এফবিসিসিআইর ২০১৯-২০২১ মেয়াদের নির্বাচনে সভাপতি হচ্ছেন শেখ ফজলে ফাহিম

  • ১৩-ফেব্রুয়ারী-২০১৯ ০১:০২ am
Ads

:: ভোরের পাতা ডেস্ক ::

ব্যবসায়ী-শিল্পপতিদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের ২০১৯-২০২১ মেয়াদের নির্বাচনে বর্তমান জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি শেখ ফজলে ফাহিমকে সভাপতি পদে পূর্ণ সমর্থন দিয়েছে কাউন্সিল অব চেম্বার’র প্রতিনিধিরা। সংগঠনটির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী এবার চেম্বার গ্রুপ থেকে সভাপতি নির্বাচিত হবে। ফলে শীর্ষ এই ব্যবসায়ী সংগঠনটির সভাপতি পদে শেখ ফাহিমের নির্বাচিত হওয়ার বিষয়টি এখন অনেকটাই নিশ্চিত।

মঙ্গলবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর মতিঝিলে ফেডারেশন ভবনে কাউন্সিল অব চেম্বার প্রেসিডেন্টস’র সভায় শেখ ফাহিমের পক্ষে এই সিদ্ধান্ত আসে বলে সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সচিব হোসাইন জামিল স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

২৭ এপ্রিল এফবিসিসিআই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। গত ৫ ফেব্রুয়ারি এই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। গতবার অ্যাসোসিয়েশন গ্রুপ থেকে সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী এবার শীর্ষ এই পদে নির্বাচিত হবেন চেম্বার গ্রুপের একজন।

এবার জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি হবেন অ্যাসোসিয়েশন গ্রুপ থেকে। আর সহ-সভাপতি হবেন চেম্বার গ্রুপ থেকে। এর আগে ২০১৭ সালের ১৪ মে দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল এফবিসিসিআইয়ের। সে সময় অ্যাসোসিয়েশন গ্রুপ থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন বর্তমান সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন। শেখ ফজলে ফাহিম আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিমের ছেলে।

মঙ্গলবারের কাউন্সিল অব চেম্বার প্রেসিডেন্টস’র সভায় দেশের বিভাগ, জেলা, মেট্রোপলিটন চেম্বার এবং মহিলা চেম্বারগুলোর সভাপতিরা দেশের রাজস্ব আহরণ নিয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “শেখ ফজলে ফাহিম-এর বিগত বছরগুলোর দূরদর্শী, বিচক্ষণ, ও দায়িত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য দল মত নির্বিশেষে দেশের সব জেলা, বিভাগ, মেট্রোপলিটন এবং মহিলা চেম্বারগুলোর পক্ষ থেকে এফবিসিসিআইয়ের আগামী ২০১৯-২০২১ মেয়াদকালের নিবার্চনে শেখ ফজলে ফাহিমকে সভাপতি পদে পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করা হয়।”

রাজশাহী চেম্বারের সভাপতি মনিরুজ্জামান অনুষ্ঠানে বলেন, দেশের মোট বিনিয়োগের ৭০ শতাংশ ঢাকায়, ২০ শতাংশ চট্টগ্রামে এবং অবশিষ্ট ১০ শতাংশ সারা দেশে রয়েছে। সারা দেশে সমভাবে বিনিয়োগ এবং শিল্পায়ন হলে রাজস্ব আদায়ের পরিমাণও সেভাবে বৃদ্ধি পাবে। উত্তরাঞ্চলে রাজস্ব আদায় বৃদ্ধির লক্ষ্যে সেখানে পরিকল্পিত বিনিয়োগ আহ্বান জানান মনিরুজ্জামান।

রংপুর মেট্রোপলিটন চেম্বারের সভাপতি রেজাউল ইসলাম মিলন বলেন, জেলা পর্যায়ে যে কোনো ব্যবসা শুরুর জন্য জেলা চেম্বার অব কমার্স থেকে অনুমতি নেওয়ার বিধান রাখা দরকার/ তিনি রংপুরে একটি ‘বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল’ স্থাপনের দাবি জানান।

