ভেজাল প্যারাসিটামল: ২৬ বছর পর রায়, এক বছরের কারাদণ্ড!

  • ৭-ফেব্রুয়ারী-২০১৯ ০৮:১৯ pm
Ads

:: ভোরের পাতা ডেস্ক ::

ভেজাল প্যারাসিটামল খেয়ে ৭৬ শিশু মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলায় এক আসামিকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আর বাকি আসামিদের খালাস দেওয়া হয়েছে।

২৬ বছর আগের করা মামলার এই রায় বৃহস্পতিবার দেওয়া হলো। ঢাকার ড্রাগ আদালতের বিচারক সৈয়দ কামাল হোসেন এ রায় ঘোষণা করেন।

এক বছরের কারাদণ্ড পাওয়া আসামি হলেন- বর্তমানে বিলুপ্ত পলিক্যাম ল্যাবরেটরিজ লিমিটেডের পরিচালক আবদুর রব। কারাদণ্ডের পাশাপাশি তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার টাকা দিতে না পারলে তাকে আরও তিন মাস জেল খাটতে হবে। আবদুর রব এ মামলায় এতদিন জামিনে ছিলেন। রায়ের পর আপিল করার শর্তে তাকে আবারও জামিন দেওয়া হয়েছে।

খালাস পাওয়া বাকি তিন আসামি হলেন- পলিক্যাম ল্যাবরেটরিজের ব্যবস্থাপক এ এম এম গোলাম কাদের, ফার্মাসিস্ট মো. মাহবুবুল আলম এবং দেলোয়ার হোসেন।

এ মামলার আরেক আসামি পলিক্যামের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হারুনুর রশিদ রায়ের আগে মারা যান। তাই তার নাম মামলা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

আসামিক্ষে এ মামলার শুনানি করেন আইনজীবী আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়া। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. নাদিম মিয়া।আদালতে উপস্থিত নাদিম মিয়া সাংবাদিকদের বলেন, তারা এই রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করবেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ১৯৮২ থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত কিডনি অকেজো হয়ে ৭৬ শিশুর মৃত্যু হয়। বিষয়টি সে সময় ব্যাপক আলোড়ন তোলে। শিশু মৃত্যুর ঘটনায় প্যারাসিটামল সিরাপ নিয়ে অভিযোগ করেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। তারা জানান, ভেজাল প্যারাসিটামল খেয়ে এসব মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।

পরে তদন্ত ও ল্যাব পরীক্ষায় ধরা পড়ে, পলিক্যাম ল্যাবরেটরিজসহ পাঁচ কোম্পানির তৈরি প্যারাসিটামল সিরাপে বিষাক্ত পদার্থ ডাই-ইথিলিন গ্লাইকলের উপস্থিতি।

এরপর ১৯৯৩ সালের জানুয়ারিতে পলিক্যামের পরিচালক আবদুর রবসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর। কিন্তু আসামিরা হাইকোর্টে গেলে মামলার কার্যক্রম স্থগিত হয়ে যায়। দীর্ঘ দিন স্থগিত থাকার পর ২০১৫ সালে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে এ মামলার বিচার শুরু হয়। শেষপর্যন্ত মামলার রায় দেওয়া হলো।

Ads
Ads