ফের বি. চৌধুরীতে ঝুঁকছে বিএনপি নেতারা!

  • ৩-মার্চ-২০১৯ ১২:২১ অপরাহ্ন
Ads

 

:: ভোরের পাতা ডেস্ক ::

বিএনপির একাধিক নেতা আবারও অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছেন। তবে এই যোগাযোগ বিকল্পধারায় যোগ দেয়ার জন্য নাকি নির্বাচনের আগে বিএনপিসহ সমমনা দলগুলোকে নিয়ে যে যুক্তফ্রন্ট গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল তার অংশ কি না তা এখনও স্পষ্ট নয়। বিএনপির মধ্যে অধ্যাপক বি. চৌধুরীর একটা প্রভাব বলয় রয়েছে। তিনি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা নেতা এবং প্রথম মহাসচিব। দীর্ঘদিন বিএনপির অন্যতম নীতি নির্ধারক হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন। কাজেই অধ্যাপক বি. চৌধুরীর অনেক অনুসারী ও শীষ্য বিএনপিতে রয়েছে। বিএনপির অনেক নেতা মনে করেন. মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নিজেই বি. চৌধুরীর একজন শীষ্য। খালেদা জিয়া গ্রেপ্তার হওয়ার পর বি. চৌধুরীর সঙ্গে মির্জা ফখরুল ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন। অতীতের তিক্ততা ভুলে বি. চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি বৃহত্তর জোট গড়ে তোলার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। সে প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই প্রথমে যুক্তফ্রন্ট গঠন করা হয়। এই যুক্তফ্রন্ট থেকেই জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে অদৃশ্য কারণে অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে বাদ দিয়েই জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করা হয়।

অনেকেই মনে করেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়া অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরী ও তার ছেলে মাহি বি চৌধুরীকে পছন্দ করেন না এবং শেষ পর্যন্ত তারেক জিয়ার সিদ্ধান্তেই জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে বদরুদ্দোজা চৌধুরীর দল বিকল্পধারা থাকতে পারেনি। তার প্রতিশোধ হিসেবে বি. চৌধুরীর যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের শরিক হয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে এবং নির্বাচনে দুটি আসন পেয়ে সংসদে আছে। বর্তমানে আওয়ামী লীগ সরকারের প্রশংসাকারীদের মধ্যে অন্যতম অধ্যাপক বি. চৌধুরী। তার ছেলে মাহি বি. চৌধুরীর সঙ্গে সরকারের বিভিন্ন মহলের ঘনিষ্ঠতার কথা জানা যায়।

মনে করা হচ্ছিল, এর মধ্য দিয়েই বিএনপির সঙ্গে বি. চৌধুরীর সম্পর্কের ইতি ঘটে গেছে এবং ২০০১ সালের পর থেকে শুরু হওয়া এই তিক্ততার সম্পর্ক আর পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে না। কিন্তু গত এক সপ্তাহ ধরে বিএনপির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নেতা অধ্যাপক বি. চৌধুরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। তারা আবারও বি. চৌধুরীর কাছে অতীতের তিক্ততার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, তারা বি. চৌধুরীকে বলেছেন শুধুমাত্র তারেক জিয়ার কারণেই তারা ঐক্যবদ্ধ হতে পারেননি। তারা মনে করেন যে বিএনপির এই ক্রান্তিকালে ত্রাতা হিসেবে বি. চৌধুরীর মতো একজন নেতৃত্ব প্রয়োজন। বিভিন্ন সূত্র জানাচ্ছে, বি. চৌধুরী তাদেরকে বলেছেন তারেক জিয়া যতোদিন বিএনপির নেতৃত্বে থাকবে ততোদিন বিএনপির কোন ভবিষ্যৎ নেই। তারেক জিয়াই বিএনপির বর্তমান পরিণতির জন্য দায়ী।

একটি সূত্র বলছে, বিএনপির কয়েকজন নেতা বি. চৌধুরীকে অনুরোধ করেছেন তিনি যেন বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ, স্বাধীনতা ইত্যাদি বিষয়ে সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে একটা ঐক্য গঠনের জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করেন। সে উদ্যোগের সঙ্গে অবশ্যই বিএনপি থাকবে। কিন্তু বি. চৌধুরী এরকম উদ্যোগ নিতে অসম্মত হয়েছেন। বরং তিনি বলেছেন, বিএনপির ভবিষ্যৎ খুবই নাজুক। বিএনপির পরিণতি মুসলিম লিগের মতোই হতে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে বিএনপি নেতাকর্মীরা যেন বিকল্পধারায় যোগদান করে সেই আহ্বান জানান।

