বই মেলায় সাড়া ফেলেছে অধ্যাপক ড. আসাদুজ্জামান চৌধুরীর বই 

  • ৬-ফেব্রুয়ারী-২০১৯ ০১:০৬ পূর্বাহ্ণ
Ads

নিজস্ব প্রতিবেদক 
মানুষ তার স্বপ্নের সমান কিংবা তার স্বপ্নের চেয়েও বড়। স্বপ্ন কখনো হয় কল্পনা, আবার কখনো হয় ভাবনা। তবে সবকিছু ছাড়িয়ে যখন চিন্তাশীলতা মানুষকে লিখতে শেখায় তখন জীবনবোধের মধ্য দিয়ে লেখক সত্তার প্রকাশ ঘটে। ভাবনাগুলো যদি হয় বহুমাত্রিক তবে তা নানাভাবে মানুষকে প্রভাবিত করে। ভাবনা থেকে ভাবনা সৃষ্টি হয়ে তা বাস্তবতার পদচিহ্ন এঁকে দেয়। সেটি তখন সময় আর মানুষকে কালো অক্ষরের রহস্যের ভিতর দিয়ে অজানাকে জানতে শেখায়। একজন লেখক কাঁচের আয়নার মতো নয় বরং একজন লেখক সমাজের দর্পন। তাঁর লেখার নান্দনিক ভাবনা মানুষ, সমাজ, প্রকৃতি, সৃজনশীলতা, দেশ, স্বাধীনতা, বিজ্ঞান, দর্শন, সাহিত্য, মনোবিজ্ঞান, রাষ্ট্রনীতি, রাজনীতি, অর্থনীতি, গবেষণা, শিক্ষা যে কোনো ধরণের হতে পারে। যে লেখাগুলোর অক্ষর মানুষকে আলোড়িত করে, শিহরিত করে। ঘুমন্ত সত্তাকে জাগ্রত করে। সৃজনশীল মানসিকতা তিলে তিলে গড়ে তুলতে সাহায্য করে। মানুষের চোখ খুলে যায়, আর তাকিয়ে দেখে পৃথিবী কত উদার আর চিন্তাশীল হতে পারে।

প্রতিটি লেখকের লেখার একটি নিজেস্ব বৈশিষ্ট্য থাকে। “সময়ের নান্দনিক ভাবনা” বইটির ছত্রে ছত্রে সেটির প্রতিফলন দেখা যায়। প্রযুক্তিকে কিভাবে ব্যবহার করে শিল্পায়নে রূপান্তর করা যায়, তরুণদের কিভাবে অনুপ্রাণিত করে উদ্যোক্তা তৈরী করা যায়, বিজ্ঞান কিভাবে একটি দেশকে পরিবর্তন করতে পারে এর সবকিছুই বইটির বিভিন্ন লেখায় প্রতিফলিত হয়েছে। শিক্ষা কিভাবে সহজবোধ্য ও আনন্দের উপসর্গ হতে পারে, অর্থনীতি, রাজনীতি, দর্শন ও মনস্তত্ত¡ কিভাবে একত্রিত হয়ে মানুষের জীবনকে প্রভাবিত করতে পারে তার বিভিন্ন দিক বইটিতে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। স্বাধীনতা, দেশপ্রেম, জীবনবোধ, সামাজিক সচেতনতা, প্রকৃতি মানুষকে কিভাবে প্রভাবিত করে জীবনকে বদলে ফেলতে পারে তার একটি চিরন্তন প্রকাশ বইটির বিভিন্ন লেখায় দেখতে পাওয়া যায়।

লেখক মানুষের মনের ভিতরে প্রবেশ করে ভিতর ও বাইরের বহুমাত্রিক ভাবনাকে তার লেখায় প্রকাশ করেছেন। “মানুষের জল ছবি” আর “অখন্ডিত মানুষ” কাব্য গ্রন্থ দুটিতে মানুষ, প্রকৃতি, কল্পনা, স্বপ্ন, জীবন, দেশপ্রেম, মান, অভিমান, আনন্দ, বেদনা এক অলৌকিক সৃষ্টিশীলতায় পুলকিত হয়ে উঠেছে । মানুষের ভিতর আর বাহির কবিতার ছত্রে ছত্রে প্রকাশিত হয়েছে । গভীর অন্তদৃষ্টি নিয়ে কবির কবিতা দেশ, কাল, পাত্র ছাড়িয়ে এক মহাকাব্যিক জাদুকরী শক্তিতে পরিণত হয়েছে । কবির মতো করে এভাবে মানুষকে কেউ হয়তো আর আবিষ্কার করেনি । কবি সত্যকে দেখেছেন যেন খুব কাছ থেকে । মানুষকে চিনেছেন । জেনেছেন । কিন্তু তারপরও কোথায় যেন অসমাপ্ত উপসংহার থেকে গেছে বিশ্বাস অবিশ্বাসের জনপদে । কবিতাগুলো যে পাঠকই পড়বে তার মনে হবে তার জীবন থেকে নিংড়ে আনা হয়েছে জীবন সত্যের এক কঠিন টান পোড়েনকে ।

সৃজনশীল ও বহুমাত্রিক ভাবনাকে প্রাধান্য দিয়ে গুলি প্রকাশে ইত্যাদি গ্রন্থ প্রকাশনী, পার্ল পাবলিকেশন ও তা¤্রলিপি প্রকাশনী এগিয়ে আসায় লেখক তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞ। ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুর-এর প্রতি লেখক তাঁর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছেন। কারণ এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বসে লেখক শিক্ষাদানের পাশাপাশি তাঁর লেখক সত্ত¡াকে জাগ্রত রাখতে পেরেছেন। আশা করা যাচ্ছে বইটি সকল শ্রেণীর পাঠককে আকৃষ্ট করতে সক্ষম হবে।

অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান চৌধুরী ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুর এ দীর্ঘদিন যাবত শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত আছেন। শিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে তিনি যেমন অবদান রেখে চলেছেন তেমনি সৃষ্টিশীল লেখার ক্ষেত্রেও তাঁর পদচারণা। তিনি একাধারে শিক্ষাবিদ, গবেষক, গল্পকার, প্রাবন্ধিক, কবি, গীতিকার, নাট্যকার, সমাজ সংস্কারক ও সাংস্কৃতিক কর্মী। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দর্শনে বিশ্বাসী এই মানুষটির ছোটবেলা থেকেই লেখায় হাতেখড়ি। কৈশোর ও তারুণ্যে তিনি বাংলা একাডেমি, খেলাঘর, কঁচিকাচার মেলা সহ বিভিন্ন সংগঠনে কাজ করেছেন।

এই সময় তাঁর প্রবন্ধ, কবিতা বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। প্রকৌশল বিদ্যা অধ্যায়নের সময় তিনি প্রগতিশীল কর্মী হিসেবে কাজ করে সাহিত্য চর্চা করে গেছেন। এছাড়াও অনেকদিন ধরেই তিনি দেশ ও বিদেশের বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকা ও ম্যাগাজিনে লিখে চলেছেন। বাংলা ও ইংরেজি দুই সাহিত্যেই তাঁর সমান দক্ষতা রয়েছে। সমাজ, রাষ্ট্র, প্রকৃতি, বিজ্ঞান, শিক্ষা, পরিবর্তন, সম্ভাবনা ও মানুষ তাঁর লেখার মূল উপজীব্য বিষয়।

Ads
Ads