পুরান ঢাকার রাস্তাগুলোকে নতুনভাবে গড়ে তোলা হবে: প্রধানমন্ত্রী

  • ২৪-ফেব্রুয়ারী-২০১৯ ০২:৫৭ পূর্বাহ্ণ
Ads

:: ভোরের পাতা ডেস্ক ::

পুরান ঢাকার অলি-গলি ও ঘিঞ্জি সড়কগুলোকে নতুন করে গড়ে তোলার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এখানকার রাস্তাঘাট একেবারে সরু। সেই রাস্তায় ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ঢোকার কোনো উপায় নেই। এই অলি-গলি, রাস্তা; এগুলো আমাদের নতুনভাবে গড়ে তুলতে হবে, প্রশস্ত করতে হবে। যেন ফায়ার সার্ভিসের লোকেরা ঢুকতে পারে। পুরান ঢাকায় এতো গলি যে, আমরা হেলিকপ্টার দিয়েও পানি দিতে পারিনি। এটাও খেয়াল রাখতে হয়েছে যে হেলিকপ্টারের বাতাস থেকেও আগুন ছড়িয়ে যেতে পারে। তাই নিরাপদ দূরত্ব থেকে হেলিকপ্টারে সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

শনিবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে বার্ন ইন্সটিটিউটে আগুনে দগ্ধদের দেখতে গিয়ে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

আগুন ছড়িয়ে পড়ার পেছনে কেমিক্যাল গুদামগুলো দায়ী উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা মোবাইল কোর্ট বসিয়ে অনেক কারখানা অপসারণ করেছি। কিন্তু সেগুলো গড়ে উঠেছে। এগুলো দ্রুত সরিয়ে নিতে হবে। ২০০৯ সালে নিমতলীর  অগ্নিকাণ্ডের পর আমরা পুরান ঢাকার কেমিক্যাল গুদাম সরাতে চেয়েছিলাম। তার জন্য কেরানীগঞ্জে জায়গা করে প্রজেক্ট নিয়েছিলাম। আধুনিক গুদাম তৈরি করে দিতে চেয়েছিলাম। এসব কেমিক্যালের  সুরক্ষার জন্য বিশেষ ব্যবস্থার প্রয়োজন হয়। কিন্তু মালিকরা রাজি হয়নি, এটা আমাদের দুর্ভাগ্য।

অগ্নিকাণ্ডের বিষয়ে দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দেশবাসীকে এইটুকু বলবো তারা যেন দোয়া করেন। আমাদের দেশে এ ধরনের দুর্ঘটনা যেন আর না ঘটে, সবাই সতর্ক থাকবেন।

জলাধারগুলো ভরাটের ফলে রাজধানীবাসীর বিপদ বেড়ে গেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঢাকায় অনেক পুকুর ছিল। ধোলাইখাল থেকে শুরু করে অনেক খাল ছিল, শান্তিনগর খাল, সেগুনবাগিচা খাল। দুর্ভাগ্য হলো সেগুলোতে হয় বক্স-কালভার্ট করা হয়েছে, অথবা বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। পুকুরগুলো একে একে ভরাট করা হয়েছে।

চকবাজারে আগুন নেভাতে পানি প্রাপ্তির অসুবিধার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, পানি পাওয়া এটা ছিল কষ্টকর। পুরোনো জেলখানার পুকুর থেকে পানি আনা হয়েছে। সব বাড়ি-ঘর থেকে পানি আনা হয়েছে, রিজার্ভ ট্যাংক থেকে পানি দিয়েছে, ওয়াসা সহযোগিতা করেছে। এই ধরনের আগুন লাগলে পানির যেন অভাব না হয় সে বিষয়টা সবাইকে খেয়াল করতে হবে।

সাংবাদিকদের কারণে আগুন নেভানোর কাজ ব্যাহত হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংবাদ কর্মীদের নানা প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে আগুন নেভানো ব্যাহত হয়েছে। বিশেষ করে টিভি  সাংবাদিকেরা প্রশ্ন করেই যাচ্ছেন। এটা কী প্রশ্ন করার সময়? উত্তর আশা করেন কীভাবে? তারা কাজে যাবেন। অথচ তাদের আটকে রেখে প্রশ্ন করা হচ্ছে।’ এছাড়াও আগুন ও তাতে দগ্ধদের ছবি তোলার বিষয়ে সংবাদকর্মীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমাদের আরও বেশি সচেতন হতে হবে। যাতে আতঙ্ক ছড়িয়ে না পড়ে।

চকবাজারের অগ্নিকাণ্ডে জাতীয় শোক ঘোষণা করা হবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটা একটা বড় ধরনের দুর্ঘটনা যা আমাদের সবাইকে ব্যথিত করেছে। আমরা একটি শোক দিবস ঘোষণা করবো। আজ ছুটির দিন। আগামীকাল রোববার (২৪ ফেব্রুয়ারি) অফিস খুললে ক্যাবিনেট (মন্ত্রিসভা) সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে শোকের ঘোষণা দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, গত বুধবার রাতে চকবাজারের চুড়িহাট্টা মোড়ে ভয়াবহ ওই অগ্নিকাণ্ডে ৬৭ জনের মৃত্যু হয়। আহতদের মধ্যে নয়জনকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে, তাদের অবস্থাও ভালো নয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, একটি পিকআপের সিলিন্ডার বিস্ফোরণের পর চুড়িহাট্টা মোড়ে ওই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। পরে তা আশপাশের পাঁচটি ভবনে ছড়িয়ে পড়ে।

ওই মোড়ের আশপাশের দোকান আর ভবনে থাকা রাসায়নিক এবং প্লাস্টিক ও প্রসাধনীর গুদাম চুড়িহাট্টার আগুনকে ভয়াবহ মাত্রা দেয় বলে ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের ধারণা।

নিমতলীতে ২০১০ সালে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে শতাধিক মানুষের প্রাণহানির পর তদন্ত কমিটি পুরান ঢাকা থেকে রাসায়নিকের গুদাম ও কারখানা সরিয়ে নেওয়ার সুপারিশ  করেছিল। নয় বছরেও সেই সুপারিশের  বাস্তবায়ন না হওয়ায় চুড়িহাট্টার মত ঘটনা আবার ঘটল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

Ads
Ads