নিরবেই যে মহৎ কাজটি করে যাচ্ছে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগ

  • ৩-ফেব্রুয়ারী-২০১৯ ০২:২০ am
Ads

সিনিয়র প্রতিবেদক
কোটি মানুষের ঢাকায় দম ফেলার ফুরসৎ নেই, কে রাখে কার খবর? যেখানে পাশের ফ্ল্যাটে কেউ অসুস্থ হলে জানে না তার প্রতিবেশী! কিন্তু ইট পাথরের ব্যস্ত এ নগরে ছিন্নমূল দরিদ্র মানুষের মুখে বিনামূল্যে একবেলা খাবার তুলে দিচ্ছে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগ।

স্বেচ্ছাসেবক দক্ষিণ যুবলীগের সহ-সম্পাদক রবিউল জানান, আমরা ঢাকা দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট ভাইয়ের নির্দেশে প্রতিদিন খাবার বিতরণ করি। এখানে সবাই স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করি। সম্রাট ভাইয়ের এ মহৎ উদ্যোগে আমরা দায়িত্ব পালন করতে পেরে অনেক খুশি। ছিন্নমূল মানুষের মধ্যে খাবার বিতরণ থেকে শুরু করে পানি খাওয়ানো, থালা বাসন ধোয়া সবই আমরা করি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, যুবলীগ কর্মী আব্দুল মান্নান সর্দার, নেতা শেখ ফরহাদ রাজু, সাখাওয়াত হোসেন , হালিম, দিদার, মনির, বাবুলরা সন্ধ্যা থেকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত টানা কাজ করছিল।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট জানান, তারা গত ১ বছর ধরে ১৫’শ ছিন্নমূল দরিদ্র লোককে প্রতিরাতে খাবার খাওয়াচ্ছেন।

সবাইকে পর্যাপ্ত খাবার দেয়া হয় জানিয়ে তিনি বলেন, ছিন্নমূল দরিদ্র মানুষগুলো আমাদের পরিবারের মত। তাই প্রায়ই আমরা নিজ হাতে তাদের খাবার বিতরণ করি। আমি তাদের কষ্ট বুঝি, সেই কষ্ট থেকে মানবিক কারণেই আমি এ কাজটি করে আসছি। তারা তো সবাই অসহায়, তাদের মুখে খাবার তুলে দেয়ার চেয়ে বড় আর কী হতে পারে?

তিনি বলেন, আমরা দলের ১৩১ জন চিন্তা করেছি এ কর্মসূচি সব সময় চালু রাখব। এ কর্মসূচি আমাদের হৃদয়ের মধ্যে আটকে গেছে। আমরা যতদিন দায়িত্বে আছি তাদের খাবার দিয়েই যাব। আমরা যারা নেতৃবৃন্দ আছি সবাই মিলে এ কর্মসূচি নিশ্চয় পালন করে যাবো। সবার প্রচেষ্টা আমরা তাদের মুখে খাবার তুলে দেব।

যুবলীগ নেতা ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট জানান, কাকরাইলের যুবলীগের অফিসের সামনে প্রতিদিন সন্ধ্যার পরই উপস্থিত হতে থাকে শত শত ছিন্নমূল মানুষ। রাত ৮টার মধ্যে পুরো অফিস চত্ত্বর ভরে আশপাশের রাস্তায় গিয়ে ঠেকে ছিন্নমূল দরিদ্র মানুষের সারি সারি লাইন।

সাড়ে ৮টায় শুরু হয় খাবার বিতরণ। প্রতিদিন প্রায় ১৫’শ লোকের খাবার দেয়া হয়। পর্যাপ্ত খাবারের মধ্যে প্রতিদিনই থাকে গরুর মাংস, উন্নত সবজি, ডাল আর চিকন চালের ভাত। সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, কাকরাইলস্থ যুবলীগ অফিসের সামনে সারি সারি ক্ষুধার্ত মানুষের লাইন। অফিসের সামনে সাজানো খাবারের বড় বড় পাতিল। মাংস, ভাত, সবজি, ডালে ভরা পাতিলের পাশেই দাঁড়িয়ে আছে স্বেচ্ছাসেবক।

স্বেচ্ছাসেবকরা রাত সাড়ে ৮টায় একযোগে বলে উঠলেন, আসো আসো খাবার নিতে আসো। শুরু হয় খাবার বিতরণ। প্রতিবন্ধী ও নারী-পুরুষ শিশুরা এক এক করে খাবার নিচ্ছেন। খাবারের পাত্রগুলো তুলনামূলক একটু বড়। পাত্র ভরে ভরে খাবার দেয়া হচ্ছে। নির্ধারিত স্থানে বসে খাবার খাচ্ছে ছিন্নমূল দরিদ্র লোকজন, রয়েছে বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা। কেউ কেউ আবার পর্যাপ্ত খাবার না খেতে পেরে প্যাকেটে ভরে নিয়ে যাচ্ছে।

প্রতিবন্ধী ব্যক্তি রুপচান বিবি জানালেন, তিনি প্রায় ৭ মাস ধরে তার ২ নাতি নিয়ে এখানে রাতের খাবার খেতে আসেন। ছোট দুই নাতি সবুর ও মিলনও বললো, এখানের খাবার অনেক মজা।

অফিসের পাশে বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, প্রায় ১ বছর ধরে সম্রাট ভাই এখানে খাবার বিতরণ করছেন। পর্যাপ্ত খাবার থাকায় প্রায় সময় তারাও সবার সাথে বসে ভাত খান। আশপাশে রাতে ডিউটি করা নাইট গার্ডরাও এখানে রাতের খাবার খায়। রিকশা চালকরা এখানে খাবার খায়।

 

Ads
Ads