রংপুরের কাছে পাত্তাই পেল না চিটাগং

  • ২৬-জানুয়ারী-২০১৯ ০৬:৪৯ পূর্বাহ্ণ
Ads

:: স্পোর্টস ডেস্ক ::

রংপুর রাইডার্সের কাছে পাত্তাই পেল না চিটাগং ভাইকিংস। অ্যালেক্স হেলস ও রাইলি রুশোর জোড়া সেঞ্চুরির ম্যাচে ২৪০ রান তাড়া করতে নেমে ১৬৭ রান করতে সক্ষম হয় চিটাগং ভাইকিংস।

৭২ রানের জয় পায় রংপুর। এই জয়ে ৯ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট অর্জন করল মাশরাফি বিন মুর্তজার নেতৃত্বাধীন রংপুর। ম্যাচে হেরে গেলেও ৮ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষেই রয়েছে চিটাগং।

শুক্রবার চট্টগ্রাম জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে অ্যালেক্স হেলস ও রাইলি রুশোর জোড়া সেঞ্চুরিতে চিটাগং ভাইকিংসের বিপক্ষে ৪ উইকেটে ২৩৯ রানের রেকর্ড গড়ে রংপুর রাইডার্স।

২৪০ রানের পাহাড়সম টার্গেট তাড়া করতে নেমে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৬৭ রান করতে সক্ষম হয় মুশফিকুর রহিমের নেতৃত্বাধীন চিটাগং ভাইকিংস। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৪৮ বলে ছয় চার ও তিন ছক্কায় ৭৮ রান করেন ইয়াসির আলী।

হেলস-রুশোর জোড়া সেঞ্চুরিতে রংপুরের রানের রেকর্ড

অ্যালেক্স হেলস ও রাইলি রুশোর জোড়া সেঞ্চুরিতে চিটাগং ভাইকিংসের বিপক্ষে ৪ উইকেটে ২৩৯ রানের রেকর্ড গড়েছে রংপুর রাইডার্স।

এর আগে ২০১৩ সালের বিপিএলে রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে ৪ উইকেটে সর্বোচ্চ ২১৭ রান সংগ্রহ করে ঢাকা ডায়নামাইটস।

শুক্রবার চট্টগ্রাম জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে টস জিতে রংপুর রাইডার্সকে প্রথমে ব্যাটিংয়ে পাঠায় চিটাগং ভাইকিংস।

প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে আবু জায়েদ রাহীর শিকার হয়ে সাজঘরে ফেরেন ক্রিস গেইল। দলীয় ৬ রানে গেইলের উইকেট হারানো রংপুর, হেলস-রুশোর জোড়া সেঞ্চুরিতে রানের পাহাড় গড়ে।

চিটাগং ভাইকিংসের বিপক্ষে দুর্দান্ত ব্যাটিং করে ৪৭ বলে ১১টি চার ও পাঁচটি ছক্কায় সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন রংপুর রাইডার্সের এই ইংলিশ ওপেনার। শতরান করে সিকান্দার রাজার বলে ক্যাচ তুলে বিদায় নেন হেলস।

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) চলতি ষষ্ঠ আসরে দ্বিতীয় ও তৃতীয় সেঞ্চুরি করেছেন এলেক্স হেলস ও রাইলি রুশো। এর আগে চলতি আসরে প্রথম সেঞ্চুরি করেন রাজশাহী কিংসের ইংলিশ ওপেনার লরি ইভান্স। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের বিপক্ষে ৬২ বলে ৯ চার ও ছয়টি ছক্কায় ১০৪ রানের লড়াকু ইনিংস খেলেন তিনি।

বিপিএলে এ নিয়ে ১৫টি সেঞ্চুরি হলো। সবচেয়ে বেশি ৫টি সেঞ্চুরি করেন ক্রিস গেইল। শুধু তাই নয়, রানের দিক থেকেও সবচেয়ে বড় ইনিংস খেলেন গেইল।

