'বিএনপি জামায়াতকে ছাড়তে চায় না, জামায়াতই বিএনপিকে ছেড়ে চলে যাচ্ছে'

  • ১৩-ফেব্রুয়ারী-২০১৯ ০৩:৪৩ পূর্বাহ্ণ
Ads

:: ভোরের পাতা ডেস্ক ::

বিএনপি জামায়াতকে ছাড়তে চায় না, জামায়াতই বিএনপিকে ছেড়ে চলে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

মঙ্গলবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ের নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তথ্যমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিএনপি জামায়াত থেকে আলাদা হয়ে যাচ্ছে গণমাধ্যমে এমন খবর প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু ভেতরের খবর হলো জামায়াত বিএনপিকে ছেড়ে চলে যাচ্ছে। অর্থাৎ বিএনপি জামায়াতকে ছাড়তে চায় না।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি যদি ঘোষণা দিয়ে বলে, আমরা ২০ বছর ধরে যুদ্ধাপরাধী জামায়াতের সঙ্গে সংসার করেছি। এটা আমরা ভুল করেছি। আমাদের এখন উপলব্দি হয়েছে, তাই যুদ্ধাপরাধী দল জামায়াতের সঙ্গে আর থাকব না। এ ঘোষণা দিয়ে যদি বিএনপি জামায়াতকে ত্যাগ করে তাহলে অবশ্যই বিএনপিকে আমরা সধুবাদ জানাব। কিন্তু আমরা দেখলাম আসলে তা নয়; জামায়াতই বিএনপিকে ছেড়ে চলে যাচ্ছে। এখানে বিএনপিকে সাধুবাদ জানানোর কিছু নেই।

হাছান মাহমুদ বলেন, প্রেম যখন খুব গভীর হয় এবং বিভিন্ন জায়গা থেকে বাধাপ্রাপ্ত হয় তখন প্রেমিক-প্রেমিকা নানা কৌশলের আশ্রয় নেয়। এটা তাদের মধ্যে কৌশলও হতে পারে।

তিনি বলেন, যারা চায়নি বাংলাদেশটা হোক তারা বিএনপির সঙ্গে ঐক্য গড়েছে। শুধু তাই নয়; খালেদা জিয়া আইএসআইর কাছ থেকে অর্থ নিয়েছে। বাংলাদেশে বিএনপির সঙ্গে জামায়াতের ঐক্য। আর বাংলাদেশে জামায়াতের কোনো নেতার বিরুদ্ধে আদালত রায় দিলে পাকিস্তানের পার্লামেন্টে তার প্রতিবাদ হয়। অর্থাৎ তাদের যে ঐক্য সেটা তাদের আদর্শিক ঐক্য। তাই তারা আলাদা হওয়ার কথা বলেও প্রকৃত পক্ষে আলাদা হবে না।

ডাকসুর নির্বাচনের বিষয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিএনপি জাতীয় নির্বাচন নিয়ে নানা ধরনের আবদার করে। তাদের ছাত্র সংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলও ডাকসু নির্বাচন নিয়ে নানা ধরনের আবদার শুরু করেছে। ডাকসু সৃষ্টি হওয়ার পর থেকে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী হলে হলে ভোট হয়েছে। এবারও একইভাবে ভোট গ্রহণের জন্য তফসিল ঘোষণা করা হয়। অথচ ছাত্রদল বলছে, হলে হলে নির্বাচন করা যাবে না।’

এদিকে কারান্তরীণ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কেবলমাত্র দোষ স্বীকার করে রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা এবং আদালতে আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে মুক্তি পেতে পারেন বলে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আজ মঙ্গলবার সকালে সংবাদ সম্মেলন করে খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রীই সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করেন। তিনি চাইলেই খালেদা জিয়া মুক্তি পাবেন।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী বলেন, কয়েক দিন আগে সংবাদ সম্মেলন করে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আহ্বান জানিয়েছিলেন খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য। প্রধানমন্ত্রীর খালেদা জিয়া কিংবা কোনো বন্দিকে মুক্তি দেওয়ার এখতিয়ার নেই। খালেদা জিয়াসহ যেকোনো সাজাপ্রাপ্ত বন্দিকে মুক্তি দেওয়ার এখতিয়ার হচ্ছে আদালতের। রিজভী আহমেদ বারবার একই আহ্বান জানিয়ে প্রকৃতপক্ষে আদালতের প্রতি অশ্রদ্ধা জানাচ্ছেন, আইন-আদালতের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করছেন। যেটি সমীচীন নয়। তার কথায় মনে হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীকে প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করতে হবে।

দুর্নীতির মামলায় গত এক বছর ধরে কারাগারে থাকা খালেদা জিয়ার মুক্তির পথ বাতলে দেন হাছান মাহমুদ। তিনি বলেন, বিএনপির পক্ষে রিজভী আহমেদ সংবাদ সম্মেলন করেছেন। তারা খালেদা জিয়ার যদি মুক্তি চান, তাহলে আদালতের আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এগোতে হবে। আর আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে না এগিয়ে তারা যদি অন্য কোনো পথে খালেদা জিয়ার মুক্তি চান, সেটি সম্ভবপর নয়। তাদের কাছে আরেকটি পথ খোলা আছে, সেটি হচ্ছে খালেদা জিয়া তার দোষ স্বীকার করে রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে পারেন। তাহলে রাষ্ট্রপতি ক্ষমা প্রার্থনা করতেও পারেন। পরে তাকে মুক্তি দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন।

হাছান মাহমুদ বলেন, এর বাইরেতো অন্য কোনো সুযোগ নেই। বারবার তারা প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রকৃতপক্ষে আইন-আদালতের প্রতি অশ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছেন, বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করছেন। যেটি সমীচীন নয়। যা দেশের আইনের শাসন, আইন-আদালতকে প্রকৃতপক্ষে আন্ডার মাইন্ড করছেন। এটি অনুচিত, সমীচীন নয়।
 
সংবিধান অনুযায়ী সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সরকারের অনুমোদন নিতে হয়, এ বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রপতি কাউকে ক্ষমা করার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারেন এবং সেটি হয়তো সরকারের অনুমোদন লাগবে। কিন্তু রাষ্ট্রপতি সেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারেন। এখন তারা সেটা করবে, কি করবে না- এই প্রশ্ন এই মুহূর্তে অবান্তর। কারণ, বিএনপির পক্ষ থেকে খালেদা জিয়ার সব দোষ স্বীকার করে মার্জনা প্রার্থনা করবেন কি করবেন না- সেটি প্রথম প্রশ্ন।

Ads
Ads