পাখিটি কৃষকের পরম বন্ধু!

  • ২-মার্চ-২০১৯ ১১:৩৬ অপরাহ্ন
Ads

 

:: ভোরের পাতা ডেস্ক ::

উজ্জ্বল কুচকুচেকালো রং ও মিষ্টি সুরে ডাকে পাখি ফিঙে। আকারে মাঝারি, উজ্জ্বল কালো রঙ, লম্বা ডানা, সামান্য বাঁকা ঠোঁট, লম্বা গোঁফ, দীর্ঘ লেজ যা দেখতে অনেকটা মাছের লেজের মত। অনেক সময় এই পাখি নিজের থেকে আকারে বড় পাখিকে তাড়া করে এবং নিরিহ পাখিদের রক্ষা করে অন্যান্য শিকারী পাখিদের হাত থেকে।

ক্ষেতের পোকামাকড় দমন করে বলে পাখিটি কৃষকের পরম বন্ধু। ধানক্ষেতে ক্ষতিকর পোকা খেয়ে কৃষকের ফসলের উৎপাদন বাড়াতে ভূমিকা রয়েছে ফিঙে পাখি।এটিকে বলা হয়ে থাকে কৃষিবান্ধব গায়ক পাখি।

এ পাখিকে দেখেই বুঝি কবি লিখেছিলেন,-‘আয়রে পাখি লেজ ঝোলা, তোরে দেবো দুধ কলা, খাবিদাবি কলকলাবি, খোকাকে তুই ঘুমপাড়াবি।’

ফিঙে পাখি অস্থির প্রকৃতির। তাই এ পাখি এক জায়গায় বেশি সময় বসে থাকে না। ফিঙে পাখি রাজকীয় কাক হিসেবে সমধিক পরিচিত। পাতার আড়ালে লুকিয়ে থাকতে পছন্দ করে ফিঙে পাখি। 

আমাদের দেশে পাখিটির পরিচিত নাম ফিঙে। এর বৈজ্ঞানিক নাম ‘Dicrurus macrocercus’। পাখিটি এশিয়ায় বাস করা ড্রোঙ্গো পরিবারভুক্ত একটি ছোট্ট গানের পাখি। এটি গীষ্মকালীন অঞ্চলের স্থায়ী বাসিন্দা। এদের দক্ষিণ-পশ্চিম ইরান থেকে শুরু করে ভারত এবং শ্রীলংকা হয়ে দক্ষিণ চীন ও ইন্দোনেশিয়া পর্যন্ত দেখা যায়।

পৃথিবীতে প্রায় ২৪ প্রজাতির ফিঙে রয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশে ৬ প্রজাতির ফিঙে পাওয়া যায়। দক্ষিণ এশিয়ার প্রায় সব দেশেই এ পাখির প্রাধান্য। এদের প্রজনন সময় মার্চ থেকে জুন মাস পর্যন্ত। গাছের মগডালের ফাঁকে বাটি আকৃতির বাসা বুনে পাখিটি। ডিম দেয় তিন থেকে চারটি। ডিম ফুটতে সময় লাগে ১৪-১৫ দিন। ফিঙে লম্বায় লেজসহ প্রায় ২৮ থেকে ৩১ সেন্টিমিটার হয়ে থাকে। পুরুষ ও স্ত্রী ফিঙে সহজে আলাদা করা যায় না। এদের প্রায় সময়ই কোন খোলা আকাশের নিচে, কোন খুঁটি অথবা গরু বা মহিষের পিঠের উপর লম্বা লেজ ঝুলিয়ে বসে থাকতে দেখা যায়। একটি ফিঙে গড়ে ২৫ থেকে ২৮টি মাজরা পোকা খেতে পারে।

এছাড়া ফিঙে খাবার তালিকায় রয়েছে- ঘাসফড়িং, হলুদ মাজরা পোকা, বাদামি ঘাসফড়িং, পামরি পোকা। এসব ক্ষতিকর পোকামাকড় খাওয়ার কারণে পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি অতিরিক্ত কীটনাশক খরচ থেকে রক্ষা পায় কৃষকরা।

ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশী ইউনিয়নের সিবিলহাট তালতলা এলাকায়, ফিঙে পাখি অবাধে আসা-যাওয়ার জন্য জমিতে গাছের ডাল ও বাঁশ পুতে এর মধ্যে তার লাগিয়ে দিয়েছে কৃষকরা। এতে ক্ষতিকর পোকামাকড় দমনে পার্চিং পদ্ধতির মাধ্যমে ফিঙে পাখির বসা ও চলাফেরা করার উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছে। 

 

/কে 

Ads
Ads