খালেদা জিয়াকে টেনেহিঁচড়ে জবরদস্তি করে আদালতে আনা হচ্ছে: রিজভী

  • ১১-ফেব্রুয়ারী-২০১৯ ০১:৪৯ পূর্বাহ্ণ
Ads

 

:: ভোরের পাতা ডেস্ক ::

দীর্ঘ এক বছর ধরে কারাবন্দী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে টেনেহিঁচড়ে জবরদস্তি করে আদালতে আনা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনি দেয়ালের ভাষা পড়ুন। চারদিকের মানুষ চোখেমুখে কি বলছে বোঝার চেষ্টা করুন। পৃথিবীটা ক্ষণিকের। কিন্তু কর্মফল অনন্তকালের। এখনো সময় আছে। এক বছরে খালেদা জিয়াকে বহু নির্যাতন ও কষ্ট দিয়েছেন। এবার তাকে মুক্তি দিন।

রোববার (১০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, খালেদা জিয়ার বয়স ৭৩ বছর। প্রচণ্ড ঝুঁকিপূর্ণ অসুস্থ শরীর। একা চলতেপারেন না। তারপরও টেনে হিঁচড়ে জবরদস্তি করে আনা হচ্ছে ‘ক্যাঙ্গারু’ কোর্টে। স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে থাকলেও তিলেতিলে শেষ করে দেওয়ার জিঘাংসা চরিতার্থ করে চলেছে সরকার।

তিনি বলেন, সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে খালেদা জিয়া ছাড়াও শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের অনেক নেতার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা হয়েছিল। কিন্তু খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের মামলাগুলো সচল রাখা হয়েছে। শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে। আর শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে এক এগারোর সরকার ১৫টি মামলা করেছিল। তিনি যখন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তখন তার মাথার উপর ১৫টি দুর্নীতির মামলা ছিল। কিন্তু সেগুলোকে আদালতের মাধ্যমে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। আর খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের মামলাগুলোকে চলমান রেখে এখন সাজা দেওয়া হচ্ছে। মূল উদ্দেশ্য তাদের রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে রাখা।

রিজভী বলেন, খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি ও সারাদেশে বিএনপির বন্দী নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবিতে শনিবার কেন্দ্র ঘোষিত শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ কর্মসূচিতে দেশের বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ বাধা দিয়েছে। ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও বরিশাল মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আফরোজা খানম নাসরিনকে কর্মসূচি থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এছাড়া নারায়ণগঞ্জের প্রতিবাদ কর্মসূচিতে পুলিশ বাধা দিয়ে অনুষ্ঠান পণ্ড করে দেয়।

চট্টগ্রামের কর্মসূচিতে নসিমন ভবনের সামনে অনুষ্ঠিত সমাবেশে পুলিশ বাধা দিয়েছে। হবিগঞ্জ ও জয়পুরহাটে প্রতিবাদ মিছিল বের হলে পুলিশ ব্যাপকভাবে বাধা দিয়ে তা পণ্ড করে দেয়। তারপরও পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে বিভিন্ন জেলায় প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সহ-দফতর সম্পাদক মো. মুনির হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Ads
Ads