যে ১০ পদক্ষেপ বদলে দেবে বাংলাদেশের ফুটবল ভবিষ্যৎ

  • ২৫-Aug-২০১৮ ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
Ads

আমাদের ফুটবলের এই বেহাল দশার পেছনে মূল কারণ ঘরোয়া ফুটবলের দুর্বল কাঠামো। ঘরোয়া ফুটবলের সবচেয়ে বড় টুর্নামেন্ট হচ্ছে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ। কিন্তু ফেডারেশন কাপ দিয়ে প্রতি বার মৌসুম শুরু হয়। কয়েক বছর আগে সুপার লিগ নামে কোটি টাকার টুর্নামেন্ট বেশ জনপ্রিয় হয়েছিল কিন্তু এখন তার কোনো খবর নেই। আবার হবে কিনা তার কোনো ঠিক নেই। প্রতি বছর বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নানা অজুহাতে বাধাগ্রস্ত হয়। এর প্রভাবে ক্লাবগুলো যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তেমনি ঘনঘন বিরতিতে খেলোয়াড়দের মনঃসংযোগেও ব্যাঘাত ঘটে। একটি দেশের পেশাদার লিগের ব্যবস্থাপনাতে যখন এত অনিয়ম, তখন সেখানে ফুটবল উন্নতি ও ভালো মানের ফুটবল আশা করাই বোকামি।

কিন্তু এত সমস্যার পরও দেশের মানুষ ফুটবল থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় না। এখনো মাঠে আবাহনী-মোহামেডানের কোনো শিরোপা নির্ধারনী খেলা হলে, স্টেডিয়াম কানায় কানায় ভরে যায়। স্টেডিয়ামের বাইরে দশগুণ দামে কালোবাজারে টিকেট বিক্রি হয়। তারপরও মানুষ টিকেট কিনে খেলা দেখতে আসে।

কিন্তু এখন আবাহনী-মোহামেডানের মতো ক্লাবগুলো আগের মতো দল গঠন করে না। যে অর্থ তারা আগে ফুটবলে ঢালতো, এখন সেই অর্থ অন্য খেলায় (ক্রিকেটেই বেশি) ব্যয় করে। কোনো ক্লাবের নিজস্ব হোম ভেন্যু নেই। আবার অনেক ক্লাবই ঢাকার বাইরের স্টেডিয়ামে খেলতে যেতে চায় না। দুঃখের বিষয় দেশের ক্লাবগুলোর তেমন কোনো ভালো আবাসন ব্যবস্থাও নেই। এমনকি মোহামেডানের মতো দলের নিজস্ব কোন মাঠও নেই। এই ব্যাপারগুলোতে ক্লাবগুলোর আরও যত্নবান হওয়া উচিৎ।

  • তাই দেশের ফুটবল উন্নয়নে বাফুফের যেমন উদ্যোগী হতে হবে, তেমনি ক্লাবগুলোকেও এগিয়ে আসতে হবে। দেশের ফুটবলের মান উন্নয়নে কিছু পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে।
     
  • ঘরোয়া ফুটবলে পেশাদারিত্ব বজায় রাখা ও ঘরোয়া ফুটবল সময়মত আয়োজন করা।
     
  • ফুটবলের জন্য সারা দেশের মধ্যে অন্তত তিনটি মাঠের ব্যবস্থা রাখা যেখানে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ ছাড়া খেলা বন্ধ হবে না।
     
  • জাতীয় দলের জন্য মানসম্মত, যোগ্য কোচের ব্যবস্থা করা।
     
  • বয়সভিত্তিক ফুটবল টুর্নামেন্ট নিয়মিত আয়োজন করা এবং পেশাদার লিগের দলগুলোর বয়সভিত্তিক দলগঠন বাধ্যতামূলক করা।
     
  • ফুটবল অ্যাকাডেমি তৈরি, যা যেকোনো ফুটবলারের স্কিল উন্নতিতে ভূমিকা রাখবে।
     
  • খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও ইনজুরির সময়ে সুবিধা বাড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া।
     
  • ক্লাবগুলোর নিজস্ব মাঠ ও আবাসন সুবিধা বাড়াতে বাফুফের কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া।
     
  • ক্লাবগুলোর বিদেশি খেলোয়াড় নিয়োগের ক্ষেত্রে বাফুফের কঠোর নিয়মনীতি প্রণয়ন।
     
  • পাতানো খেলা রোধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া।
     
  • ইয়ুথ ন্যাশনাল লিগ, স্কুল ফুটবল, সোহরাওয়ার্দী কাপ, শের-ই-বাংলা কাপ ফুটবল চালু করতে হবে। বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ, শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্লাব কাপগুলো নিয়মিত মাঠে রাখতে হবে।
     

দেশের ফুটবল নিয়ে মানুষ এখনো স্বপ্ন দেখে। অনেকে এখনো আশা রাখে একদিন বাংলাদেশ অন্তত এশিয়ার সেরা ১০টি দলের একটি হবে। লড়াই করবে সমানে সমানে এশিয়ার সেরা দলগুলোর সঙ্গে। যদি তাই না হবে তাহলে ভালো খেলায় এখনো কেন উপচে পড়া দর্শক হবে।

বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের মনে এই স্বপ্নগুলো আছে। বাংলাদেশ বিশ্বকাপের পেরোতে না পারুক, অন্তত প্রতি বছর একটা লক্ষ্য নিয়ে প্রতিযোগিতায় নামবে, সেটা হবে আগের বছরের চেয়ে ভালো খেলা। আর সবাই বাংলার গর্ব লাল-সবুজ পতাকা মাথায় বেধে খেলা দেখতে যাবে, বাড়ি ফেরার সময় মুখে হাসি থাকুক বা চোখে অশ্রু থাকুক, মনটা অন্তত দেশের ফুটবলাররা জিতে নেবে।

Ads
Ads