প্রধান বিচারপতির কাছে গিয়ে যা বললেন খালেদার আইনজীবীরা

  • ৯-Sep-২০১৮ ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
Ads

:: ভোরের পাতা ডেস্ক ::

বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার বিচার এবং তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে আলোচনা করতে প্রধান বিচারপতির সাথে দেখা করেছেন খালেদার আইনজীবীরা।

রোববার (০৯ সেপ্টেম্বর) ১ টা ২০ মিনিটে প্রধান বিচারপতির সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের চেম্বারে তার সাথে আলোচনার জন্য যান খালেদা জিয়ার আইনজীবী ব্যারিস্টার জমিরুদ্দিন সরকার, খন্দকার মাহবুব, এ জে মোহাম্মদ আলী, মির নাসির, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি জয়নুল আবেদীন ও সম্পাদক মাহবুব উদ্দিন খোকন।

‘বিচারিক সীমা লঙ্ঘনকারীদের’ বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রধান বিচারপতির কাছে একটি লিখিত আবেদন করেছেন তারা।

প্রধান বিচারপতির কাছে যে লিখিত আবেদন তারা দিয়েছেন, যেখানে মূলত তিনটি যুক্তি তারা তুলে ধরেছেন।

১) খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যগত অবস্থা ভালো না। তিনি গুরুতর অসুস্থ, তিনি হাঁটতে পারেন না। যা সরকারও স্বীকার করেছে। তবুও সরকার তার যথাযথ চিকিৎসার বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নেয়নি।

২) পরিত্যক্ত কারাগারে কোনো বিচার কাজ চলতে পারে না। যদি চলে- তা হবে অবৈধ।

৩) দেশের কারাগারের তালিকা থেকে পরিত্যক্ত ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারটি এখনও বাদ দেওয়া হয়নি- সে কারণে সুপ্রিম কোর্টের অনুমতি ছাড়া পরিত্যক্ত কেন্দ্রীয় কারাগারে আদালত স্থাপন অবৈধ ও আইনগত কর্তৃত্ব বহির্ভূত।

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও খালেদা জিয়ার আইনজীবী জয়নুল আবেদীন সাংবাদিকদের এ ব্যাপারে বলেন, আমরা মনে করেছি দেশের সর্বোচ্চ আদালত ও সংবিধানের অভিভাবক সুপ্রিম কোর্ট। আর সুপ্রিম কোর্টের অভিভাবক হলেন প্রধান বিচারপতি। তাই কারাগারের ভেতরে আদালত স্থাপনের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে আলোচনা না করে এ ধরনের কোনও প্রজ্ঞাপন সরকার জারি করতে পারে না। তাই এ বিষয়ে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাত করে আমরা বলেছি, ‘প্রধান বিচারপতি আপনি বিচার বিভাগের অভিভাবক। আমরা মনে করি, মাসদার হোসেন মামলার মধ্য দিয়ে আপনার সুপ্রিমেসি ও সুপ্রিম কোর্টের সুপ্রিমেসি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাই আপনার সঙ্গে আলোচনা ছাড়া রাতের অন্ধকারে গেজেট করে এ ধরনের আদালত স্থাপন হতে পারে না।’

তিনি জানান, প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা প্রধান বিচারপতি ধৈর্য সহকারে আমাদের বক্তব্য শুনেছেন। তিনি (প্রধান বিচারপতি) তার ক্ষমতাবলে এ বিষয়টি বিবেচনা করার আশ্বাস দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, জিয়া এতিমখানা দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত খালেদা জিয়া গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ঢাকার পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি।

‘অসুস্থতার কারণে’ গত সাত মাসে তাকে একবারও আদালতে হাজির করা সম্ভব না হওয়ায় জিয়া দাতব্য ট্রাস্ট মামলার শুনানি শেষ করতে কারাগারের ভেতরেই আদালত বসিয়ে বিচারের ব্যবস্থা করেছে সরকার।

এর বিরোধিতা করে বিএনপি এই বিচারকে ‘ইন ক্যামেরা ট্রায়াল’ ও ‘সংবিধান পরিপন্থি’ আখ্যায়িত করেছে। বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, তাদের ‘অসুস্থ নেত্রীকে জোর করে’ ওই আদালতে হাজির করা হয়েছে। 

অন্যদিকে বিএনপির অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, প্রজ্ঞাপন দিয়ে কোর্ট যেখানে খুশি হতে পারে, এখানে সংবিধান পরিপন্থি কিছু নেই।

/ই

Ads
Ads