ইভটিজিং: বিচার না পেয়ে বাবার মৃত্যু!

  • ১১-ফেব্রুয়ারী-২০১৯ ১২:১৯ pm
Ads

:: ভোরের পাতা ডেস্ক ::

গ্রাম্য মাতাব্বরসহ বিভিন্ন জায়গায় গিয়েও মেয়ের ইভটিজিংয়ের কাঙ্ক্ষিত বিচার না পেয়ে কষ্ট আর অভিমানে চিরবিদায় নিলেন এক বাবা। মৃত্যুর আগেও বার বার তার কষ্টের কথা বলে গেছেন স্বজনদের কাছে।

টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার কাঞ্চনপুর ইউনিয়নে বিলপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। বিলপাড়া গ্রামের নিজ বাড়িতে শুক্রবার রাতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মারা যান।

এদিকে এমন মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না স্বজনরা। বার বার মূর্ছা যাচ্ছেন তার স্ত্রী ও মেয়েসহ পরিবারের সদস্যরা। এ ঘটনায় বখাটে সোহেলের কঠোর শাস্তি দাবি করেছেন তারা।

মৃত শাহজাহান মিয়া ওই গ্রামের সংবাদপত্র বিক্রেতা ছিলেন। দুই ছেলে ও দুই মেয়ের জনক তিনি। বড় মেয়ে প্যারা মেডিকেলে পড়ে। ছোট মেয়ে সুমনা বাসাইল জোবেদা-রুবেয়া মহিলা কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী। দুই ছেলের একজন অষ্টম শ্রেণি ও আরেকজন ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে। সংবাদপত্র বিক্রির আয় দিয়েই তার সংসার চলতো।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, কলেজে আসা-যাওয়ার পথে ওই মেয়েকে প্রায়ই রাস্তাঘাটে উত্ত্যক্ত করতো একই এলাকার মাহফুজুর রহমানের বখাটে ছেলে সোহেল মিয়া। প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় সম্প্রতি সোহেল তাকে মারধর করে। বিষয়টি নিয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন মেয়ের বাবা। গ্রাম্য মাতাব্বরসহ বিভিন্ন জায়গায় গিয়েও বিচার পাননি তিনি।

ঘটনাটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে জানানো হয়। মৃত্যুর আগেও বার বার তার কষ্টের কথা বলে গেছেন স্বজনদের কাছে।

গত ৬ ফেব্রুয়ারি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দু’পক্ষকে ডেকে শুনানি করেন। পরে কাঞ্চনপুর ও হাবলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের বিষয়টি সমাধানের দায়িত্ব দেন। এরপর থেকেই মূলত শাহজাহান ভেঙে পড়েন। উপজেলা প্রশাসনের কাছ থেকে বিচার না পেয়ে তিনি বিমর্ষ হয়ে যান। মেয়ের ওপর নির্যাতনের বিচার আর কখনও পাবেন না এমন বদ্ধমূল ধারণা থেকে গত শুক্রবার ভোর রাতে তিনি মারা যান।

নিহতের স্ত্রী অঞ্জু বেগম বলেন, ‘এ ঘটনার পর আমার স্বামী অনেকের কাছেই গেছেন। কিন্তু কোনো বিচার পাননি। তারপর থেকেই তিনি টেনশনে স্ট্রোক করে মারা যান। আমরা এর সঠিক বিচার চাই।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমা মেয়ে যখন কলেজে যেতো ঠিক তখনই ওই ছেলে আমার মেয়ের পেছনে পেছনে যেতো। সব সময়ই আমার মেয়ের খোঁজ খবর নিত।’  

এ ব্যাপারে নিহতের মেয়ে বলেন, ‘ওই ব্যক্তি আমাকে স্কুলে আসা যাওয়ার সময়ই উত্ত্যক্ত করতো। একদিন আমি, আবার বাবা ও আরেকজন ঝালমুড়ি দোকানে গিয়ে ঝালমুড়ি চাচ্ছিলাম। হঠাৎ করেই ওই বখাটে এসে আমাকে চড়-থাপড় মারতে থাকে। একই সাথে আমাকে অনেক খারাপ কথা বলেছিলো। এ ঘটনায় আমিসহ আমার বাবা গ্রামের মাতাব্বর মেম্বরসহ সবাইকে বলেছি, কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। আমি কোনো বিচারই পাইনি। আমার আব্বু অসুস্থ থাকার সত্ত্বেও তিনি সবার পেছনে পেছনে ঘুরেছেন। বরং আমার বাবা বিচার না পেয়েই আমারদেরকে ছেড়ে চলে গেছেন। আমার জন্যই চিন্তা করতে করতেই আমার আব্বুর মৃত্যু হয়েছে।’

এ সময় নিহতের মেয়ে কান্না করতে করতে বলেন, ‘আমি না খাইলে আমারে জোর করে কেডা খাওয়াইয়া দিবো, আমারে কেডা মশারি টানাইয়া দিবো। আমি এর সর্বোচ্চ বিচার চাই।’ 

এদিকে ওই ছাত্রীকে শারীরিক নির্যাতনের কথা স্বীকার করেছে বখাটে সোহেল মিয়া।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামছুন নাহার স্বপ্না বলেন, ঘটনাটিকে দুঃখজনক। এ ঘটনায় জড়িতকে আইনের আওতায় আনা হবে। পরিবারটিকে ন্যায্যবিচার নিশ্চিতে সব ধরেনের চেষ্টা করা হবে।

 

 

/কে 

Ads
Ads