ব্রাজিলে খনির বাঁধ ধসে নিহত ৭, নিখোঁজ ২০০

  • ২৬-জানুয়ারী-২০১৯ ০৫:৪৯ অপরাহ্ন
Ads

 

:: সীমানা পেরিয়ে ডেস্ক ::

ব্রাজিলের দক্ষিণাঞ্চলে একটি বাঁধ ধসে পড়ার ঘটনায় কমপক্ষে ৭ জন নিহত হয়েছে। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাঁধ ধসে পড়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত নিখোঁজ রয়েছে আরও প্রায় ২০০ জন।

মাইনাস গেরাইস রাজ্যের ব্রুমানদিনহোর এলাকায় বাঁধ ভেঙে প্রত্যন্ত এলাকায়জুড়ে কাঁদা-মাটি ছড়িয়ে পড়েছে। এতে অনেক ভবন এবং যানবাহন কাঁদা-মাটির নিচে চাপা পড়েছে।

হেলিকপ্টারে করে আটকে পড়া লোকজনকে উদ্ধার করেছে জরুরি বিভাগের কর্মীরা। বাঁধ ধসে পড়ায় নিখোঁজ হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে অধিকাংশই শ্রমিক। তারা বাঁধের কাছে একটি ক্যাফেটেরিয়াতে দুপুরের খাবার খাচ্ছিলেন। ওই ক্যাফেটেরিয়াও কাঁদা-মাটির নিচে চাপা পড়েছে।

ব্রাজিলের একটি বৃহত্তম খনি কোম্পানির ওই বাঁধটি কিভাবে ধসে পড়ল তা এখনও পরিস্কার নয়। ১৯৭৬ সালে নির্মিত বাঁধটি শুক্রবার স্থানীয় সময় দুপুরে ধসে পড়ে। এটি ফেইজাও লোহার আকরিক খনির কাছে অবস্থিত।

আকাশ থেকে তোলা টেলিভিশনে প্রচারিত ছবিতে দেখা গেছে বিস্তৃত এলাকার গাছপালা ও কৃষিক্ষেত ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থ বেশ কিছু বাড়িঘরের ছবিও দেখা গেছে। আবার কোনও কোনও বাড়ি দাঁড়িয়ে থাকলেও ছাদের ওপর কাদার আস্তরণ পড়ে থাকতে দেখা গেছে।  ব্রাজিলের পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থা ইলবামা জানিয়েছে, ধারণা করা হচ্ছে বাঁধ ধসের কারণে লাখ লাখ টন পানি ও কাঁদা ছড়িয়ে পড়েছে।

ফায়ার ব্রিগেডের সদর দফতরের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ৩৯ হাজার মানুষের শহর ব্রুমাদিনহোর আশেপাশের এলাকায় পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি সেবা সংস্থাগুলো উদ্ধার কাজ চালাচ্ছে।

ফায়ার ব্রিগেডের স্থানীয় এক কর্মকর্তা ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেছেন, আমরা যে খবর পাচ্ছি তাতে বেশ কয়েকজনের প্রাণহানি ঘটেছে’। তবে সেই সংখ্যা প্রকাশ করেননি তিনি।

ব্রাজিলের খনি কোম্পানি ভ্যালের তরফ থেকে বাঁধ ধসের কারণ না জানালেও কোম্পানিটির তরফে বলা হয়েছে, কর্মী ও বাসিন্দাদের জীবনের সুরক্ষাকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে তারা। শনিবার ওই এলাকা পরিদর্শনের ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারো। সরকারের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ব্রাজিলের পরিবেশমন্ত্রী রিকার্ডো স্যালেস এরই মধ্যে ঘটনাস্থলের পথে রয়েছেন।

তিন বছর আগে মিনাস জেরাইস প্রদেশের আরেকটি বাঁধ ধসে ১৯ জনের মৃত্যু হয়। ওই বাঁধের মালিকানাতেও ভ্যালের অংশীদারিত্ব ছিলো। বহুজাতিক খনি কোম্পানি বিএইচপি বিলটনের সঙ্গে ভ্যালের যৌথ মালিকানাধীন ওই বাঁধ ধসে স্থানীয় শত শত বাড়িঘর ধ্বংস হয়। কাতারভিত্তিক আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, ২০১৫ সালের সেই ঘটনার তুলনায় শুক্রবারের বাঁধ ধসের ঘটনা আরও বিশাল।

Ads
Ads