগের রাতে কথা হয়েছিলো দুজন মিলে ঘুরে বেড়াবে। সকালবেলা ফোন এলো শোন ক্যাম্পাসে আয় ভাই আসতে বলছে। ঠিক সময় মত প্রেমিকার ফোন কই তুমি এখনো আসোনাই কেন, তুমি কোথায়? গম্ভির ভাবে বলছে আমিতো ক্যাম্পাসে ভাই আসতে বলছে। ওপাশ থেকে বলছে আমি রেডি,আমি তাহলে কি করবো? তুমি একটু অপেক্ষা করো দেখি কি করা যায়। আবার শুরু হলো ঝগড়া যা থামাতে লেগে গেলো দুইদিন।ওদিকে বাড়ি থেকে মা বার বার ফোন করে বাপ বাড়ি এসে একটু বেড়ায় যা কতদিন হলো বাড়ি আসিস না। মা আমিতো একটু ব্যস্ত কিছুদিন পর একটু ফ্রি হয়ে আসবোনি । তোর কিসের এত ব্যস্ততা পরীক্ষা না শেষ? হা মা কিন্তু সামনে তো কমিটি দিবে তাই ভাইয়ের সাথে একটু সময় দিতে হচ্ছে।

বোনের ফোন, কিরে ভাই ভার্সিটিতে ভর্তি হবার পর তুই এতোই ব্যস্ত হয়ে গেলি যে একদিনের জন্যেও একটু বেড়াতে আসতে পারিস না। এদিকে তোর ভাগিনী সারাক্ষন মামা,মামা করে। আয় ভাই আয় একদিনের জন্য একটু ঘুরে যা। আপা আমি এখন একটু ব্যস্ত সামনে ভাইয়ের কমিটি দিবে তাই ভাইয়ের সাথে একটু সময় দেওয়া লাগতেছে ।কিছুদিনের মধ্যে দেখি আসতেছি । নানির ফোন,কিরে কেমন আছিস?তোরে খুব দেখতে ইচ্ছে করতেছে,শরীরটাও ভালো না কয়েক দিন ধরে কেমন যেন দূর্বল হয়ে গেছি,কখনকি মরে টরে যাই আয়রে নানু ভাই একটু দেখা দিয়ে যা। তোমার কিছু হবে না নানু তুমি ভালো হয়ে যাবা। আমি কয়েক দিনের মধ্যে আসতেছি। কিন্তু নানী বেচে থাকতে আর যাওয়া হলো না। এভাবে কত আত্মীয়ের কত অনুষ্ঠানে যে যাওয়া হয় না,অনেক আত্মীয়র বাড়ির পথও ভূলে যেতে হয়। এদিকে নিত্য ছাড়াছাড়ির মধ্য দিয়ে প্রেমিকার মাস্টার্স শেষের দিকে। প্রতি নিয়ত শুনতে হয় বাড়ি থেকে ছেলে দেখছে তুমি কিছু একটা করো,কিছু একটা কর।  কোনো চাকরির পরীক্ষায় তো টিকো না,টিকবেই বা কিভাবে পড়াশুনতো করো না। কোনোভাবে বুঝবাঝ দিয়ে রাখে করতেছি করবানি বলে।ইদের ছুটিতে বাড়ি যাবার আগে প্রেমিকার   সাথে দেখা করতে গিয়ে প্রেমিক গল্প করছে জানো আমাদের এক বড়ভাই বিয়ে করবে কিন্তু ভালো মেয়ে পাচ্ছে না।

রাজনীতি করে শুনে ভালো কোন মেয়ের পরিবার রাজি হয় না।ইদের দুইদিন পর নিজের প্রেমিকার ফোন,হ্যালো তুমি কেমন আছো?ভালো তুমি কেমন আছো?আমি ভালো নাই। কেন কি হয়েছে? গতদিন এক ইন্জিনিয়ায় ছেলে আমাকে দেখতে এসেছিলো,দেখে তার পছন্দ হয়েছে আর আমার বাবা মারও পছন্দ হয়েছে তাই সাথে সাথে বিয়ে হয়ে গেছে। যা মজা করো না। সত্যি, আমার কিছু করার ছিলো না তোমাকে কত করে বলেছিলাম তখনতো শুনো নাই। তোমার খালি ভাই আর ভাই,কমিটি আর কমিটি এবার থাকো তোমার ভাই আর কমিটি নিয়ে। কিছুদিন পরে কমিটি হলো ভাইও নেতা হলো। কিন্তু ভাই কেমন যেন দিন দিন পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে। মাঝে মাঝে মনে হয়ে ভাই বুঝি তাকে চিনতে পারছে না।

ভাইয়ের আশেপাশে এখন প্রচুর নতুন মানুষ,ভাইও দেখি তাদের নিয়ে সব আনন্দ করে। কমিটি হলো তার নাম নেই ! ভাইয়ের কাছে দৌড়ে গিয়ে বললো ভাই কমিটি দিয়েছেন ওখানেতো আমার নাম নেই। দেখ উপরের অনেক চাপ ছিলো তাই তোর নামটা দিতে পারি নাই তাছাড়া তুই তো আমার লোক তোর পোস্ট না হলেও চলবে। সে কথাটা যদি আমাকে কমিটি দেওয়ার আগে একটু ডেকে বুঝায় বলতেন খুব ভালো লাগতো । দেখ রাজনীতি একটু অন্যরকম আবেগ দিয়ে রাজনীতি হয় না। কমিটি ঘোষনার পর মা, বোন, পুরানা প্রেমিকা সহ অনেকই ফোন করে জানতে চায় সে কি পোস্ট পেয়েছে। তখন সে সবাইকে একটি কথাই বলে রাজনীতি একটু অন্যরকম , এখানে , আবেগ অনুভূতির কোনো জায়গা নেই।

মোঃ তরিকুল ইসলাম 
সভাপতি ,জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ ।

..

Ads
Ads