স্বাস্থ্যখাতে নৈরাজ্য : হাইকোর্টের নির্দেশ কার্যকর করুন

  • ১৫-ফেব্রুয়ারী-২০১৯ ১১:১৫ পূর্বাহ্ণ
Ads

:: ড. কাজী এরতেজা হাসান ::

বর্তমান সরকারের আমলে দেশের বিভিন্ন সেক্টরে দৃশ্যমান উন্নয়ন ঘটলেও যে সেক্টরটিতে এখনো গর্ব করার মতো উগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না সেটি হচ্ছে স্বাস্থ্যখাত। বলতে হবে, এ খাতে এক ধরনের নৈরাজ্য চলছে। সাধারণ মানুষের বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগের পর অভিযোগের স্তূপ জমছে একের পর এক। এ বিষয়ে সরকারও ওয়াকিবহাল নয়, এমনও নয়। সরকার চিকিৎসকদের স্বার্থে অনেক কিছু করেও তাদের কর্মস্থলে উপস্থিতি শতভাগ নিশ্চিত করতে পারছে না। অর্থাৎ সরকার তাদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নিতে একেবারেই ব্যর্থ। বলাই বাহুল্য, সরকার যে দুটো খাতকে বশে আনতে ব্যর্থ হচ্ছে, তা হচ্ছে পরিবহন খাত ও স্বাস্থ্যখাত। একদিকে সড়কে প্রতিনিয়ত মৃত্যুর তালিকা বাড়ছে অন্যদিকে চিকিৎসকদের অবহেলার কারণে প্রতিনিয়ত প্রাণ যাচ্ছে হাসপাতালগুলোতে। অথচ একটু দায়িত্বশীল চিকিৎসাসেবা পেলেই এই রোগীরা বেঁচে যেতে পারত হয়তো। চিকিৎসকদের এই অবহেলার কারণ হচ্ছে, সরকারি চিকিৎসকদের ওপরই অনেকাংশে নির্ভরশীল বেসরকারি চিকিৎসা-বাণিজ্য। আর বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে অর্থের বিনিময়ে সময় ও দক্ষতা ব্যয় করার পর সরকারি হাসপাতালের জন্য খুব একটা সময় অবশিষ্ট থাকে না চিকিৎসকদের। যদিও জনগণের করের পয়সায় বেতন নিচ্ছেন, তবু তাদের প্রতি মনোযোগ দেওয়ার কোনোই আগ্রহ নেই তাদের। দীর্ঘদিন ধরে এই নৈরাজ্য চলে আসছিল। সরকারও ব্যর্থ হচ্ছিল এই নৈরাজ্যরোধে কিছু একটা করতে। 

এ অবস্থায় শেষপর্যন্ত সরকারি ডাক্তারদের রোগী দেখা নিয়ে একটি নীতিমালা করার নির্দেশ দিলেন হাইকোর্ট। এ জন্য বিশেষজ্ঞদের নিয়ে কমিশন গঠন করতেও বলা হয়েছে। আদালত বলেছেন, বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে প্রাইভেট প্র্যাকটিস করার নামে সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে যাতে কেউ ব্যবসা করতে না পারে, সে জন্যই একটি পূর্ণাঙ্গ গাইডলাইন থাকা উচিত। সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশনের অভিযানে ১১টি সরকারি হাসপাতালে অভিযানে ঢাকায় ৪০ এবং ঢাকার বাইরের হাসপাতালগুলোয় ৬২ শতাংশ চিকিৎসককে কর্মস্থলে না পাওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরেন বিচারক। বলাই বাহুল্য, চিকিৎসকদের দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার বিষয়টি একেবারেই ঐচ্ছিক বা স্বেচ্ছাচারিতার বিষয় হতে পারে না। নাগরিক হিসেবে প্রত্যেক রোগীরই সঠিক চিকিৎসা পাওয়ার অধিকার আছে। সেই অধিকার যদি চিকিৎসক কিংবা চিকিৎসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কারো জন্য ক্ষতিগ্রস্ত হয় কিংবা দায়িত্বহীনতার কারণে যদি কোনো রোগীর জীবন ও স্বাস্থ্যের ক্ষতি হয়, তা হলে অবশ্যই তা জবাদিহিতার মধ্যে আনতে হবে। বিনা বিচারে তা ছেড়ে দেওয়াটাও অপরাধবিশেষ।

সেজন্য একটা শাস্তিযোগ্য ব্যবস্থা থাকতে হবে। আমরা আশা করছি, নীতিমালা প্রণয়ন করলে চিকিৎসাসেবার বাণিজ্যিকীকরণে রাস টানা যাবে। তাতে জনগণের স্বার্থ রক্ষায় একটা কার্যকর ফল পাওয়া যাবে। তবে সেজন্য চাই অবিলম্বে এ সংক্রান্ত নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন। এখন দেখার বিষয় এ বিষয়ে সরকার কতটা আন্তরিকতা প্রদর্শন করতে সক্ষম হয়।

Ads
Ads