কাশ্মীরে জঙ্গি হামলার তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য, আলোচনায় 'লাল গাড়ি'

  • ১৮-ফেব্রুয়ারী-২০১৯ ১০:২৯ অপরাহ্ন
Ads

অনলাইন ডেস্ক
 
জম্মু-কাশ্মীরে জঙ্গি হামলার ঘটনায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে ভারত ও পাকিস্তানে। হামলায় ভারতের ৪৪ সামরিক সদস্য নিহত, আহত হন আরও অনেকে। নিহতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এরই মধ্যে সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে দুই দেশ।

এদিকে, পুলওয়ামায় জঙ্গি হামলার ঘটনার তদন্তে নেমে একটি লাল রঙের মারুতি ইকোর কথা জানতে পেরেছেন গোয়েন্দারা। পাশাপাশি জইশ নেতা মাসুদ আজহারের ভাগ্নে তালহা রশিদ ও উসমানের মৃত্যুর বদলা নিতেই এই হামলা চালানো হয়ে থাকতে পারে বলে মনে করছেন তাঁরা। 

বৃহস্পতিবার পুলওয়ামায় সিআরপিএফ কনভয়ে একটি বিস্ফোরক ভর্তি স্করপিয়ো নিয়ে হামলা চালায় আত্মঘাতী জঙ্গি আদিল আহমেদ দার। কিন্তু বিস্ফোরণের পরেও জওয়ানদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। ফলে আদিল ছাড়াও জঙ্গি দলের অন্য সদস্যেরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল বলে নিশ্চিত গোয়েন্দারা। 
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে‌ন, ঘটনার ঠিক আগে সিআরপিএফের কনভয়ের কাছাকাছি একটি লাল রঙের ইকো দেখতে পান এক সেনা। সে কথা ঊর্ধ্বতন অফিসারকে জানান তিনি। ওই গাড়িটিকে কনভয়ের কাছ থেকে সরে যেতে বলা হয়। তার কিছুক্ষণ পরেই স্করপিয়োটি বাসে ধাক্কা মারে। ঘটনাস্থল থেকে একটি গাড়ির অংশ পাওয়া গেছে। সেটি কোন গাড়ির তা জানতে গুরুগ্রামে মারুতি সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন গোয়েন্দারা। 

গোয়েন্দা সূত্রে খবর, ২০১৭ ও ২০১৮ সালে জইশ নেতা মাসুদ আজহারের ভাগ্নে তালহা রশিদ ও উসমান কাশ্মীরে বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত হয়। ভারতীয় বাহিনীর উপরে স্নাইপার হামলা চালানোর জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের উপত্যকায় পাঠানো হয়েছিল। গোয়েন্দাদের দাবি, মাসুদের ভাগ্নেদের মৃত্যুর পরেই আফগান যুদ্ধে অংশ নেওয়া রশিদ গাজীকে কাশ্মীরে পাঠায় জইশ। গাজীই পুলওয়ামার আত্মঘাতী জঙ্গি আদিলের হ্যান্ডলার ছিল বলে দাবি তাঁদের। গোয়েন্দাদের মতে, জইশ প্রধানের আত্মীয়দের মৃত্যুর বদলা নিতেও পুলওয়ামার হামলা চালানো হয়ে থাকতে পারে। 

আর এই সূত্রেই উঠে এসেছে আরজু বশির নামে এক যুবকের নাম। দক্ষিণ কাশ্মীরের বাসিন্দা বশির  ২০১৭ সালে পুলিশের কাছে এসে জানায়, তাকে গাড়ি নিয়ে কনভয়ে হামলা চালাতে বলেছে জইশ। বশিরের সঙ্গে যোগাযোগ করে গোয়েন্দারা জানার চেষ্টা করছেন, রশিদ গাজীই তার হ্যান্ডলার ছিল কি না। ঘটনাস্থল খতিয়ে দেখে গোয়েন্দাদের ধারণা, পুলওয়ামার ওই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে নজরদারি চালিয়েছে জঙ্গিরা। অবন্তীপোরার ওই এলাকায় রাস্তা ঢালু। তার উপরে কয়েক দিনের বৃষ্টিতে রাস্তায় কাদাও জমেছিল। ফলে ওই এলাকায় গাড়ির গতি কমতে বাধ্য। 

Here ...

Ads
Ads