ফিলিস্তিনের মুসলমানদের পাশে আছে বাংলাদেশ

  • ২২-Dec-২০১৮ ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
Ads

:: নিজস্ব প্রতিবেদক ::

অতীতের মতো ফিলিস্তিনের মুসলমানদের পাশে থাকবে বাংলাদেশ। ফিলিস্তিনের নির্যাতিত জনগণ দীর্ঘদিন ধরে তাদের আবাসভূমি ও আল-কুদস (বায়তুল মুকাদ্দাস) উদ্ধারের জন্য রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে।

তাদের সংগ্রামে দিশেহারা হয়ে ইসরায়েল ফিলিস্তিনের মধ্যে ভাঙন ধরানোর জন্য ফিলিস্তিনের একটি ক্ষুদ্র অংশে সীমিত স্বায়ত্তশাসনের কথা বলে কিছু সংখ্যক নেতাকে বিভ্রান্ত করেছে। তথাকথিত শান্তি আলোচনার সুযোগে তারা একে একে ফিলিস্তিনের প্রকৃত সংগ্রামী নেতাদের হত্যা করে চলছে এবং ফিলিস্তিনের নতুন নতুন এলাকা দখল করে ইহুদি-বসতি সম্প্রসারণ অব্যাহত রেখেছে। এমনকি ফিলিস্তিনে মানবিক ত্রাণসহায়তা পৌঁছাতে পর্যন্ত তারা বাধা দিয়েছে এবং দিয়ে চলেছে।

এ অবস্থায় বাংলাদেশ ফিলিস্তিেনের মুসলমানদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করবে এবং আন্তর্জাতিক ফোরামে এ বিষয়ে নিজেদের অবস্থান জানান দিবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীরর আন্তজার্তিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী। 

শনিবার (২২ ডিসেম্বর) রাজধানীর সিক্সসিজনস হোটেলে রাশিয়াভিত্তিক সংগঠন ইউনাইডেট মুসলিম উম্মাহ ফাউন্ডেশন ও ঢাকাস্থ ফিলিস্তিন দূতাবাসের আয়োজিত এক সেমিনারে এসব কথা বলেন ড. গওহর রিজভী। 

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামের তৃতীয় পবিত্রতম মসজিদ আল-আকসা বা বাইতুল মুকাদ্দাসের গ্রান্ড মুফতি শেখ মুহাম্মদ আহমেদ হোসেন। 

রাশিয়াভিত্তিক সংগঠন ইউনাইডেট মুসলিম উম্মাহ ফাউন্ডেশনের প্রধান সমন্বয়ক ও আইডিয়া মেকার মজুমদার মোহাম্মদ আমিনের সভাপতিত্বে সেমিনারে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের চেয়ারম্যান কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ, ঢাকাস্থ ফিলিস্তিন দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত  ইউসুফ এস ওয়াই রামাদান,  আব্দুল আওয়াল এমপি, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের ভারপ্রাপ্ত খতিব হাফেজ মুফতি মুহিবুল্লাহিল বাকী নদভী, ইউনাইটেড মুসলিম উম্মাহ ফাউন্ডেশনের মহাসচিব ড. কাজী এরতেজা হাসান। 

প্রধান অতিথির বক্তব্যে গওহর রিজভী ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের সঙ্গে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং ফিলিস্তিনের সাবেক রাষ্ট্রপতি ইয়াসির আরাফাতের সঙ্গে সুসম্পর্কের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই জাতিসংঘে ফিলিস্তিনে গণহত্যা বন্ধের জন্য আহ্বান জানিয়েছিলেন। ওআইসি'তে নিয়মিতভাবে বাংলাদেশ ফিলিস্তিনের পক্ষে অবস্থান ব্যক্ত করছে। এ ধারা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি। 