খুলনা চেম্বারের সভাপতি কাজী আমিনুল হক বলেন, রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে স্থানীয় চেম্বারগুলোকে সম্পৃক্ত করা হলে সরকারের রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি পাবে। রাজস্ব আদায় প্রক্রিয়ায় হয়রানি বন্ধ করতে হবে। একই করদাতাকে বারবার চাপ না দিয়ে করের আওতা বাড়াতে হবে।

কাউন্সিল অব চেম্বার প্রেসিডেন্টস’র সভাপতি ও এফবিসিসিআই জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন। তিনি বলেন, পূর্বাচলে সরকারের দেওয়া এক একর জমির ওপর ‘এফবিসিসিআই আইকন’ ভবন নির্মাণ করা হবে; যেখান থেকে আগামী দিনে এফবিসিসিআই দেশের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের নেতৃত্ব দেবে।

সভায় উপস্থিত বিভিন্ন চেম্বার সভাপতিরা

খুলনা চেম্বারের সভাপতি কাজী আমিনুল হক, চট্টগ্রাম উইমেন চেম্বারের সভাপতি মনোয়ারা হাকিম আলী, ঢাকা উইমেন চেম্বারের সভাপতি নাজ ফারহানা, গাজীপুর চেম্বারের সভাপতি আনোয়ার সাদাত সরকার, জামালপুর চেম্বারের সভাপতি রেজাউল করিম রেজনু, বরিশাল চেম্বারের প্রতিনিধি সুজীব রঞ্জন দাস, নারায়নগঞ্জ চেম্বারের প্রতিনিধি বজলুর রহমান, মুন্সীগঞ্জ চেম্বারের প্রতিনিধি কোহিনুর ইসলাম, সিলেট চেম্বারের প্রতিনিধি সালাহউদ্দিন আলী আহমেদ, মানিকগঞ্জ চেম্বারের প্রতিনিধি তাবারাকুল তোসাদ্দেক হোসেন খান টিটু, চট্টগ্রাম চেম্বারের প্রতিনিধি এম সলিমুল্লাহ এবং জয়পুরহাট চেম্বারের প্রতিনিধি মাহাবুব উদ্দিন।

 এছাড়া সাভায় শরিয়তপুর চেম্বারের সভাপতি এ কে এম ইসমাইল হক, কক্সবাজার চেম্বারের সভাপতি আবু মোরশেদ চৌধুরী, ঢাকা চেম্বারের প্রতিনিধি মনোরঞ্জন ভক্ত, সিলেট উইমেন চেম্বারের সভাপতি স্বর্ণলতা রায়,  ফরেন ইনভেস্টর চেম্বারের সভাপতি শেহজাদ মুনিম, রাজশাহী উইমেন চেম্বারের প্রতিনিধি আবিদা জেসমিন, গোপালগঞ্জ চেম্বারের সভাপতি কাজী জিন্নাত আলী, রাজশাহী চেম্বারের সভাপতি মনিরুজ্জামান, দিনাজপুর চেম্বারের সভাপতি সুজাউর রব চৌধুরী, রংপুর মেট্রোপলিটন চেম্বারের সভাপতি রেজাউল ইসলাম মিলন, ঢাকা মেট্রোপলিটন চেম্বারের প্রতিনিধি গোলাম মঈনুদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, নেত্রকোনা চেম্বারের সভাপতি আব্দুল ওয়াহেদ, লক্ষীপুর চেম্বারের প্রতিনিধি দেওয়ান সুলতান আহমেদ, রাঙ্গামাটি চেম্বারের সভাপতি বেলায়েত হোসেন ভুইয়া, কিশোরগঞ্জ চেম্বারের সভাপতি মজিবুর রহমান বেলাল, রংপুর উইমেন চেম্বার প্রতিনিধি শাহনাজ পারভীন, লালমনিরহাট চেম্বারের সভাপতি আলহাজ্ব এ কে এম কামরুল হাসান বকুল, ব্রাক্ষনবাড়িয়া চেম্বারের সভাপতি আজিজুল হক, নড়াইল চেম্বারের সভাপতি হাসানুজ্জামান, নরসিংদী চেম্বারের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন, নওঁগা চেম্বারের সভাপতি ইকবাল শাহরিয়ার, ভোলা চেম্বারের সভাপতি আব্দুল মমিন টুলু, চাপাইনবাবগঞ্জ চেম্বারের সভাপতি ইরফান আলী এবং কুড়িগ্রাম চেম্বারের সভাপতি চৌধুরী শফিকুল ইসলাম।

Ads