অভিজিৎ হত্যার পরিকল্পনাকারী মেজর জিয়া

  • ১৯-ফেব্রুয়ারী-২০১৯ ০৭:৪২ অপরাহ্ন
Ads

ভোরের পাতা ডেস্ক
আমেরিকা প্রবাসী বিজ্ঞানমনষ্ক লেখক অভিজিৎ রায় হত্যাকাণ্ডের চার বছর পর এ মামলার চার্জশিট চূড়ান্ত করেছে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট (সিটিটিসি)। আলোচিত ওই হত্যাকান্ডে ১২ জনের সম্পৃক্ততার তথ্য পেলেও তাদের মধ্যে পাঁচজনের নাম-ঠিকানা না পাওয়ায় এবং ক্রসফায়ারে একজনের মৃত্যু হওয়ায় চার্জশিটে আসামি করা হচ্ছে ছয়জনকে। জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের কথিত নেতা সেনাবাহিনীর চাকরিচ্যুত মেজর সৈয়দ জিয়াউল হক এবং ‘উগ্রপন্থি ব্লগার’ সাফিউর রহমান ফারাবী ছাড়াও আসামি করা হচ্ছে মোজাম্মেল হুসাইন ওরফে সায়মন ওরফে শাহরিয়ার, আবু সিদ্দিক সোহেল ওরফে সাকিব ওরফে সাজিদ ওরফে শাহাব, আরাফাত রহমান ওরফে সিয়াম ওরফে সাজ্জাদ ওরফে শামস, আকরাম হোসেন ওরফে আবির ওরফে আদনান ওরফে হাসিবুল ওরফে আবদুল্লাহকে। আসামিদের মধ্যে ফারাবী ছাড়া বাকি সবাই আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সদস্য বলে তদন্তকারীদের ভাষ্য। ২০১৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি রাতে স্ত্রী রাফিদা আহমেদ বন্যাকে নিয়ে অমর একুশে বইমেলা থেকে ফেরার পথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির সামনে জঙ্গি হামলায় ঘটনাস্থলেই নিহত হন অভিজিৎ রায়। চাপাতির আঘাতে আঙ্গুল হারান তার স্ত্রী। চাকরিচ্যুত মেজর জিয়াউল হককে ধরিয়ে দিতে ২০ লাখ টাকা পুরস্কারের ঘোষণা রয়েছে। উগ্রপন্থি ব্লগার সাফিউর রহমান ফারাবী সিলেটের অনন্ত বিজয় দাশ হত্যা মামলারও আসামি। এই ছয়জনের মধ্যে জিয়াউল হক ও আকরাম হোসেন ওরফে আবির পলাতক। বাকি চারজন কারাগারে। কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম সোমবার ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় চার্জশিট আদালতে জমা দেওয়ার আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিতে হয়। এই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা চার্জশিট অনুমোদনের জন্য আজ (সোমবার) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর আবেদন করেছেন। প্রজ্ঞাপনপ্রাপ্তি সাপেক্ষে পূর্ণাঙ্গ কেইস ডেকেট আদালতে পাঠানো হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক পদার্থবিদ অধ্যাপক অজয় রায়ের ছেলে অভিজিৎ থাকতেন যুক্তরাষ্ট্রে। বিজ্ঞানের নানা বিষয় নিয়ে লেখালেখির পাশাপাশি মুক্তমনা ব্লগ সাইট পরিচালনা করতেন তিনি। জঙ্গিদের হুমকির মুখেও তিনি একুশে বইমেলায় অংশ নিতে দেশে এসেছিলেন। তার উল্লেখযোগ্য বইয়ের মধ্যে রয়েছে একটি বিশ্বাসের ভাইরাস। অপরটি অবিশ্বাসের দর্শন। ছেলে নিহত হওয়ার পর শাহবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন অধ্যাপক অজয় রায়। ঢাকা মহানগর হাকিম সরাফুজ্জামান আনসারী লেখক অভিজিৎ রায় হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ২৫ মার্চ পর্যন্ত সময় দিয়েছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে। কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল বলেন, জবানবন্দি, প্রাপ্ত তথ্যের বিশ্লেষণে পাশাপাশি গোয়েন্দা তথ্য মিলিয়ে আমরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি যে, এই ঘটনাটির মাস্টারমাইন্ড হচ্ছেন পলাতক মেজর (চাকরিচ্যুত) জিয়া। তিনি বলেন, কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের তদন্তে এ মামলায় মোট ১১ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর বাইরে সাফিউর রহমান ফারাবী গ্রেফতার হয়েছিলেন র‌্যাবের হাতে। ফারাবী ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে অভিজিৎ রায়কে হত্যার প্ররোচনা দিয়েছিলেন। এ কারণে প্ররোচনাদাতা হিসেবে তাকে এ মামলায় আসামি দেখানো হচ্ছে। গ্রেফতার হয়ে কারাগারে থাকা মোজাম্মেল হুসাইন ওরফে সায়মন, আরাফাত রহমান এবং আবু সিদ্দিক সোহেল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মনিরুল বলেন, তারা তাদের নিজেদের দায়িত্ব এবং অন্য কারা এ ঘটনায় জড়িত ছিলেন, কীভাবে হত্যাকা  ঘটানো হয়েছে, সবকিছুই জবানবন্দিতে বর্ণনা করেছেন। মনিরুল বলেন, তদন্তে ও ঘটনাস্থলের আশপাশের ভিডিও ফুটেজ দেখে অভিজিৎ হত্যায় সম্পৃক্ততা আছে এরকম মোট ১১ জনকে চিহ্নিত করেছে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট। অপারেশন, ইন্টেলিজেন্স ও ট্রেইনিং- এই তিন ভাগে তারা ওই হত্যা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে। এর মধ্যে হত্যাকাে  সরাসরি অংশ নেওয়া দলটির নেতৃত্বে ছিলেন মুকুল রানা ওরফে শরিফুল, যিনি ২০১৬ সালের ১৯ জুন ঢাকার খিলগাঁওয়ে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন। বাকি ১০ জনের মধ্যে পাঁচজনের সাংগঠনিক নাম জানা গেলেও আসল পরিচয় বা ঠিকানা জানা সম্ভব হয়নি। এ কারণে বাকি পাঁচজনের সঙ্গে ফারাবীর নাম যুক্ত করে তদন্ত প্রতিবেদন চূড়ান্ত করেছে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট। মনিরুল বলেন, তাদের নাম-ঠিকানা পাওয়া গেলে পরে সম্পূরক চার্জশিটের মাধ্যমে তাদের বিচারের আওতায় আনা হবে। এ ছাড়া অভিজিৎ হত্যাকাণ্ডের পর বিভিন্ন সময়ে র‌্যাবের হাতে সন্দেহভাজন হিসেবে সাতজন গ্রেফতার হলেও অপরাধে তাদের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ তদন্তে পাওয়া যায়নি। এ কারণে তাদের অব্যাহতি দেওয়ার জন্য আবেদন জানানো হবে চার্জশিটে।

ion Here ...

Ads
Ads