সৈয়দ আশরাফের স্মৃতিচারণে বেদনায় আপ্লুত প্রধানমন্ত্রী

  • ২১-জানুয়ারী-২০১৯ ১১:৫৭ অপরাহ্ন
Ads

:: ভোরের পাতা ডেস্ক ::

মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সৈয়দ আশরাফের স্মৃতিচারণ করে বেদনায় আপ্লুত হয়ে পড়েন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সোমবার (২১ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে শুরু হওয়া ওই বৈঠকে সভাপতির বক্তব্যে সৈয়দ আশরাফের স্মৃতিচারণ করেন প্রধানমন্ত্রী।

এসময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম আজ আমাদের মাঝে নেই, এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। আশরাফকে ছোটবেলা থেকেই আমি চিনি, কামালের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিল। সে ছাত্রলীগ করতো। আমাদের মধ্যে একটা পারিবারিক সম্পর্কের মতোই ছিল।

কাঁদো কাঁদো কণ্ঠে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ তো একটা পরিবারের মতো। সকলের সঙ্গেই আশরাফের আলাদা একটা যোগাযোগ ছিল। ৭৫’র পর ১৯৮০ সালে যখন আমি লন্ডনে যাই, তখন আমাদের একসঙ্গে কাজ করে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও মহিলা আওয়ামী লীগ সংগঠন করার সুযোগ হয়েছিল। তারপরে সে সেখানেই ছিল। রেহানাও ছিল। রেহানার সঙ্গে সব সময় যোগাযোগ রেখেই সে এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে কাজ করতো।

তিনি বলেন, এরপর তাকে আমি বাংলাদেশে নিয়ে আসি। বার বার সে নির্বাচনে জয়লাভ করে। এবারও সে অসুস্থ অবস্থায় তার অবর্তমানে কিশোরগঞ্জবাসী তাকে বিপুল পরিমাণ ভোট দিয়ে নির্বাচিত করে। কিন্তু দুর্ভাগ্য আমাদের, যেদিন আমরা শপথ নিলাম, সেদিন সে মৃত্যুবরণ করে। সে শপখ নিতে পারেনি। কিন্তু গ্যাজেটে তার নাম আসে।

বৈঠকে সাবেক জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের জন্য শোক প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। এরপর সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের বলেন, বৈঠকে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের জন্য রাষ্ট্রপতির ভাষণ অনুমোদন হয়। এছাড়াও আরও সাতটি আলোচ্যসূচি ছিল।

সৈয়দ আশরাফের কর্মজীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে শফিউল বলেন, তিনি গণমানুষের নেতা ছিলেন। তার নির্বাচনী এলাকাসহ সারা দেশে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে তার অবদান ও সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে।

বিশিষ্ট এই নেতার মৃত্যুতে বাংলাদেশ একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও আদর্শবান রাজনীতিককে হারল। মন্ত্রিসভা সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করে তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং তার শোক সন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করে।

উল্লেখ্য, ৬৭ বছর বয়সী আশরাফ ফুসফুস ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে গত ৩ জানুয়ারি থাইল্যান্ডের একটি হাসপাতালে মারা যান। ফুসফুসের ক্যান্সারে ভুগে ৬৮ বছর বয়সেই না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ফুসফুসের ক্যান্সারে ভুগে ৬৮ বছর বয়সেই না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম মুজিবনগর সরকারের উপরাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামের ছেলে সৈয়দ আশরাফ বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে সাড়া দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন এবং আমৃত্যু বঙ্গবন্ধুর আদর্শ লালন করেছেন। আওয়ামী লীগের দুইবারের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আশরাফ কিশোরগঞ্জ-১ আসনে পাঁচবার সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া তিনি বিমান প্রতিমন্ত্রী, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।

Ads
Ads