বললেন দুদক চেয়ারম্যান ‘বাংলাদেশে দুর্নীতি পদ্ধতিগত কারণেই সহজ’

  • ২৬-ফেব্রুয়ারী-২০১৯ ১১:২২ পূর্বাহ্ণ
Ads

:: ড. কাজী এরতেজা হাসান ::

আমাদের দুদক চেয়ারম্যান দুর্নীতি বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে একেক সময় একেক মন্তব্য করেন। কখনও তার কথায় মনে হয় যে, তিনি বাংলাদেশে দুর্নীতি বহাল তবিয়তেই রয়ে গেছে বলে এমন কথাই আকারে-ইঙ্গিতে কবুল করে নেন। আবার এই কথাই যদি আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে (যেমন-টিআই) একইভাবে প্রকাশ করা হয়ে থাকে তখন তিনি এর বিপক্ষে রুখে দাঁড়ান। তখন যেন দেশপ্রেম জেগে ওঠে আর বলেন না, না- ওই সব ‘গালভরা রিপোর্ট’। অর্থাৎ ডাহা ভোগাস। তবে গত রোববার তিনি দুুর্নীতি দমন কমিশনে  প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যখন বলেন, ‘বাংলাদেশে ঘুষ খাওয়া সবচেয়ে সহজ কাজ। আর এটা পদ্ধতিগত কারণেই সহজ।’ ‘যাদের মান-সম্মানের কোনো ভয় নেই, তথা কোনো আত্মমর্যাদা নেই, তাদের পক্ষে  ঘুষ খাওয়া সত্যিই খুব সহজ কাজ। আর এটা হচ্ছে, আমাদের লজ্জাহীনতার সংস্কৃতি। এই লজ্জাহীনতার সংস্কৃতির অবসানে দুদককে এমনভাবে কাজ করতে হবে যাতে ঘুষখোরদের আইনের আওতায় এনে লজ্জা দেওয়া যায়।’

কিন্তু সেই কাজটিই বা শুরু হবে কীভাবে যখন দুদক চেয়ারম্যানই বাংলাদেশে দুর্নীতি বিষয়ে আন্তর্জাতিক কোনো সংস্থার (টিআই)  অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন? এই প্রশ্ন তোলার মধ্যে কি কোনো লজ্জা থাকে যখন তিনি নিজেই বোঝেন যে বাংলাদেশে ‘পদ্ধতিগত কারণেই ঘুষ খাওয়া সবচেয়ে সহজ’? এই ‘পদ্ধতিগত কারণে সবচেয়ে সহজ কাজ’ বলতে কী বোঝায়? তার মানে এই ‘সবচেয়ে সহজ কাজ’ বিশে^ আর কোনো দেশেই নেই। তার মানে কি তিনি নিজেই স্বীকার করে নিলেন না যে, দুর্নীতিতে বিশে^ বাংলাদেশ শীর্ষস্থানীয় দেশের একটি?

যাহোক এটা যদি তিনি মনেপ্রাণেই বিশ্বাস করেন তাহলেই এ বিষয়ে যেখান থেকেই অভিযোগ আসুক তা মেনে নিয়েই তারা যেন দুর্নীতি উচ্ছেদে কাজ করেন। তাহলেই সে মেনে নেওয়ার মধ্যদিয়ে কাজে গতি আসবে। না মানলে তো সে কাজে কোনো গতি আসবে না বরং শ্লথগতি হবে। 

এদিন তিনি আরেকটি কথা বলেছেন, ‘দুর্নীতিমুক্ত না থাকলে কেউ শ্রদ্ধা করে না।’ কিন্তু কথা হচ্ছে যে, আজকাল এই ‘শ্রদ্ধা’ শব্দটিই যেন অভিধান থেকে উঠে যাওয়ার জন্য খুব পেরেশান হয়ে গেছে। আর সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, ‘দুর্নীতি’ সম্পর্কেও আমাদের ধারণাও অতো স্বচ্ছ নয়। কথায় বলে, ‘চোরের মায়ের বড় গলা’।

অর্থাৎ ‘দুর্নীতি’ তো দুর্নীতিই কিন্তু সেটা ‘অস্বীকার’ করাও যে দুর্নীতি এটাই আমাদের দেশের অনেকেরই নেই। অর্থাৎ এক্ষেত্রে সবাই যেন ওই ‘চোরের মায়ের বড় গলা’র মতো। আর এই ‘বড় গলা’ কোথায় নেই? কাজেই এই ‘বড় গলা’কেই আগে ‘স্বাভাবিক’ করতে হবে দুুদককে। সেই স্বাভাবিক রাখার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে দেশে। আর তা যেন তৃণমূল থেকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পর্যন্ত হয়। ওপরের লোকজন ওয়াজ-নসিহত করবে, আর তৃণমূলের লোকজন তা কোনো প্রশ্ন ছাড়াই শুধু শুনেই যাবে তাতে করে কিন্তু এ দেশে দুর্নীতি বহাল তবিয়তেই থেকে যাবে। শুধু হিসাবের ভুলচুকে একটু এদিক-সেদিক হবে মাত্র। যা দেখে কখনও আমরা বলবো একটু উন্নতি ঘটেছে, আর কখনও বলবো, ‘অবনমন’ হয়েছে। তখন রাজনৈতিক দলগুলো কোনোটি বেজার হয়, কোনোটি খুব খুশি হয়। কেননা, ‘চোরের মায়ের বড় গলা’র মতো এই ‘বেজার’ ও ‘খুশি’ হওয়ার মধ্যেই রয়েছে অনড় দুর্নীতি। বলাই বাড়তি, এ হচ্ছে রাজনৈতিক দুর্নীতি।

Ads
Ads