মুক্তিযোদ্ধা সেজে জামায়াত-বিএনপির পৃষ্ঠপোষক দেওয়ান হানজালা

  • ৫-ফেব্রুয়ারী-২০১৯ ০২:০২ pm
Ads

ভোরের পাতা ডেস্ক

মুক্তিযোদ্ধাদের সীমাহীন ত্যাগের বিনিময়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল। তাই আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মুক্তিযোদ্ধাদের সঠিক মূল্যায়ন করা হয়েছে। বিশেষ করে টানা দশ বছর ক্ষমতায় থাকায় মুক্তিযোদ্ধাদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা প্রদান করছে বর্তমান সরকার। কিন্তু ওই সুযোগকে কাজে লাগানোর জন্য ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সেজেছেন শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী দেওয়ান মো. হানজালা। শুধু তাই নয়, তিনি নিজে সুবিধা ভোগের পাশাপাশি বিএনপি-জামায়াত নেতাদেরও সুবিধা প্রদান করে যাচ্ছেন,এমন অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।


জানা গেছে, ১৯৮১ সালে সহকারী প্রকৌশলী পদে চাকরিতে যোগদান করেন দেওয়ান মো. হানজালা। চাকরিতে যোগদানের সময় নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা দাবি না করলেও ২০০৮ সালের নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে তিনি মুক্তিযোদ্ধা সেজে যান। এমনকি ২০১১ সালে সুকৌশলে মুক্তিযোদ্ধার সনদও তৈরী করেন তিনি।


এরপর থেকে বেপরোয়া হয়ে উঠেন হানজালা। শুরু করেন বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও জালিয়াতি। ২০১৫ সালের আগস্ট মাসে নিয়মিতচাকরির মেয়াদ শেষ হলেও জালিয়াতির মাধ্যমে তিনি ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার সনদ দিয়ে তিনি চাকুরীর মেয়াদ আরো এক বছর বৃদ্ধি করিয়ে নেন। পরবর্তীতে একই পদ্ধতিতে একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে তিনি দুই বছরের জন্য তিনি চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়ে যান।


এসব সুবিধাভোগ করেই ক্ষ্যান্তহননি তিনি। বরং কাউকে তোয়াক্কা না করেই চিহিৃত বিএনপি-জামায়াত নেতাদেরও সুবিধা প্রদান শুরু করেন। সর্বশেষ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের ৪৫ কোটি ২৪ লাখ ১৬ হাজার ৩৬৭ টাকার নির্মাণ কাজ দিয়েছেন ‘দি বিল্ডার্স ইঞ্জিনিয়াস’ নামের একটি ঠিকাদারিপ্রতিষ্ঠানকে। কিন্তু ওই প্রতিষ্ঠানের স্বত্ত্বাধিকারী হলেন ঢাকা কলেজের সাবেক ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ও যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা জুলফিকার ভূট্ট।


শুধু তাই নয়, তার সহযোগী বিএনপিপন্থী নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার আবুল হাসেমসহ অন্যান্য সহকর্মীদের মাধ্যমে ফাইল আটকিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেন সেই ভুয়া মুক্তিযুদ্ধা হানজালা। তার এমন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে একাধিকার গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও অদৃশ্য ক্ষমতার দাপটে বেঁচে যান তিনি। এমনকি স্বয়ং মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রীও তাকে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে চিহিৃত করার পরও বিষয়টির এখনো কোনো সুরাহা হয়নি।


এদিকে, হানজালার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ সরকারিবিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগপত্র জমা দেয়া হয়েছে। কিন্তু আজও পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এমনকি শিক্ষা অধিদপ্তরের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে সেই ব্যক্তিকে হয়রানি করেন হানজালা। উল্টো ওই ব্যক্তিকেঅভিযুক্ত করে বদলি, শোকজ ও বরখাস্ত করেন তিনি।


এসব অভিযোগের ব্যাপারে জানতে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী দেওয়ান মো. হানজালার সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করা হয়। এক পর্যায়ে মোবাইলে এসএমএস’র করা হলেও তিনি কোনো উত্তর দেন নাই। তবে অভিযুক্ত হানজালা তার সিন্ডিকেটের লোকজন ও নিজ দপ্তর ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের ফোন ছাড়া অন্য কারো ফোন তিনি রিসিভ করেন না বলে জানিয়েছে হানজালার ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র।

Ads