আল-আকসা বা বাইতুল মুকাদ্দাসের গ্রান্ড মুফতি শেখ মুহাম্মদ আহমেদ হোসেন তার বক্তব্যে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের ইতিহাস তুলে ধরেন এবং পবিত্র জেরুজােলেমের গুরুত্ব তুলে ধরেন। শেষ রক্তবিন্দু দিয়েও নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশসহ ইসলামী দেশগুলোর মধ্যে ফিলিস্তিনিদের জন্য যে সমবেদনা রয়েছে তা প্রশংসনীয়। পবিত্র নগরীগুলোকে ইহুদিমুক্ত করতে লড়াইয়ে সবাইকে পাশে চান তিনি। 

স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের চেয়ারম্যান কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, এ সেমিনারে এসে আমি অনেক কিছুই জানতে পেরেছি। আয়োজক সংস্থা ইউনাইটেড মুসলিম উম্মাহ এবং ঢাকাস্থ ফিলিস্তিন দূতাবাসকে ধন্যবাদ জানিয়ে ভবিষ্যতে ফিলিস্তিনের পাশে থাকার অঙ্গিকার ব্যক্ত করেন তিনি। 

ঢাকাস্থ ফিলিস্তিন দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত ইউসুফ এস ওয়াই রামাদান দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান থেকে শুরু করে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের নাগরিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় নায্য দাবি সব সময় তুলে ধরেছেন। এ জন্য বাংলাদেশের কাছে কৃতজ্ঞতা স্বীকার করেন এ রাষ্ট্রদূত। তিনি ফিলিস্তিনের রক্তপাতের ভয়াবহতা তুলে ধরে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় বিশ্বের মুসলিম সম্প্রদায়কে পাশে চান। 

ইউনাইটেড মুসলিম উম্মাহ ফাউন্ডেশনের মহাসচিব ড. কাজী এরতেজা হাসান বলেন, জেরুজালেম বা ফিলিস্তিনের সঙ্গে প্রতিটি মুসলামনের একটা আত্নিক সম্পর্ক রয়েছে। ফিলিস্তিনিরাও বাংলাদেশকে ভালোবাসে। এ কারণেই বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্নজীবনীটি ফিলিস্তিনি ভাষায় অনুবাদ করা হয়েছে। তাদের অধিকার ও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠায় ইউনাইটেড মুসলিম উম্মাহর মাধ্যমে আরো অনেক কাজ করতে চান তিনি। বাংলাদেশের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষায় বিশেষ মোনাজাত করবেন আল আকসা মসজিদের গ্র‌্যান্ড মুফতি শেখ মুহাম্মদ আহমেদ হোসেন বলেও জানান ড. কাজী এরতেজা হাসান।

আগামীকাল রোববার গ্রান্ড মুফতি শেখ আহমেদ হোসেন বাদ মাগরিব বাংলাদেশের শান্তি ও আগামী নির্বাচনে যেন আওয়ামী লীগ আবারো ক্ষমতায় আসতে পারে এই কামানায় বিশেষ দোয়া পরিচালনা করবেন। পাশাপাশি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ধানমিন্ডর ৩২ নম্বর ও টুঙ্গিপাড়ায় মাজারে যাবেন। আজ শনিবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গেও সাক্ষাত করবেন তিনি। এ সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও ফিলিস্তিনের মধ্যে নতুন সম্ভাবনা দ্বার উন্মোচিত হচ্ছে বলেও মনে করেন ড. কাজী এরতেজা হাসান। 

ইউনাইটেড মুসলিম উম্মাহ ফাউন্ডেশনের প্রধান সমন্বয়ক ও আইডিয়া মেকার মজুমদার মোহাম্মদ আমিন বলেন, পৃথিবীর ২ বিলিয়ন মুসলিম যদি ফিলিস্তিনিদের জন্য একাত্নভাবে কাজ করে তাহলেই তাদের মুক্তি মিলবে। এ লক্ষ্যেই কাজ করে যাবে ইউনাইটেড মুসলিম উম্মাহ ফাউন্ডেশন।
 

Ads
Ads