গরু জব্দ নিয়ে সংঘর্ষ, বিজিবির গুলিতে নিহত ৩

  • ১৩-ফেব্রুয়ারী-২০১৯ ০৭:১০ পূর্বাহ্ণ
Ads

ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সঙ্গে গ্রামবাসীর সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনজন নিহত হয়েছেন। এ সময় অন্তত ২০ জন আহত হন। আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার বেতনা সীমান্ত এলাকার বহরমপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

বিজিবির দাবি, নিহত ব্যক্তিরা গরু চোরাচালানকারী দলের সদস্য।

নিহত ব্যক্তিরা হলেন হরিপুর উপজেলার রুহিয়া গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে নবাব উদ্দিন (৩৫), একই গ্রামের জহিরউদ্দিনের ছেলে সাদেক (৪৫) ও বহরমপুর গ্রামের নূরল ইসলামের ছেলে জয়নুল (১২)।

গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দার ভাষ্য, প্রতি সপ্তাহের মঙ্গলবার হরিপুর উপজেলার যাদুরানী হাট বসে। হাটটি গবাদিপশু বিক্রির জন্য প্রসিদ্ধ। স্থানীয় বহরমপুর গ্রামের হবিবর রহমানসহ কয়েকজন গ্রামবাসী ওই হাটে বিক্রির জন্য গরু নিয়ে যাচ্ছিলেন। সে সময় বিজিবির বেতনা ক্যাম্পের সদস্যরা গরুগুলো ভারত থেকে চোরাচালান করে আনা দাবি করে সেগুলো জব্দ করেন। এ নিয়ে বিজিবির সদস্যদের সঙ্গে গ্রামবাসীর বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। সংঘর্ষের একপর্যায়ে বিজিবি গুলি ছুড়তে শুরু করে। এতে ঘটনাস্থলে দুজন নিহত হন। হাসপাতালে নেওয়ার পথে আরও একজনের মৃত্যু হয়।

এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও ৫০ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তুহিন মোহাম্মদ মাসুদের ভাষ্য, চোরাচালান করা চারটি গরু জব্দ করে বিজিবির সদস্যরা যখন ক্যাম্পের দিকে ফিরছিলেন, তখন চোরাকারবারিরা তাঁদের উপর হামলা চালায়। বিজিবির সদস্যরা আত্মরক্ষার্থে গুলি চালাতে বাধ্য হন। হতাহত ব্যক্তিরা সবাই গরু চোরাচালানকারী দলের সদস্য বলে তিনি দাবি করেন।

বহরমপুর গ্রামের গরু ব্যবসায়ী হবিবর রহমানের দাবি, তিনি সপ্তাহ দুয়েক আগে স্থানীয় নেকমরদহাট থেকে নিলামের মাধ্যমে দুটি গরু কিনেছিলেন। গরু কেনার পক্ষে তাঁর কাগজপত্রও আছে।

গুলিবিদ্ধ অন্য লোকজনকে উদ্ধার করে প্রথমে হরিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান স্থানীয়রা। সেখানে তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁদের অন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়।

হরিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আব্দুস সামাদ বলেন, প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে গুলিবিদ্ধ ১৪ জনকে দিনাজপুর ও রংপুরে পাঠানো হয়। এর মধ্যে গুলিবিদ্ধ ১৩ জন দিনাজপুর আবদুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

হরিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এম জে আরিফ বেগ বিজিবির গুলিতে হতাহতের কথা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

Ads
Ads