একটি সূত্র বলছে যে, অধ্যাপক বি চৌধুরী মনে করছেন যে, বিকল্পধারাই আগামী দিনে বাংলাদেশে বিরোধী দলের প্রধান প্লাটফর্ম হবে। কারণ বিএনপি বিলুপ্ত হয়ে গেলে বাংলাদেশে জাতীয়তাবাদ এবং ইসলামিক মূল্যবোধসম্পন্ন কোনো মূলধারার রাজনৈতিক দল থাকবে না। সে জায়গাটা একমাত্র বিকল্পধারাই দখল করে নিতে পারবে। তবে এখনও বিএনপির মধ্যে একটি অংশ মনে করছে, অধ্যাপক বি চৌধুরী বিএনপির প্রতি সহানুভূতিশীল রয়েছেন, বিএনপির প্রতি তাঁর মমত্ববোধ রয়েছে। তাঁর সঙ্গে যা করা হয়েছে সেটা অন্যায়। মান-অভিমান ভুলে বিএনপির এই ক্রান্তিকালে বিএনপির একজন নেতৃত্ব দরকার। তিনি জাতীয় এবং আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য।

বিএনপির যারা যোগাযোগ করছেন তারা অনেকেই ড. কামাল হোসেনের উপর বিরক্ত। একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের যে ভূমিকা পালন করার কথা ছিল তারা তা পালন করতে পারছেন না। ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে থাকলে বিএনপির যে আদর্শিক অবস্থান তা ক্ষুণ্ণ হতে বাধ্য। কারণ ড. কামাল হোসেন একবারও জিয়াউর রহমানের নাম মুখে নেন না। স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে তাকে স্বীকার করেন না। তাছাড়া বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদেও বিশ্বাস করেন না। এরকম ব্যক্তির নেতৃত্বে ঐক্য করার চেয়ে জাতীয়তাবাদী নেতা ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা নেতা বি. চৌধুরীর নেতৃত্বে ঐক্য করাই ভালো। এটা নিয়ে বিএনপির মধ্যেও নানারকম টানাপোড়েন চলছে।

এ নিয়ে বিএনপির একজন নেতা বলেছেন যে, যারা অধ্যাপক বি চৌধুরীর সঙ্গে দেখা করছেন তাঁরা আসলে কোনো ঐক্য বা জোট নয় তারা বিএনপি ছাড়ার পায়তারা করছেন। ইতিমধ্যে বিএনপি থেকে কয়েকজন পদত্যাগ করেছেন, এই পদত্যাগকারীরাও অধ্যাপক বি. চৌধুরীর কাছে যাচ্ছেন। বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম খান মনে করেন যে, সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় একটি বিরোধী দল গঠন করার জন্যই বিএনপিকে ভাঙার প্রক্রিয়া চলছে। এ লক্ষ্যে যেহেতু বি. চৌধুরীর সঙ্গে বিএনপির নেতাকর্মীদের একটা অতীত সম্পর্ক আছে তাই তাকে ব্যবহার করা হচ্ছে।

যদিও বদরুদ্দোজা চৌধুরীর ছেলে মাহি বি চৌধুরী এ ধরণের ভাবনাকে অমূলক ও ভিত্তীহীন বলে অভিমত দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, বিএনপির যে অবস্থা তাতে বিএনপিতে কোনো সুস্থ রাজনীতিবিদ থাকতে পারবে না। তাঁরা অন্যান্য জায়গা খুঁজছে। সেখানে তাঁরা সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সখ্যতা গড়তে চায়। অবশ্যই এই সমমনা দলগুলোর মধ্যে তাঁদের প্রথম পছন্দ বিকল্পধারা। সেজন্যই তাঁরা বিকল্পধারায় যোগ দিচ্ছে। তিনি নিশ্চিত হয়ে বলেন যে, কোনো ঐক্য বা ফ্রন্ট নয়, বিএনপির সঙ্গে কোন ঐক্যের প্রশ্নই ওঠে না। তবে বিএনপি থেকে যদি কেউ বিকল্পধারায় আসে তাদের জন্য বিকল্পধারার দরজা সবসময় খোলা থাকবে।

সূত্র: বাংলা ইনসাইডার

Ads
Ads