২০১৭ সালে রংপুর রাইডার্সের এই ওপেনার ঢাকা ডায়নামাইটসের বিপক্ষে ৬৯ বলে পাঁচটি চার ও ১৮টি ছক্কার সাহায্যে ১৪৬ রান করে অপরাজিত থাকেন। বিদেশি ব্যাটসম্যানদের মধ্যে বিপিএলে সেঞ্চুরি করেন, ক্রিস গেইল, আহমেদ শেহজাদ, জনসন চার্লস, এভিন লুইস, ডোয়াইন স্মিথ, লরি ইভান্স, অ্যালেক্স হেলস ও রাইলি রুশো।

আটজন বিদেশির পাশাপাশি দেশি ক্রিকেটারদের মধ্যে বিপিএলে সেঞ্চুরি করেন সাব্বির রহমান রুম্মন (১২২), মোহাম্মদ আশরাফুল (১০৩*) ও শাহরিয়ার নাফিস (১০২*)।

শুক্রবার চট্টগ্রাম জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে চিটাগং ভাইকিংসের বিপক্ষে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে দলীয় ৬ রানে ক্রিস গেইলের বিদায়ের পর তিনে ব্যাটিংয়ে নামা রাইলি রুশোকে সঙ্গে নিয়ে ব্যাটিং তাণ্ডব শুরু করেন হেলস।

একের পর এক বাউন্ডারি হাঁকিয়ে দ্বিতীয় উইকেটে ১৭৬ রানের রেকর্ড জুটি গড়েন হেলস ও রুশো। দলীয় ১৮০ রানে হেলসের বিদায়ের পর চারে ব্যাটিংয়ে নেমে আবু জায়েদ রাহীর দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হন এবি ডি ভিলিয়ার্স।

এরপর একের পর এক বাউন্ডারি হাঁকিয়ে বিপিএলের ১৫তম সেঞ্চুরি তুলে নেন রাইলি রুশো। ৫১ বলে আট চার ও ছয় ছক্কায় ১০০ রান করে অপরাজিত থাকেন রুশো।

টার্গেট তাড়া করতে নেমে দলীয় ৩৩ রানে ফেরেন চিটাগংয়ের আফগান ওপেনার মোহাম্মদ শেহজাদ ও সিকান্দার রাজা।

শেহজাদকে বোল্ড করেন ফরহাদ রেজা। তার আগে ১২ বলে ২০ রান করেন তিনি। তিন নম্বর পজিশনে ব্যাটিংয়ে নামা ভাইকিংসের জিম্বাবুয়ান অলরাউন্ডার সিকান্দার রাজাকে একই কায়দায় আউট করেন মাশরাফি বিন মুর্তজা।

৩৩ রানে শেহজাদ-সিকান্দারের উইকেট হারিয়ে কোণঠাসা হয়ে পড়া চিটাগংকে খেলায় ফেরাতে ব্যাটিং তাণ্ডব শুরু করেন অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। ১১ বলে তিন ছক্কায় ২২ রান করা মুশফিক বিভ্রান্ত নাজমুল ইসলাম অপুর অফ স্পিনে।

এরপর ৪ বলে মাত্র ১ রান করে ফেরেন নজিবুল্লাহ জাদরান। ৭৯ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে চিটাগং ভাইকিংস।

৭৯ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে কোণঠাসা হয়ে পড়ে চিটাগং ভাইকিংস। দলের কঠিন পরিস্থিতে ঠাণ্ডা মাথায় ব্যাটিং করছেন ওপেনার ইয়াসীর আলী। পঞ্চম উইকেটে ইয়াসির আলীর সঙ্গে ৪১ রানের জুটি গড়ে আউট হন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। ৩০ বলে ফিফটি পূর্ণ করা ইয়াসির ফেরেন ৪৮ বলে ৭৮ রান করে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

রংপুর রাইডার্স: ২০ ওভারে ১৩৯/৪ (রুশো ১০০*, হেলস ১০০, রাহী ২/৩৫)।

চিটাগং ভাইকিংস: ২০ ওভারে ১৬৭/৮ (ইয়াসির ৭৮; মাশরাফি ৩/৩৪)।

ফল: রংপুর রাইডার্স ৭২ রানে জয়ী।

Ads
Ads